বালারসাহ, মহারাষ্ট্র: ট্রেনের ফার্স্ট এসি কুপ নাকি ফুলসজ্জার ঘর? বোঝাই যাবে না। আর এবার ভাইরাল হল এমনই এক ভিডিও। এই ভিডিওতে ট্রেনের এই ফার্স্ট এসি কুপটিকে জমকালো সাজসজ্জায় দেখা গিয়েছে। সেখানে দেখা গিয়েছে ওই কেবিনটি ফুল, বেলুন ও গোলাপের পাপড়ি দিয়ে সাজানো হয়েছে।
: "যাবতীয় লেনদেনই অত্যন্ত সন্দেহজনক", তৃণমূলের ৪৪০ কোটি টাকা ফ্রিজ করল ইডি
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া এই ভিডিও দেখেই মনে হচ্ছিল যে কোনও এক নবদম্পতির ফুলসজ্জা বা মধুচন্দ্রিমার জন্যই যেন ওই ট্রেনটিকে সাজানো হয়েছে। ট্রেনের কামরার ছাদ থেকে ঝুলছিল লাল, গোলাপি ও সাদা বেলুন। দেওয়ালেও ছিল ফুল। এ ছাড়াও একাধিক জায়গায় ছিল হার্ট শেপড বিভিন্ন কারুকার্য। এর ফলে ওই কুপের রোম্যান্টিক আবহ আরও বৃদ্ধি পেয়েছিল।
ট্রেনের বার্থটিকে সাজানো হয়েছিল গোলাপের পাপড়ি দিয়ে। সেখানেও হার্ট শেপড ডিজাইন করা হয়েছিল। এ ছাড়াও দেওয়ালে লেখা ছিল, 'I LOVE YOU'।
এই ব্যক্তিগত উদ্যোগে সাজসজ্জার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই এবার নড়েচড়ে বসল ভারতীয় রেল। ঘটনাকে গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি হিসেবে চিহ্নিত করে অবিলম্বে এক চিফ টিকিটিং ইন্সপেক্টরকে বা সিটিআই কে সাসপেন্ড করেছে ভারতীয় রেল। একইসঙ্গে কীভাবে বাইরের একজন ব্যক্তি অনুমতি ছাড়াই ট্রেনে উঠে প্রিমিয়াম কোচে প্রবেশ করলেন, তা খতিয়ে দেখতে বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে রেল মন্ত্রক।
৬ জুলাই ২০২৬-এ বালারসাহ-মুম্বই নন্দীগ্রাম এক্সপ্রেসে এই ঘটনা ঘটে। জলনা থেকে মুম্বই যাওয়ার পথে এক দম্পতি ফার্স্ট এসির 'জি কুপে' বুক করেছিলেন। যাত্রাকে স্মরণীয় করে তুলতে তাঁরা জলনার একটি বেসরকারি ডেকোরেশন সংস্থা 'রাহত ডেকোরেটর'-এর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। অভিযোগ, ওই সংস্থার এক প্রতিনিধি কোনও বৈধ অনুমতি ছাড়াই জলনা স্টেশন থেকে ট্রেনে উঠে কুপের ভিতরে সাজসজ্জার কাজ সম্পূর্ণ করেন।
পরে সেই সাজানো কুপের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই বিষয়টি রেল কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। তদন্তে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, দায়িত্বে থাকা রেলকর্মীদের নজর এড়িয়েই ওই ব্যক্তি প্রিমিয়াম কোচে প্রবেশ করেছিলেন। এর জেরে ওই ডিভিশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিফ টিকিটিং ইন্সপেক্টর গিরিশ কুমারকে অবিলম্বে সাসপেন্ড করা হয়েছে।
রেল মন্ত্রকের বক্তব্য, অনুমতি ছাড়া কোনও বহিরাগত ব্যক্তির যাত্রীবাহী কোচে প্রবেশ করা নিরাপত্তার দিক থেকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিশেষ করে ফার্স্ট এসির মতো সংরক্ষিত কোচে এমন ঘটনা আগামীর জন্য বড় নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এ ছাড়াও কোন কোন জায়গায় নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ফাঁক ছিল তাও খতিয়ে দেখা হবে।
রেল সূত্রে জানানো হয়েছে, তদন্তে দোষ প্রমাণিত হলে আরও কড়া প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে, সে জন্য নিরাপত্তা প্রোটোকল আরও কঠোর করার দিকেও জোর দেওয়া হচ্ছে।
Author : সুপ্রিয় ঘোষ

