নয়াদিল্লি: কাগজে সই, আঙুলের ছাপ থাকলেই কোনও উইল বৈধ হয়ে যায় না। এমনকি রেজিস্ট্রেশন হয়ে গিয়ে থাকলেও, সেই উইলের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন থাকতে পারে। উত্তরাধিকার এবং প্রমাণ পেশ আইনের নির্দিষ্ট ধারা অনুযায়ী উইলের বৈধতা প্রমাণ করতে হবে বলে এবার জানিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট। (Supreme Court on Will)
সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সঞ্জয় করোল এবং বিচারপতি এন কোটিশ্বর সিংহের বেঞ্চ এমনই মন্তব্য করল এবার। বলা হয়েছে, উইলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সই, আঙুলের ছাপ থাকলে, বা রেজিস্ট্রেশন হয়ে থাকলেই সেই উইল বৈধ হয়ে যায় না। বরং কমপক্ষে দুই সাক্ষীর সই থাকতে হবে উইলে। আইনস্বীকৃত বিধির মাপকাঠি পূরণ করতে হবে। (Genuinity of a Will)
ভারতের উত্তরাধিকার আইনের 63(c) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, উইলে কমপক্ষে দুই সাক্ষীর স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক, যাঁরা মালিককে সই করতে দেখেছেন বা সেব্যাপারে ব্যক্তিগত ভাবে অবগত। শীর্ষ আদালত পরিষ্কার জানিয়েছে, শুধুমাত্র মালিকের স্বাক্ষর যথেষ্ট নয় এক্ষেত্রে। উইলের রেজিস্ট্রেশন হয়ে থাকলেও, সাক্ষীদের সইয়ের সঙ্গে আপস করা যাবে না। সাক্ষীরা বেঁচে থাকলে, তাঁদের মধ্যে অন্তত একজনের দ্বারা উইলের বৈধতা প্রমাণ করতে হবে। সই করেননি, উইল তৈরির সময় শুধুমাত্র উপস্থিত ছিলেন, এমন কোনও ব্যক্তির দাবি প্রমাণ হিসেবে গ্রাহ্য হবে না এক্ষেত্রে।
উইল সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানিতে এমন মন্তব্য করে আদালত। বিচারপতিরা জানান, মূল সাক্ষীদের অনুপস্থিতিতে বা তাঁদের মৃত্যুর পরই উইলের সত্যতা প্রমাণে বিকল্প উপায় খোঁজা যেতে পারে।স্বাভাবিক উপায়ে প্রমাণের সুযোগ থাকলে, বিকল্প উপায়ের প্রশ্ন নেই। কোনও উইলের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন থাকলে, কোনও রকম সন্দেহ থাকলে, সেক্ষেত্রে নিরপেক্ষ এবং নির্ভরযোগ্য ব্যক্তির সাক্ষ্য অবশ্য প্রয়োজন।
রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধ করতে গিয়ে মৃত্যু ভারতীয়দের, ঠিক কতজন? এবার সংখ্য়া জানাল কেন্দ্র
১৯৭৬ সালের ১৫ ডিসেম্বরের একটি উইল নিয়ে মামলা চলছিল আদালতে। ওই উইলের সত্যতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন বিচারপতিরা।
Author : পম্পা অধিকারী সিংহ

