গ্লাসগো: স্বপ্ন দেখেছিলেন সোনা জয়ের। কমনওয়েলথ গেমসে(Commonwealth Games 2026) পা রাখার পর থেকেই একটাই লক্ষ্য ছিল সোনা জিতবেন। নিজের মোবাইল ফোনের ওয়ালপেপারেও সোনার মেডেলর ছবি সেভ করে রেখেছিলেন। কিন্তু স্বপ্নপূরণ হয়নি অল্পের জন্য। জুডোকাতে দেশের হয়ে খেলতে নেমে গ্লাসগোয় রুপো জেতার পরে আক্ষেপের সুর ইয়ামিনি মৌর্য্যর গলায়।
গ্লাসগো কমনওয়েলথ গেমসে মহিলাদের ৫৭ কেজি জুডোকোতে অংশ নিয়েছিলেন ইয়ামিনি। ফাইনালে ইংল্য়ান্ডের প্রতিদ্বন্দ্বী অ্য়াসেলিয়া টোপ্রাকের বিরুদ্ধে হেরে রুপো জেতেন। ইয়ামিনি বলছেন, 'টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই আমি ভেবে রেখেছিলাম যে আমি সোনা জিতবই। আমার আশা ছিল যে স্বপ্নপূরণ হবেই। এমনকী আমি আমার মোবাইল ফোনের ওয়ালপেপারেও সোনার মেডেলের ছবি সেভ করে রেখেছিলাম। কারণ এই বিশ্বাস ছিল যে সোনা আমার ঝুলিতেই আসতে চলেছে। কিন্তু একটা ভুলই পুরো ছবিটা বদলে দিয়েছিল। আমি যেভাবে চেয়েছিলাম খেলা সেভাবে আর এগোয়নি।'
ইয়ামিনি আরও বলেন, 'আমি ফাইনালের পরে নিজের মনের মধ্য়েই বেশ কয়েকবার খেলাটা নিয়ে ভেবেছিলাম। কোথায় ভুল করেছিলাম, তা বোঝার চেষ্টা করেছিলাম। শেষের দিকে আক্রমণাত্মক না হয়ে যদি ঠাণ্ডা মাথায় খেলতাম, তাহলে ফল অন্য়রকম হতেই পারত। অপেক্ষা করছিলাম যে কখন প্রতিপক্ষ ভুল করবে, কিন্তু এরইমাঝে আমি নিজেই ভুল করে বসি।'
১৯৯৮ সালের ২৬ মার্চ মধ্য়প্রদেশে জন্ম হওয়া ইয়ামিনি ভারতের হয়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ, এশিয়ান গেমস, এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে খেলেছেন। ২০২২ সাল থেকে আন্তর্জাতিক জুডো সার্কিটে পরিচিত মুখ ইয়ামিনি।
কমনওয়েলথ গেমসে একদিনে সাতটি সোনা জিতেছিল ভারত। সেদিন ভারতের হয়ে অঙ্কুশ পাংহাল সোনা জিততেই বক্সিংয়ে বিভিন্ন বিভাগে সোনা জয়ের সংখ্যাটা গিয়ে দাঁড়ায় সাত। অঙ্কুশ বাদেও প্রীতি পাওয়ার, জাসমিন লাম্বোরিয়া, সাক্ষী চৌধুরী, প্রিয়া ঘনঘাস, সচিন সিওয়াচ ও অরুন্ধতি চৌধুরী সোনা জিতলেন। সব মিলিয়ে ভারতীয় দল মোট ১৩টি সোনা জিতে আপাতত কমনওয়েলথ গেমসের পদক তালিকায় চতুর্থ স্থানে রয়েছে। ভারতীয় অ্যাথলিটরা ইতিমধ্যেই ১৩টি সোনা, ১৭টি রুপো এবং নয়টটিব্রোঞ্জ পদকসহ মোট ৩৯টি পদক জিতে নিয়েছেন। গোটা দিনে ভারত মোট আটটি সোনাসহ ১৬টি পদক জেতে।
Author : গৌতম রায়

