নয়াদিল্লি: স্বামীর বিরুদ্ধে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগ। স্বামীর প্রেমিকার থেকে ৫০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করলেন স্ত্রী। 'ভালবাসা চুরি'র ক্ষতিপূরণ বাবদ ওই টাকা দাবি করলেন তিনি। সরাসরি আদালতে পৌঁছল বিষয়টি। (Extramarital Affair)
স্বামীর প্রেমিকার কাছ থেকে ৫০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে দিল্লির আদালতে মামলা করেন ওই মহিলা।
জানান, স্বামী বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়েছেন। তাঁদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে যে ভালবাসা ছিল, তা চুরি করে নিয়েছেন বাইরের মহিলা। তাই ক্ষতিপূরণবাবদ ৫০ লক্ষ টাকা তাঁর পাওনা বলে দাবি করেন। (Extramarital Relationship)
কিন্তু ওই মহিলার আবেদন খারিজ করে দেন দিল্লির জেলা আদালতের বিচারক অতুল আলাওয়াত। তিনি জানান, ওই মহিলাই যে তাঁর স্বামীকে প্ররোচিত করেছেন, ইচ্ছাকৃত ভাবে তাঁদের সম্পর্কে ভাঙন ধরিয়েছেন, বা ওই ব্যক্তিকে বৈবাহিক সম্পর্ক থেকে বের করে নিয়ে গিয়েছেন, তার সপক্ষে কোনও প্রমাণ পেশ করতে পারেননি অভিযোগকারিণী।
শুনানি চলাকালীন বিচারক বলেন, 'দুই প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ পারস্পরিক সম্মতিতে বিবাহবহির্ভূত ভাবে যৌনসম্পর্কে লিপ্ত হয়েছেন এবং তাঁদের এক সন্তান হয়েছে বলেই তা স্নেহ-ভালবাসা থেকে বিচ্যুতি সংক্রান্ত আইনি শর্তাবলী পূরণ করে, এমনটা নয়। '
আদালতে অভিযোগকারিণী জানান, ২০০১ সালে বিয়ে হয় তাঁর। ২০১২ সালে বিবাহবিচ্ছেদের মামলা করেন স্বামী। সেই মামলা ঝুলে রয়েছে এখনও। তার মধ্যেই ২০০৯ সালে আমেরিকা সফরে গিয়ে এক মহিলার সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান স্বামী। ২০১৩ সালের জানুয়ারি মাসে বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে যান তিনি। ২০১৫ সালে ওই মহিলাকে বিয়ে করেন এবং ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তাঁদের একটি কন্যাসন্তান হয়।
জেরক্সের দোকানে ৩৪০০ আসল SIR ফর্ম, ফোটোকপি করাতে দিয়েছিলেন বিজেপি নেতা? উত্তেজনা নবী মুম্বইয়ে
প্রথমে ১ কোটি টাকা দাবি করেছিলেন অভিযোগকারিণী। সুদসমেত ওই পরিমাণ টাকা দিতে হবে বলে দাবি করেন। পরে টাকার অঙ্ক কমিয়ে ৫০ লক্ষে নামিয়ে আনেন। স্নেহ এবং ভালবাসার বিচ্যুতিকে পেশ করেন কারণ হিসেবে, যার আওতায় বৈবাহিক সম্পর্কে তৃতীয়পক্ষের হস্তক্ষেপ, ভালবাসার বিচ্যুতি এবং দাম্পত্যে ফাটল ধরার মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত।
কিন্তু আদালত জানায়, শুধুমাত্র বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক যথেষ্ট নয়। তৃতীয়জনের প্রবেশের আগে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সত্যিকারের ভয়ালবাসি ছিল বলে আগে প্রমাণ করতে হবে আবেদনকারীকে। আগেই যদি ভালবাসা শেষ হয়ে গিয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে তৃতীয় কারও বিরুদ্ধে সম্পর্কে ভাঙন ধরানোর অভিযোগ খাটে না।
সওয়াল জবাব চলাকালীন দেখা যায়, আগাগোড়াই স্বামী-স্ত্রী মধ্যে সম্পর্ক ভাল ছিল না। যত বছর দাম্পত্য টিকেছিল, স্বামী শারীরিক ভাবেও তেমন ঘনিষ্ঠ হননি স্ত্রীর। তৃতীয় কারও জন্য ওই ব্যক্তি সংসার ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছেন, এমন কোনও প্রমাণ মেলেনি। কেউ তাঁকে বাধ্য করেননি, বরং ওই ব্যক্তি নিজে থেকেই অন্য সম্পর্কে লিপ্ত হন বলেও উঠে আসে সওয়াল জবাবে।
শেষে আদালত জানায়,বৈবাহিক সম্পর্কের প্রতি দায়বদ্ধ থাকা, স্ত্রীর প্রতি বিশ্বস্ত থাকার দায় বর্তায় স্বামীর উপরই। পরবর্তীতে যাঁর সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান তিনি, তিনি কোনও ভাবে দায়বদ্ধ নন এক্ষেত্রে।
Author : পম্পা অধিকারী সিংহ

