Monday, 03 Aug, 7.14 pm আজকাল.in

বাণিজ্য
রিজার্ভ ব্যাঙ্কের আর্থিক এবং ঋণ নীতির দিকে তাকিয়ে বাজার

আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ টানা চার দিন ধরে অস্থিরতা শেয়ার বাজারে। চলতি সপ্তাহেও পতন অব্যাহত থাকবে, দাবি বিশেষজ্ঞদের। কেন্দ্র এবং রিজার্ভ ব্যাঙ্কের আর্থিক এবং ঋণনীতির দিকেই মূলত তাকিয়ে আছেন লগ্নিকারীরা। সুদ কমবে কিনা, তা নিয়ে অধীর আগ্রহ বিনিয়োগকারীদের। প্রথম ত্রৈমাসিকে দেশের অর্থনীতি ঠিক কোন জায়গায় দাঁড়িয়ে, পাশাপাশি বহু সংস্থার আর্থিক রিপোর্টের অপেক্ষাতেও বসে আছেন অনেকে। দাবি বাজার বিশেষজ্ঞদের। আর যার জেরে সপ্তাহের প্রথম দিনেই সেনসেক্স পড়ল ৬৬৭ পয়েন্ট। নিফটির সূচক কাঁটা ১১,‌০০০ পয়েন্টের নিচে নামল এদিন। করোনা সঙ্কট এবং লকডাউনের জেরে অর্থনৈতিক মন্দাকে বিশেষ গুরুত্ব না দিয়েই মাঝে ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াচ্ছিল দালাল স্ট্রিট। করোনা টিকা নিয়ে আশা বাড়তে থাকায় বিভিন্ন ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থার শেয়ারে পুঁজি ঢালছিলেন বিনিয়োগকারীরা। তাতে বেশ কিছুদিন ধরে উঠেছে সেনসেক্স। পাশাপাশি জুনে লকডাউন শিথিল হয়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বেগ পেতে থাকায় বাড়তি অক্সিজেন পেয়েছিল বাজার। কিন্তু জুলাই-তে ফের কমেছে উত্‍পাদন সূচক। বেশি চাহিদাও তৈরি হচ্ছে না বাজারে। দৈনিক সংক্রমণে প্রত্যেকদিন রেকর্ড গড়ছে দেশ। এছাড়াও অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কা, আর্থিক ব্যবস্থা ঘুরে দাঁড়াতে আরও বেশ কিছুটা সময় লেগে যাতে পারে। সব মিলিয়ে এখনই ঝুঁকি নিতে চাইছেন না বিনিয়োগকারীরা। সরকারি পরিসংখ্যানেও ভয় পাচ্ছেন লগ্নিকারীরা। লকডাউনের জেরে জুনে দেশের আটটি মূল পরিকাঠামো ক্ষেত্রে উত্‍পাদন ১৫% কমেছে। সাম্প্রতিক সরকারি তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে ফের জিএসটি বাবদ সরকারের আয় কমেছে। ওদিকে অতিমারীর কারণে খরচও বেড়েছে সরকারের। যার জেরে টান পড়েছে কোষাগারে। চলতি অর্থবর্ষের প্রথম তিন মাসেই বাজেট ঘাটতি ৮৩.‌২% ছুঁয়েছে।
এদিন রিলায়েন্সের শেয়ারের দর ১.‌৮৬% কমেছে। যার জেরে সেনসেক্সে ১২০ পয়েন্ট কমেছে। ঋণ শোধ স্থগিতের মেয়াদ আদৌ বাড়ানো হবে কিনা, তা নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই শিল্প মহলে বড় আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যার জেরে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রের শেয়ারের দরও কমেছে অনেকটা। বিপুল ক্ষতি হয়েছে কোটাক মাহিন্দ্রা, অ্যাক্সিস, ইন্ডাসআইএনডি এবং বন্ধন ব্যাঙ্কের। তবে বাজার দর বেড়েছে এসবিআই-এর। প্রথম ত্রৈমাসিকে স্টেট ব্যাঙ্কের নিট লাভ ৮১% বেড়ে পৌঁছেছে ৪১৮৯ কোটি টাকায়। আগামী ৬ আগস্ট আরবিআই-এর আর্থিক নীতি সংক্রান্ত বৈঠকের পর সিদ্ধান্ত হবে, রেপো রেট বাড়ানো হবে কিনা। বিশেষজ্ঞদের একাংশের দাবি, মূল্যবৃদ্ধি বাড়তে থাকায় সুদের হার অপরিবর্তিতই রাখবে শীর্ষ ব্যাঙ্ক। সেই আশঙ্কায় ব্যাঙ্কগুলির শেয়ার পড়ছে বাজারে, মত অনেকের। এপ্রিল-জুনে টাটা মোটরসের লোকসান ৮৪৩৮ কোটি টাকায় পৌঁছলেও সংস্থার শেয়ার দর ৮% বেড়ে ১১৩.‌৪০ টাকা হয়েছে। গাড়ির বাজারে চাহিদা সামান্য বাড়ায় অনেক ব্রোকারেজ সংস্থা টাটা মোটরসের শেয়ার কেনার পরামর্শও দিচ্ছেন।

Dailyhunt
Disclaimer: This story is auto-aggregated by a computer program and has not been created or edited by Dailyhunt. Publisher: Aajkaal
Top