উপনির্বাচনের প্রাক্কালে নন্দীগ্রামে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার উন্নয়ন ও প্রকল্প নিয়ে বড় ঘোষণা করেন তিনি। জি রামজি জব কার্ডের অধীনে ১২৫ দিন কাজের সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী।
পাশাপাশি প্রত্যেকটি স্বনির্ভর গোষ্ঠীকে ৩০ হাজার টাকা করে ট্রান্সফারের ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।
সেই সঙ্গে অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়েও উল্লেখযোগ্য ঘোষণা করেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, অন্নপূর্ণা যোজনায় নন্দীগ্রামে ৬৭ হাজার মানুষকে ৩,০০০ টাকা করে দেওয়া হয়েছে। আরও ৫ হাজার আবেদন বর্তমানে যাচাইয়ের মধ্যে রয়েছে। যাচাই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হলে তাঁরাও প্রকল্পের সুবিধা পেয়ে যাবেন বলে জানান তিনি।
অগাস্ট মাসের মাঝামাঝিও অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে বড় আশ্বাস দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেছিলেন, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে তৃণমূলের কারচুপির কারণেই অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য নতুন করে ফর্ম তৈরি করতে হয়েছে বিজেপি সরকারকে।
তখন তিনি আরও জানিয়েছিলেন, মাত্র তিন মাসের সরকারের বিপুল কর্মযজ্ঞে কোনও ভুল থাকলে তা সংশোধন করা হবে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, গত ১৭ অগাস্ট থেকে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা ট্রান্সফার শুরু হয়েছে। মোট ১ কোটি ৪৫ লক্ষ আবেদনকারীর অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
প্রতি মাসের ১ থেকে ১৫ তারিখের মধ্যে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকবে বলেও ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিকে, সম্প্রতি অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে বঞ্চনার অভিযোগে সরব হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, বেছে বেছে সুবিধা দেওয়া হচ্ছে এবং বিজেপি প্রতারণা করছে। এই অভিযোগের পাল্টা পরিসংখ্যান তুলে ধরেন শুভেন্দু অধিকারী।
শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, বাকি যোগ্য উপভোক্তারাও ধীরে ধীরে প্রকল্পের টাকা পেয়ে যাবেন । মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, এখনও পর্যন্ত টাকা পাওয়া উপভোক্তাদের মধ্যে ১৯ লক্ষ ২০ হাজার জন মুসলিম সুবিধাভোগী রয়েছেন।
তাঁর দাবি, প্রকল্পের সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনও নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে বেছে নেওয়া হচ্ছে না।

