নয়াদিল্লি: NEET আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়াতে একটানা অনশন করেছেন। কিন্তু সেই 'ককরোচ জনতা পার্টি'র সঙ্গে কি দূরত্ব তৈরি হল শিক্ষাবিদ তথা সমাজকর্মী সোনম ওয়ংচুকের? তিনি নিজেই সেই জল্পনা উস্কে দিলেন। CJP নেতৃত্বকে নিয়ে তাঁর মন্তব্য, 'কেউ সাধুপুুরুষ নয়'। (Sonam Wangchuk)
দিল্লির যন্তরমন্তরে যখন অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন, সেই সময় সর্বদা তাঁর পাশে দেখা যেত অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কাদের।
কিন্তু কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডার হাতে স্যুপ পান করে সোনম হাসপাতালে অনশনভঙ্গের পরসেভাবে আর একসঙ্গে দেখা যায়নি তাঁদের। সেই নিয়ে কাটাছেঁড়ার মধ্যেই CJP সম্পর্কে নিজের মনোভাব ব্যক্ত করলেন সোনম। (Cockroach Janta Parry)
ইউটিউবার প্রখর গুপ্তের পডকাস্টে নিজের অবস্থান জানিয়ে সোনম বলেন, 'ওঁরা একেবারেই সাধুপুরুষ নন যে কিচ্ছুটি চাই না এবং স্বার্থহীন ভাবেই সব কিছু করছেন। আমার মনে হয় ওঁদের রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্খা রয়েছে। হতে পারে তা অন্যায় কিছু নয়। তবে আমাকে রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্খার কথা জানানো হয়নি। আমি অন্তত এটুকু বুঝেছি।'
সোনমের দাবি, তিনি যখন ছাত্র আন্দোলনে যোগ দেন, অনেকেই অভিজিতের আম আদমি পার্টি সংযোগ নিয়ে সতর্ক করেছিলেন তাঁকে। কিন্তু তিনি বিষয়টিকে গুরুত্ব দেননি। কারণ কোনও রাজনৈতিক দলের হয়ে অতীতে কাজ করে থাকা অন্যায় কিছু নয়। তবে তিনি আন্দোলনের গায়ে রাজনৈতিক রং লাগাতে নিষেধ করেছিলেন প্রথম দিন থেকেই।
অনশন চলাকালীন অভিজিৎ এবং বাকিদের নিজের অবস্থান বার বার করে জানিয়েছিলেন বলে দাবি সোনমের। তাঁর বক্তব্য, 'মঞ্চে থাকাকালীন গোটা সময় ধরে ওঁদের বলে গিয়েছি যে, আপনাদের রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্খা থাকতে পারে। তরুণ প্রজন্মের রাজনীতিতে আসা অবশ্যই শুভ লক্ষণ। তবে এই মঞ্চের পবিত্রতা রক্ষা করুন। নিরপেক্ষ থাকতে দিন, অরাজনৈতিক থাকতে দিন, শুধু চাপ সৃষ্টি করতে দিন। তাহলেই অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছনো যাবে।'
CJP নেতৃত্ব আগামী দিনে রাজনীতিতে এলে নেতৃত্বদানে সক্ষম হয়ে উঠবেন কি না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছিল সোনমের কাছে। জবাব দিতে গিয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন সোনম। তিনি বলেন, 'সদিচ্ছা থাকলেও দক্ষতার অভাব সমস্য়া তৈরি করে। কিন্তু দক্ষ অথচ উদ্দেশ্য অসৎ, তা অনেক বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে।' তবে পরবর্তীতে CJP-ও দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে পড়বে কি না, তা এখনও বলার সময় আসেনি বলে মত সোনমের।
সোনমের দাবি, ২০ জুলাই যন্তরমন্তরে পুলিশি অভিযানের পর ভিড় খালি হয়ে যায়। সেই সময় CJP-র একজন তাঁকে অনুরোধ করেন, সকলকে চলে যেতে বলতে। আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানাতে বলা হয় তাঁকে। কিন্তু পরদিন আন্দোলনকারীরা ফিরে আসেন। তাতেই আন্দোলন চলে। ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবি জোরাল হয়।
তবে ধর্মেন্দ্রর ইস্তফার প্রসঙ্গে একটা সময় তিনি সুর নরম করেছিলেন বলেও অভিযোগ ওঠে। সোনম জানিয়েছেন, ধর্মেন্দ্রর ইস্তফা তাঁর কাছে ততটা প্রাধান্য পায়নি। কারণ তাতে ক্ষতি হচ্ছিল বলে মনে করছিলেন তিনি। পাশাপাশি, আরও অনেকে ইস্তফার দাবিতে সরব হয়েছিলেন। তিনি চাইছিলেন, আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী কাউকে যেন আইনি ঝুটঝামেলায় পড়তে না হয়। সেই প্রতিশ্রুতি আদায় করাই প্রাধান্য পায় তাঁর কাছে।
Author : পম্পা অধিকারী সিংহ

