Tuesday, 04 Aug, 1.57 pm আজকাল.in

হোম
হলুদ-গেরুয়ায় সেজেছে অযোধ্যা, ক্ষত ভুলে ভূমিপুজোয় যাবেন ইকবাল, গায়ত্রীরা

আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ রাস্তার দু'‌ধারে সারসার বাড়ি। ছাদে উড়ছে গেরুয়া পতাকা। কোনওটাতে হনুমানের ছবি আঁকা। কোনওটাতে রামচন্দ্রের ছবি আঁকা। কোনও পতাকায় জরির পাড়। কোনওটা আবার ছোট তেকোনা। কোথাও আবার বিশ্ব হিন্দু পরিষদের 'ওঁ' লেখা।
শহরের সমস্ত রাস্তামুখো দেওয়াল, বাড়ির রং এখন একটাই— হলুদ। সেই হলুদে ঢেকেছে ফুটিফাটা, ভাঙাচোড়া, কালো, ময়লা, দুঃস্বপ্ন আর অতীত। শহর জুড়ে এখন হোর্ডিং। কোনওটা ছোট। কোনওটা বড়। অলিতেগলিতে মুখ বাড়িয়ে রয়েছে। উদ্দেশ্য একটাই, প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানানো।
এখন অপেক্ষার ঘণ্টা গুনছে অযোধ্যা। তার পরই শুরু হবে ভূমিপুজো। এক বছর আগেও '‌বিতর্কিত'‌ ছিল। নভেম্বরে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে মীমাংসিত। সেই রাম জন্মভূমিতে ৪০ কেজির রুপোর ইঁট রাখবেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। সূচনা করবেন মন্দির নির্মাণের। সেই উপলক্ষ্যে সেজে উঠেছে গোটা অযোধ্যা নগরী। সোমবার প্রস্তুতি দেখে গেছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ।
করোনা বিধির জন্য কাটছাঁট হয়েছে অতিথি তালিকায়। ৫০ জন ভিভিআইপি অতিথি উপস্থিত থাকবেন অনুষ্ঠানে। মোট অতিথির সংখ্যা ১৭৫। অযোধ্যাবাসী চোখ রাখবেন সিসিটিভি-তে। তবে ইকবাল আনসারি আর গায়ত্রী দেবীর আর একটু ভাগ্যবান। দু'‌জনেই অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্র পেয়েছেন। পাঠিয়েছেন খোদ মন্দির নির্মাণ ট্রাস্টের সভাপতি মহন্ত নৃত্যগোপাল দাস।
আমন্ত্রণপত্রে দুপুর সাড়ে ১২টায় যোগ দিতে বলা হয়েছে। থাকবেন প্রধানমন্ত্রী, সঙ্ঘ প্রধান মোহন ভাগবত, উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, রাজ্যপাল আনন্দীবেন প্যাটেল। পঞ্জিটোলার ছোট্ট ঘরে বসে ইকবাল জানিয়ে দিলেন, তিনি অবশ্যই যাবেন। '‌বিতর্কিত'‌ ভূখণ্ডে কী হবে?‌ মন্দির না মসজিদ?‌ সেই নিয়ে মামলায় অন্যতম আবেদনকারী ছিলেন হাসিম আনসারি এবং ছেলে ইকবাল। চার বছর আগে ৯৬ বছর বয়সে মারা গেছেন হাসিম। মামলাও হেরেছেন আনসারিরা।
তাবলে যাবেন না, একথা ভাবতেই পারেন না ৫৩ বছরের ইকবাল। বললেন, '‌কেন যাব না?‌ খোদ প্রধানমন্ত্রী আসছেন এই অনুষ্ঠানের জন্য। অতীত ভুলে যান। উচ্চ আদালত রায় দিয়ে দিয়েছে। সকলে সেই রায় মেনে নিয়েছেন। এখন এগিয়ে যাওয়ার সময়। বাইরের লোকেরা বুঝবেন না গঙ্গ-যামুনি তেহজিব। এটা উত্তর ভারতের সংস্কৃতি। এখানে হিন্দু আর মুসলিমেরা ভাই ভাই। বিবাদ যাই থেকে থাক, এখানে আমরা একসঙ্গেই বাস করি।'‌
জমি মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে সুপ্রিম রায়ে। কিন্তু ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর বাবরি মসজিদ ভাঙার মামলা চলছে। সেই নিয়ে অবশ্য কোনও মন্তব্য করতে চাননি ইকবাল। শুধু বললেন, '‌অযোধ্যা ধর্মনগরী। আমার বাবা আর আমি জমির অধিকার নিয়ে লড়েছি। কোনও বিশেষ ধর্মের বিরুদ্ধে নয়।'‌
বুধবারের অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন গায়ত্রী দেবীও। রানী বাজারের বাড়িতে বসেই জানিয়ে দিলেন। ১৯৯০ সালে নভেম্বরে তিন দিনে দ্বিতীয়বার বাবরি মসজিদ ভাঙতে যায় করসেবকরা। পুলিশের গুলিতে মারা যান গায়ত্রী দেবীর স্বামী রমেশ পাণ্ডে। পাশের একটা গলিতে পড়ে ছিল পাণ্ডের দেহ।
গায়ত্রীর কথায়, '‌যখনই আমন্ত্রণ পাই, ঠিক করি যাবই। আমার স্বামীর আত্মা শান্তি পাবে। কখনও না ফেরার জন্য তিনি সেখানে গেছিলেন। ঘরে চারটি সন্তান। ছোটটি তখন আমার কোলে। সামান্য পুঁজি। সেই দিয়ে অনেক কষ্টে চার ছেলে-মেয়েকে মানুষ করেছি। খুব কঠিন সময় গেছে। এখন সকলে দাঁড়িয়ে গেছে। বিয়ে করেছে। মাঝেমধ্যে আমার খুব একা লাগে।'‌
গায়ত্রীর দুই ছেলের মধ্যে এক জন, সুভাষ পাণ্ডে মন্দির নির্মাণের '‌কার্যশালা'‌য় কাজ করেন। সেখানে বহু বছর ধরে থাম, কড়িবরগা তৈরি হচ্ছে মন্দিরের। এখন সেখানে রোজ ভিড় জমাচ্ছেন সাংবাদিকরা। এই প্রতিটি থামেই লেখা রয়েছে অযোধ্যার ইতিহাস। কিছু বলা। কিছু না বলা। কিছু ইতিহাস জানানোর দরকার। এই সব স্তম্ভই বুধবার জন্ম দেবে নতুন এক ইতিহাসের।

Dailyhunt
Disclaimer: This story is auto-aggregated by a computer program and has not been created or edited by Dailyhunt. Publisher: Aajkaal
Top