নয়াদিল্লি : ফের বিমান-বিভ্রাট। ২২৯ জন যাত্রীকে নিয়ে জরুরি অবতরণ করল ইন্ডিগোর বিমান। টেকঅফ অর্থাৎ উড়ানের কয়েক মিনিটের মধ্যেই ইঞ্জিন ফেল করেছে বলে সন্দেহ হয় পাইলটের। যার জেরে গোয়া থেকে দিল্লিগামী ওই বিমানের পাইলট জরুরি ভিত্তিতে অবতরণ করতে বাধ্য হন। মনোহর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দ্রুততার সঙ্গে অবতরণ করানো হয় বিমানটি।
আজ সকাল ৯টা ১৬ মিনিট নাগাদ 6E 2102 বিমানটি টেকঅফ করে এবং বেলা ৯টা ৫০ মিনিটেই সেটি জরুরি ভিত্তিতে অবতরণ করে। তবে এই ঘটনার জেরে কোনও যাত্রী বা ক্রু-র সদস্য আহত হননি। জরুরি বার্তা পাওয়ার পর এমার্জেন্সি রেসপন্স টিমকে প্রস্তুত রাখা হয়েছিল।
ঘটনা বিস্তারিত...
এক আধিকারিক বলেন, "ইঞ্জিন বিকল হওয়ার আশঙ্কার কথা জানিয়ে পাইলট এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলকে (এটিসি) সতর্ক করার এবং জরুরি অবতরণের অনুরোধ জানানোর পর সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে বিমানবন্দরে পূর্ণ জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়।" কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন যে, নিয়ন্ত্রক সংস্থা 'ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল অ্যাভিয়েশন' (ডিজিসিএ)-এর একটি দল গোয়ায় গিয়ে বিমানটি পরিদর্শন করবে। এক বিবৃতিতে ইন্ডিগো জানিয়েছে, বিমানটিতে রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছিল। সংস্থাটি আরও জানায়, উড়ানের পরপরই যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়লে নির্ধারিত কার্যপদ্ধতি (স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর) অনুসরণ করা হয়। '...সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয় এবং পাইলটরা বিমানটি ঘুরিয়ে নিয়ে মনোহর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করান।'
গতকালও আতঙ্ক ছড়ায় বিমান-যাত্রাকে কেন্দ্র করে। বিমান তখন মাঝ-আকাশে। বিমানের শৌচাগারের ভিতরে একটি টিস্যু পেপার উদ্ধার করেন কেবিন ক্রু-র এক সদস্য। তাতে লেখা- 'BOMB'। যে ঘটনাকে কেন্দ্র করে এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের বিমানে চরম আতঙ্ক ছড়ায়। এই পরিস্থিতিতে দাম্মাম থেকে নয়াদিল্লিমুখী ওই বিমান আমদাবাদের সর্দার বল্লবভাই পটেল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে। ক্রু সদস্যরা দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে পাইলটকে বিষয়টি জানান। পাইলট তৎক্ষণাৎ এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে যোগাযোগ করে জরুরি প্রয়োজনে গতিপথ পরিবর্তন ও অবতরণের অনুমতি চান। আমদাবাদে পৌঁছানোর পর বিমানটিকে দ্রুত মূল টার্মিনাল থেকে দূরে একটি নির্জন স্থানে (আইসোলেটেড বে) নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে এমার্জেন্সি ইউনিট প্রস্তুত ছিল। নিরাপত্তাকর্মী ও বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল বিমানটিকে ঘিরে ফেলে এবং নির্ধারিত নিরাপত্তা প্রোটোকল অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করে।
বিমানে থাকা ৩২ জন যাত্রীকে নিরাপদে বের করে টার্মিনাল-২-এ স্থানান্তরিত করা হয়। ঘটনায় কেউ আহত হননি। কর্তৃপক্ষ বিমানটিতে পুঙ্খানুপুঙ্খ তল্লাশি চালিয়ে এর কেবিন, আসন এবং কার্গো হোল্ড পরীক্ষা করে। তল্লাশির সময় কোনও বিস্ফোরক বা সন্দেহজনক বস্তু পাওয়া যায়নি।
Author : দীপ মজুমদার

