ভোট (West Bengal Assembly Election 2026) যে এসে গিয়েছে এবার দিব্যি টের পাচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের মানুষ। গত কয়েক দিন ধরে দেখা গিয়েছিল প্রার্থীর বাড়ি বাড়ি গিয়ে কারও বাটনা বেটে দিচ্ছেন, আবার কারও চপ ভেজে দিচ্ছেন। আর এবার ভোটের ময়দানে স্বয়ং সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।
২৩ মার্চ বঙ্কিমচন্দ্রের মূর্তিতে মালা দিয়েছিলেন চুঁচুড়ার তৃণমূল প্রার্থী দেবাংশু ভট্টাচার্য। আর তার ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই শুরু 'শোধন' রাজনীতি।
২৩ মার্চ ভোটের প্রচার করতে বেরিয়ে চুঁচুড়ার বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু ভট্টাচার্য কর্মী সমর্থকদের নিয়ে পৌঁছে যান জোড় ঘাটে অবস্থিত বঙ্কিম ভবনে। সেখানে ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের আবক্ষ মূর্তিতে মাল্যদান করে শ্রদ্ধা জানান ও এলাকায় প্রচার চালান।
আর এর পর ২৪ মার্চ সকলেই হয় বিতর্কের সূত্রপাত। ওইদিন সকালে একদম বিজেপির কর্মী সমর্থক হাজির হন সেখানে। তাঁর দুধ ও গঙ্গাজল দিয়ে ধুয়ে ফেলেন বঙ্কিমচন্দ্রের ওই আবক্ষ মূর্তি। বিজেপির দাবি, অতীতে মা দুর্গা ও মহালয়ার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিত্বদের নিয়ে কটাক্ষ করেছেন দেবাংশু। আর সেই কারণেই 'অপবিত্র' হয়েছে এই ঐতিহাসিক চত্বর। এ ছাড়াও বিজেপির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, 'বন্দেমাতরম' রচয়িতা বঙ্কিমচন্দ্রকে যথাযথ সম্মান দেওয়া নিয়ে অতীতে বিতর্ক হয়েছে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যেভাবে বঙ্কিমচন্দ্রকে স্মরণ করেছেন ও শ্রদ্ধা জানিয়েছেন এবং 'বন্দেমাতরম'-কে গুরুত্ব দিয়েছেন, তার প্রশংসাও করেন তাঁরা।
তবে, বসে নেই তৃণমূল প্রার্থীও। দেবাংশু ভট্টাচার্য পাল্টা মনে করিয়ে দিলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-কে 'দুর্গা' আখ্যা দেওয়া নিয়ে বিজেপি ও আরএসএস-এর বক্তব্যই আগে সামনে এসেছে। এ ছাড়াও তাঁর দাবি, "আমরা সব নারীর মধ্যেই মা দুর্গাকে দেখি।" বিজেপির এই 'শোধন' কর্মসূচিকে গুরুত্ব দিতে নারাজ তিনি। তিনি আরও বলেন, যেখানে তৃণমূলের মিছিলে ২০০ জন ছিল, সেখানে বিজেপির কর্মসূচিতে হাতেগোনা কয়েক জন। এত কম উপস্থিতি নিয়ে তাঁর বক্তব্যের অপব্যাখ্যা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি। এর পাশাপাশি বিরোধীদের 'শুভবুদ্ধি'র উদয় হওয়ার বর্তও দেন তিনি। সব মিলিয়ে নির্বাচনের আগে চুঁচুড়ায় রাজনৈতিক চাপানউতর তীব্র থেকে তীব্রতর হয়ে উঠছে।
উল্লেখ্য, এদিন প্রচারে বেরিয়ে গোঘাটের তৃণমূল প্রার্থী নির্মল মাজি কথা বললেন স্থানীয় মানুষের সঙ্গে। কোনও ভোটারের বাড়িতে গিয়ে চিকিৎসা করলেন তাঁর। লিখে দিলেন প্রেসক্রিপশন।
Author : ABP Ananda

