রাঁচি, ঝাড়খণ্ড: সরকারি চাকরির বিস্ময় প্রতিভা বললেও কম বলা হয় ঝাড়খণ্ডের অভয় তিওয়ারিকে। গত ১৩ বছরে তিনি ১২ টি সরকারি পরীক্ষায় পাশ করেছিলেন। বছরের পর বছর সরকারি চাকরির চেষ্টায় থাকা মানুষদের জন্য তিনি হতে পারতেন এক অনুপ্রেরণা। পুলিশের সাব ইন্সপেক্টর, নৌবাহিনীর SAR, ভাবা অ্যাটমিক রিসার্চ সেন্টারের সহকারী, আইআরবি কনস্টেবল ও সিআরপিএফের কনস্টেবল পদের পরীক্ষায় পাশ করেছিলেন তিনি।
এ ছাড়াও নর্দার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেড, ঝাড়খণ্ডের স্কুল সার্ভিস কমিশনের পোস্ট গ্র্যাজুয়েট শিক্ষকের পরীক্ষা, সিজিএল এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট কনজারভেটর অফ ফরেস্টস, ফরেস্ট রেঞ্জ অফিসার ও ফুড সেফটি অফিসার পদের জন্য পাশ করেন ঝাড়খণ্ডের পাবলিক সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষায়। সর্বশেষ, ঝাড়খণ্ডের কম্বইন্ড সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষাতেও উত্তীর্ণ হন তিনি। বর্তমানে তিনি ব্লক সাপ্লাই অফিসার হিসাবে কর্মরত ছিলেন।
তবে, সমস্যা কিন্তু অন্য জায়গায়। অভিযোগ উঠেছে অভয় কুমার তিওয়ারি নামের এই ব্যক্তি জড়িয়ে রয়েছেন ঝাড়খণ্ডের স্কুল সার্ভিস কমিশন ও ঝাড়খণ্ডের পাবলিক সার্ভিস কমিশন দ্বারা পরিচালিত হওয়া প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাগুলোয় প্রশ্ন ফাঁস ও কারচুপির ঘটনায়। এ ছাড়াও আরও অভিযোগ, এই ব্যক্তি নাকি এর জন্য একটা সংগঠিত চক্রও চালাতেন। বর্তমানে অভয়কে গ্রেফতার করেছে ঝাড়খণ্ডের ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট বা সিআইডি।
অভিযোগ TRS Data Processing Private Limited নামের যে সংস্থা এই পরীক্ষা নেওয়ার দায়িত্বে ছিল, সেই সংস্থার সঙ্গেও নাকি যুক্ত ছিলেন অভয়। যদিও এই সংস্থাকে আগেই কালো তালিকাভুক্ত করেছে উত্তর প্রদেশ সরকার। আরও অভিযোগ ব্লক সাপ্লাই অফিসার হিসাবে কাজ করতে করতেই এই সংস্থাটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি।
তদন্তকারীর বলছেন, পরীক্ষার্থী পিছু ২৫ থেকে ৪০ লক্ষ টাকা নিয়ে তিনি তাদের চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিতেন। আরও অভিযোগ, পরীক্ষার্থীদের আস্থা অর্জন করতে ও তাদের থেকে টাকা আদায় করতে অভয় নিজের সাফল্য জাহির করতেন।
ইতিমধ্যেই ঝাড়খণ্ডের পাবলিক সার্ভিস কমিশন দ্বারা পরিচালিত ও অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়মের যে অভিযোগ উঠেছে তা নিয়ে রাঁচিতে বিক্ষোভে সামিল হয়েছেন চাকরিপ্রার্থীরা। তাঁদের সঙ্গে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু করেছে রাজ্য সরকারও। উল্লেখ্য, গত ৫ জুলাই থেকে এই বিক্ষোভ শুরু হয়।
Author : সুপ্রিয় ঘোষ

