পার্থপ্রতিম ঘোষ, আবির দত্ত, বারুইপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা : বারুইপুরে নাবালিকাকে ধর্ষণ করে খুনের ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে চারজনকে। তাদের মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে এনকাউন্টারে। পুলিশ সূত্রে দাবি, গতকাল রাতে ঘটনাস্থলে পুনর্নির্মাণের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছিল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলকে। সেই সময় পুলিশের পিস্তল ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা করে সে।
এক রাউন্ড গুলিও চালায় পুলিশকে লক্ষ্য করে। এক এসআই- এর পিস্তল ছিনিয়ে নিয়েছিল অভিযুক্ত, দাবি পুলিশের। এরপর তাকে ধরতে ধাওয়া করে পুলিশ। আত্মরক্ষার্থে গুলিও চালায়। গুলিবিদ্ধ হয় অভিযুক্ত। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।
গতকাল রাত ১২টা ৪৫ মিনিট নাগাদ অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলকে নিয়ে বারুইপুরের সূর্যপুরের সেই ঘটনাস্থলে গিয়েছিল পুলিশ যেখানে নাবালিকাকে নির্যাতন করা হয়েছিল। মূল ঘটনাস্থল থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করার চেষ্টায় ছিলেন তদন্তকারীরা। আচমকাই পালানোর চেষ্টা করে প্রভাস মণ্ডল। ক্ষেতের মধ্যে দিয়ে আল ধরে পালানোর চেষ্টায় ছিল অভিযুক্ত। পাশেই ছিল জলাজমি। জমির চারদিকে ছিল ফেন্সিং অর্থাৎ তার দিয়ে বাঁধা ছিল। অন্ধকারের মধ্যে এখান দিয়েই পালানোর চেষ্টা করেছিল প্রভাস মণ্ডল। পুলিশ সূত্রে খবর, এই ঘটনায় আরও যে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে - আনন্দ সর্দার, দীপঙ্কর সর্দার, কবীর মোল্লা এবং নিহত প্রভাস মণ্ডল - সকলেরই মোবাইল টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করে দেখা গিয়েছে, ঘটনার দিন ওই এলাকাতেই ছিল এই চারজন।
প্রভাসকে লক্ষ্য করে মোট ২ রাউন্ড গুলি পুলিশের, কী ঘটেছিল 'এনকাউন্ডারের' সময় ?
জানা গিয়েছে, বারুইপুরকাণ্ডে সবার প্রথমে গ্রেফতার হয়েছিল এই প্রভাস মণ্ডল। তাকে জেরা করেই বাকিদের হদিশ মেলে। একে একে গ্রেফতার হয় আনন্দ সর্দার, দিবাকর সর্দার এবং সবশেষ কবীর মোল্লা। পুলিশ সূত্রে দাবি, এই আনন্দ সর্দার ১০ হাজার টাকা টোপ দিয়েছিল প্রভাস মণ্ডলকে। নাবালিকাকে তুলে আনার জন্য এই টোপ দেওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে, প্রভাস মণ্ডল বারংবার পুলিশকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছে তার অসংলগ্ন বয়ানের মাধ্যমে। পুলিশের দাবি, প্রথম থেকেই প্রভাস মণ্ডল প্রমাণ করার চেষ্টা করছিল যে এই ঘটনায় তার কোনও যোগ নেই, সে কিছু করেনি। বাকিদের সঙ্গেই এই ঘটনার যোগ রয়েছে।
বারুইপুরে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ ও নৃশংসভাবে খুন। ঘটনার ৩ দিনের মাথায়, এনকাউন্টারে মৃত্য়ু হল অন্যতম অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের। ঠিক যে পুকুর থেকে নাবালিকার বস্তাবন্দি মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছিল। তার অদূরে, পুনর্নির্মাণের সময়, পুলিশের গুলিতে মৃত্য়ু হল অভিযুক্তর। নাবালিকাকে নৃশংস হত্য়াকাণ্ডে, রবিবারই প্রভাস মণ্ডলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, এই প্রভাস মণ্ডলকে জিজ্ঞাসাবাদ করেই, নাবালিকার মৃতদেহের হদিশ মেলে।
Author : সোহিনী চক্রবর্তী

