লা বমবোনেরা: দেশের মাটিতে কি শেষ ম্যাচ খেলে ফেললেন কিংবদন্তি লিওনেল মেসি?
এবারের বিশ্বকাপই হয়তো আর্জেন্তিনার অধিনায়কের শেষ বিশ্বকাপ। হয়তো, তারপরই জুতোজোড়া চিরতরে তুলে রাখবেন মেসি। তার আগে দেশের মাটিতে শেষ ম্যাচ খেলল আর্জেন্তিনা। ম্যাচে খেললেন মেসিও। হয়তো দেশের মাটিতে জাতীয় দলের জার্সিতে তাঁর শেষ ম্যাচ খেলা হয়ে গেল।
ম্যাচে জাম্বিয়ার বিরুদ্ধে ৫-০ গোলে জিতল আর্জেন্তিনা। এবার ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে খেতাব রক্ষার লড়াই আর্জেন্তিনার। মার্চ মাসে যে কটা ফিফা ফ্রেন্ডলি ম্যাচ খেলল, তাতে এই প্রথম শুরু থেকে খেললেন মেসি। গত শুক্রবার পরিবর্ত হিসাবে বিরতির পর নেমেছিলেন মাঠে। এদিন ম্যাচের শুরুতেই তিনি গোলের পাস বাড়ান হুলিয়ান আলভারেজকে। মেসির পাস থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন আলভারেজ। মাত্র ৪ মিনিটের মাথায়।
বিরতির ঠিক আগে মেসি ব্যবধান বাড়ান। আন্তর্জাতিক ফুটবলে মেসির ১১৬ তম গোল। সব মিলিয়ে কেরিয়ারের ৯০২ গোল হয়ে গেল তাঁর।
ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে পেনাল্টি পায় আর্জেন্তিনা। তবে মেসি নিজে শট না নিয়ে নিকোলাস ওতামেন্দিকে এগিয়ে দেন। কারণ, এই ম্যাচ হয়তো ওতামেন্দিরও দেশের মাটিতে শেষ ম্যাচ। বিশ্বকাপ খেলে অবসর নেবেন ওতামেন্দি, আগেই ঘোষণা করেছেন। ৩-০ করেন ওতামেন্দি।
ম্যাচের পর ওতামেন্দি বলেছেন, 'জাতীয় দলের জার্সি গায়ে দেওয়ার চেয়ে বড় সন্তুষ্টি আর হয় না। ঘরের মাঠে এরকম বিদায় পেয়ে আমি আপ্লুত। দারুণ সফর। প্রচুর আনন্দের মুহূর্ত, দুঃখও রয়েছে। ফুটবলের প্রকৃতিই তাই। আমি জাতীয় দলের হয়ে সর্বস্ব দিয়েছি। এই জার্সির সম্মান রক্ষায় সব সময় ঝাঁপিয়েছি।'
৬৮ মিনিটে আত্মঘাতী গোল খায় জাম্বিয়া। শেষ গোলটি ভালেন্তিন বার্কোর। ৫-০ ব্যবধানে জাম্বিয়াকে চূর্ণ করে আর্জেন্তিনা। সব কিছু ঠিকঠাক চললে মার্চ মাসেই স্পেনের বিরুদ্ধে ফাইনালিসিমা খেলত আর্জেন্তিনা। কিন্তু মধ্য প্রাচ্যে যুদ্ধের জন্য সেই ম্যাচ ভেস্তে যায়।
আর্জেন্তিনার মাটিতে এটাই হয়তো শেষ ম্যাচ ছিল মেসির। আর হয়তো দেশের মাটিতে কোনওদিন খেলার সুযোগ পাবেন না। তাই আবেগ গোপন করতে পারেননি। ম্যাচ শুরুর আগে সতীর্থদের সঙ্গে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার সময় এবং গ্যালারির স্লোগান শুনে চোখের জল চেপে রাখতে পারেননি আর্জেন্তিনা। একই গ্রুপে আছে আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া এবং জর্ডন।
Author : ABP Ananda

