বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে সুইডেনের বিরুদ্ধে হারের পরেই তিউনিশিয়ার কোচ সাবরি লামাউচিকে বরখাস্ত করা হয়।
গ্রুপ পর্বে তাঁদের দল ছিটকে যাওয়ার পরেই স্কটল্যান্ডের কোচ স্টিভ ক্লার্ক, চেকিয়ার কোচ মিরোস্লাভ কুবেক এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কোচ হয় মিউং-বো নিজেদের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান। এমনকী বিক্ষোভের বো নাকি কোনওরকমে যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে আসেন বলেও শোনা যাচ্ছে।
কিংবদন্তি কোচ মার্সেলো বিয়েলসা ২০০২ সালে আর্জেন্তিনার কোচ ছিলেন, সেইবার লা আলবিসেলেস্তে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল। তার ২৪ বছর পর উরুগুয়ের কোচ হিসাবেও বিশ্বকাপে নিজের দলকে গ্রুপ পর্বের গণ্ডি পার করাতে পারেননি বিয়েলসা। তারপরেই তিনি নিজের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান।
নিজেদের রাউন্ড ৩২-র ম্যাচে জয়ের মুখ থেকে হার ছিনিয়ে নেয় নেদারল্যান্ডস। মরক্কোর বিরুদ্ধে হারের পর রোনাল্ড কোয়েম্যান ডাচ কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়ান।
বেশ বিতর্কিতভাবে গোল বাতিল হওয়ায় জার্মানি প্যারাগুয়ের কাছে রাউন্ড ৩২-এ পরাজিত হয়। ম্যানুয়েল ন্যয়ারকে অবসর ভাঙিয়ে ফিরিয়ে আনা, লিয়ন গোরেৎস্কার মতো ফুটবলারকে দলে নেওয়া, এইসব না না সিদ্ধান্তের জন্য জার্মান কোচ জুলিয়ান নাগেলসম্যানের দিকে আঙুল উঠে। প্রত্যাশামতোই তাঁকে আর জার্মানির ডাগ আউটে দেখা যাবে না।
জার্মানিকে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছিল ইকুয়েডর। কিন্তু সেই ইকুয়েডরের কোচ সেবাস্তিয়ান বেক্কাসেসেও মেক্সিকোর বিরুদ্ধে রাউন্ড অফ ৩২-এ তাঁর দল হারার পরেই কোচের দায়িত্ব ছাড়েন।
এই বিশ্বকাপে ঘানার পারফরম্যান্স ছিল অত্যন্ত হতাশাজনক। দলে থমাস পার্টে, অ্যান্টনিও সেমেনিও-র মতো তারকা থাকলেও, পানামাকে ১-০ গোলে হারানো বাদে একটিও ম্য়াচ জিততে পারেনি ঘানা। কার্লোস কুইরজ় দলের এই হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পরে সরে দাঁড়ান।
মেক্সিকোর কোচ হাভিয়ের আগুইরেও ইংল্যান্জের বিরুদ্ধে হারের পর দলের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান।
পর্তুগালের কোচ রর্বাতো মার্তিনেজ়ের পরিকল্পনা তৈরি থেকে রোনল্ডোকে ব্যবহার, সবকিছু নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে, সমালোচনা হয়েছে। রাউন্ড অফ ১৬-তে পর্তুগিজদের হারের পর তিনিও সরে দাঁড়ালেন।
এই তালিকায় সদ্যই আরও এক সংযোজন ঘটেছে। ক্রোয়েশিয়ার কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন জ্লাতকো দালিচ। নয় বছর ক্রোটদের কোচের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। তাঁর তত্ত্বাবধানেই ক্রোয়েশিয়া ২০১৮ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে পৌঁছেছিল। সেই কোচই এবার ক্রোয়েশিয়ার দায়িত্ব ছাড়লেন।

