দলের কয়েকজন সহকর্মী তাঁর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে এবং তাঁকে মন্ত্রিসভা থেকে সরিয়ে দিতে তাঁর বিরুদ্ধে প্রচার চালাচ্ছেন। এমনই অভিযোগ তুলে সরব হলেন কেন্দ্রীয় আদিবাসী বিষয়ক মন্ত্রী ও বিজেপি নেতা জুয়েল ওরাঁও। তিনি সতর্ক করে দেন যে, এর সঙ্গে জড়িতদের হাত কেটে ফেলার মতো শক্তি তাঁর রয়েছে।
একটি সংঘবদ্ধ অপরাধের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ওড়িশার রাউরকেল্লায় তাঁর ঘনিষ্ঠ রাকেশ পাসওয়ান গ্রেফতার হওয়ার পর তিনি এই মন্তব্য করেছেন। যদিও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ পাসওয়ান অস্বীকার করেছেন।
সংবাদ সংস্থা পিটিআই-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওরাঁও আগেই জানিয়েছিলেন যে পাসওয়ানের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়ায় তাঁর কোনও আপত্তি নেই। উল্লেখ্য, ইস্পাত নগরীর একটি সরকারি অতিথি নিবাসে অপরাধীদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে পাসওয়ানকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ওরাঁও দাবি করেন যে, বেশ কয়েকজন বিজেপি নেতা তাঁর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার এবং তাঁকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা থেকে সরিয়ে নিজেরা মন্ত্রী হওয়ার আশায় যৌথভাবে কাজ করছেন। কেন্দ্রীয়মন্ত্রীর কথায়, "ইদানীং কিছু লোক আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করতে ও আমার অবস্থান দুর্বল করতে টাকা খরচ করছেন এবং ষড়যন্ত্র আঁটছেন। তাঁরা মনে করছেন, আমাকে বাদ দেওয়া হলে তাঁরা কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় মন্ত্রী হওয়ার সুযোগ পাবেন।"
ওড়িশার আদিবাসী-অধ্যুষিত সুন্দরগড় লোকসভা কেন্দ্র থেকে ছয়বারের নির্বাচিত সাংসদ ওরাঁও জানিয়েছেন যে, তিনি আগে আর কোনও সংসদীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতির কারণে তিনি সেই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি বলেন, "আমি আগেই ঘোষণা করেছিলাম যে আর নির্বাচনে লড়ব না। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে আমি অবশ্যই (২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচনে) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব।"
মন্ত্রী মন্তব্য করেছেন যে, তাঁর বিরুদ্ধে প্রচার চালানোর পিছনে কারা রয়েছেন তা তিনি খুঁজে বের করবেন এবং আরও জানান যে, তিনি ইতিমধ্যেই ওড়িশা বিজেপির সাংগঠনিক সম্পাদকের কাছে বিষয়টি উত্থাপন করেছেন। মন্ত্রীর সংযোজন, "আমি নিশ্চিতভাবেই তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেব। যে আমার বদনাম করবে, তাঁর হাত কেটে ফেলার... এবং সেগুলো পুড়িয়ে ফেলার ক্ষমতা আমার আছে।"
এদিকে ওরাঁওয়ের এই মন্তব্যের পর ওড়িশার ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছে বিজু জনতা দল (বিজেডি) ও কংগ্রেস। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
Author : দীপ মজুমদার

