ভাস্কর মুখোপাধ্যায়, বোলপুর: অতি বৃষ্টি বোলপুর পুরসভার ৪টি ওয়ার্ড জলের তলায়। হাজারের বেশি মানুষ গৃহবন্দী। জল ঢুকল গীতাঞ্জলি প্রেক্ষাগৃহের কপাউন্ডে। গত ৪৮ ঘন্টা লাগাতার বৃষ্টিতে বোলপুর পুরসভার নিকাশি ব্যবস্থার কঙ্কালসার চেহারা বেড়িয়ে এসেছে। পুরসভার ৩, ৪, ৫, ৬ ওয়ার্ড জলের তলায়।
এর ফলে এই ওয়ার্ড গুলিতে বসবাসকারী কয়েক হাজার মানুষ গৃহবন্দী হয়ে রয়েছে। একাধিক বাড়িতে জল ঢুকে গিয়েছে। রাস্তা জলের তলায়। ড্রেনের জল উঠে এসেছে রাস্তায় ও ঘরে। স্থানীয়দের অভিযোগ, জল বাথরুমে, বেডরুমে ঢুকে গিয়েছে। এর ওপর ইলেকট্রিক সংযোগ নিয়ে আরও বিপদ। এর আগেও অতিবৃষ্টিতে ওয়ার্ড গুলির এই রকম অবস্থা হয়েছিল। কিন্তু পুরসভা কোনও ব্যবস্থা নেয়নি।
রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে এমন ছবি দেখা গিয়েছে। বাঁকুড়ার ২ নম্বর ব্লকের দ্বারকেশ্বর নদের উপর থাকা ভাদুল সেতু জলের তলায়। টানা বৃষ্টির জেরে সেতুর উপর থেকে বইছে জল। বাঁকুড়া থেকে ওন্দা যেতে গেলে এই সেতু ছিল অন্য়তম মাধ্য়ম। সেই সেতু জলের তলায় চলে যাওয়ায় সমস্য়ায় ২০টি গ্রামের বাসিন্দা। সেখানকার বাসিন্দাদের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে এই সেতু মেরামতের জন্য দাবি তোলা হলেও তাতে আমল দেয়নি প্রশাসন।
গত মাসে প্রবল বৃষ্টির জন্য কেলেঘাই ও বাগুই নদীর জলে প্লাবিত পটাশপুর, ভগবানপুর বিধানসভার বিস্তীর্ণ অংশ জলের নীচে ডুবে গিয়েছিল। অপরদিকে, সুবর্ণরেখার জলে প্লাবিত রামনগরের বিস্তীর্ণ এলাকা। এই এলাকা পরিদর্শনে এসেছিলেন পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।
রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ভারী নিম্নচাপ ও ক্রমাগত বৃষ্টির জন্য জনসাধারণের সমস্যার মধ্য়ে পড়তে হচ্ছে। বিভিন্ন জায়গায় নদীর জল উপচে পড়েছে। ঠিক যেমন ভারী বৃষ্টিতে ফুঁসছে ঝাড়গ্রামের একাধিক নদী। জলমগ্ন কজওয়ে সহ একাধিক রাস্তা। চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। তারাফেনি নদীর জল উপচে প্লাবিত হয়েছে ঢোলভাঙা এলাকা। অন্যদিকে, ডুলুং নদীর জলস্তর বৃদ্ধি হওয়ায় জলের তলায় জামবনির চিল্কিগড় কজওয়ে। কাথুয়া খালের জল উপচে জলমগ্ন হয়ে পড়েছে ফেকো-গোপীবল্লভপুর রাজ্য সড়ক। প্রশাসন সূত্রে খবর, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে চলছে নজরদারি। ঝাড়খণ্ডের গালুডি ব্যারাজ থেকে ৪ হাজার ৬০ কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে। তার ফলেই নদী তীরবর্তী নিচু এলাকাগুলিতে প্লাবনের আশঙ্কা বেড়েছে।
ইতিমধ্য়েই আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, আগামী ২৪-৪৮ ঘণ্টার মধ্য়ে বৃষ্টির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।
Author : গৌতম রায়

