কলকাতা: হাইকোর্টের অনুমতির পর শর্তসাপেক্ষে গত ২৮ অগস্ট ক্যাথিড্রাল রোডে সভা করেছে 'কালীঘাট তৃণমূল'। সেই সভায় প্রধান বক্তা হিসাবে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সেই সভা নিয়েও এবার তৈরি হয়েছে বিতর্ক। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও 'কালীঘাট তৃণমূল' -এর আয়োজকদের বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এফআইআর দায়ের করেছে হেস্টিংস থানা।
পুলিশ সূত্রে খবর, এফআইআর দায়েরের পর এবার বয়ান রেকর্ড করার জন্য সময় চাওয়া হবে রাজ্যের পূর্বতন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে। তবে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সময় না দিলে কী পদক্ষেপ করবে পুলিশ, তা নিয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
: নীচের তিনটে তলা ডুবেছে কাদায়, ধ্বংসস্তূপের মধ্যে ত্রিশূলী বাজারে দাঁড়িয়ে রয়েছে শুধু একটিই বাড়ি
এই ঘটনা নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিয়েছে রাজ্য বিজেপিও। রাজ্য বিজেপির প্রধান মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বলেন, "প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বা অন্য কোনও বড় রাজনৈতিক দলের নেতা, কোনও রাজনৈতিক দল থেকে নির্বাচিত সাংসদ, মহান বা মহৎ কিছু নন। সবাইকেই আইনের কাছে মাথা নীচু করে দাঁড়াতে হবে। তারপর তিনি প্রমাণ করবেন যে তিনি দোষ করেছেন কি করেননি"।
কিন্তু কী অভিযোগ করা হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে? হেস্টিংস থানা তাদের অভিযোগ পত্রে লিখেছে, উল্টোদিকের ফুটপাতে দাঁড়ানো সমর্থকদের মঞ্চের কাছে আসার জন্য ডাক দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর তারপরই কালীঘাট তৃণমূলের সমর্থকরা ফুটপাত থেকে ক্যাথিড্রাল রোডের পশ্চিমদিকের রাস্তায় ভিড় করেন। অভিযোগ, এর ফলে ব্যাহত হয়ে যান চলাচল। রাস্তায় আটকে পড়ে একাধিক গাড়ি।
পুলিশ যদিও দাবি করছে, এই সময় 'কালীঘাট তৃণমূল' -এর সভা মঞ্চের কাছে কর্তব্যরত পুলিশকর্মীরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হাইকোর্টের নির্দেশের কথা মনে করিয়ে রাস্তায় না নামার আবেদন করেন। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, পুলিশের সেই আবেদন কান দেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এই বিষয় নিয়ে আগেই মুখ খুলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, "প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কীভাবে হাইকোর্টের অর্ডারকে ভাঙলেন? রাস্তার একটা ফ্ল্যাঙ্ক ছেড়ে করতে বলেছিল। একদম গাছের নীচে থাকা লোককে ডেকে রাস্তা বন্ধ করে কী করলেন? আমি পুলিশকে বলেছি এফআইআর রেজিস্টার করতে আর ওঁর বিরুদ্ধে হাইকোর্টে যেতে। ছাড়া হবে না।"
Author : সুপ্রিয় ঘোষ

