তুহিন অধিকারী, বাঁকুড়া: নিম্নচাপের জেরে লাগাতার বৃষ্টি গোটা দক্ষিণবঙ্গে। আর সেই বৃষ্টিতে মাটির দেওয়াল ধসে পড়ে মৃত্যু হল এক বৃদ্ধার। অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেন ওই বৃদ্ধার পুত্র ও পুত্রবধূ। ঘটনাটি ঘটেছে বাঁকুড়ার সোনামুখী থানার কুণ্ডপুষ্করিণী গ্রামে। মৃতার নাম বেলি রুইদাস (৭৬)।
পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বিষ্ণুপুর জেলা হাসপাতালে পাঠিয়েছে।
: ১০ গ্রাম সোনার গয়নার দাম কমেছে ৪ হাজার টাকার মতো, স্বস্তির হাসি মধ্যবিত্তের মুখে
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বাঁকুড়ার সোনামুখী ব্লকের কুণ্ডপুষ্করিণী গ্রামের বাসিন্দা বেলি রুইদাস ছেলে ও পুত্রবধূকে নিয়ে একটি ছোট্ট মাটির বাড়িতে বসবাস করতেন। পরিবারের ছেলে রাজ্যের বাংলার বাড়ি প্রকল্পে পাকা বাড়ি তৈরির জন্য সরকারি ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা পান। কিন্তু সেই টাকায় বাড়ি তৈরির কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। আর সেই কারণেই এই কাজ মাঝপথেই কাজ থমকে যায়।
ফলে চলতি বর্ষাতেও পরিবারটিকে পুরনো মাটির বাড়িতেই থাকতে হচ্ছিল। গতকাল রাতে আচমকাই বাড়ির একটি মাটির দেওয়াল ধসতে শুরু করে। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে বেলি রুইদাসের ছেলে ও পুত্রবধূ দ্রুত বাড়ি খালি করতে শুরু করেন। বাড়ির ভিতরে থাকা বেশ কয়েকটি গরুকেও বাইরে বের করে আনা হয়।
: সীমান্ত এলাকায় রেলের নিরাপত্তা বাড়াতে এবার নতুন কৌশল, রেল লাইনে বসানো হবে আন্ডার ফ্রেম ক্যামেরা
কিন্তু বৃদ্ধা বেলি রুইদাস এবং একটি গরুকে বাড়ির বাইরে বের করে আনার আগেই কাঁচা বাড়ির দেওয়াল ভেঙে পড়ে। ভেঙে পড়া মাটির দেওয়ালের নিচে চাপা পড়ে যান ওই বৃদ্ধা।
পরে স্থানীয় বাসিন্দারা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে বেলি রুইদাসকে উদ্ধার করেন। কিন্তু ততক্ষণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বিষ্ণুপুর জেলা হাসপাতালে পাঠায়। পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বাংলার বাড়ি প্রকল্পে আরও বেশি অর্থ বরাদ্দ হলে পাকা বাড়ির কাজ সম্পূর্ণ করা সম্ভব হতো এবং বৃদ্ধার এমন মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটত না।
Author : সুপ্রিয় ঘোষ

