Dailyhunt Logo
  • Light mode
    Follow system
    Dark mode
    • Play Story
    • App Story
Municipality Election: কেউ বলছেন 'মমতাদির সঙ্গেই আছি', অনেকে মাপছেন জল, পুরভোটের আগে প্রাক্তন কাউন্সিলররা কী ভাবছেন ?

Municipality Election: কেউ বলছেন 'মমতাদির সঙ্গেই আছি', অনেকে মাপছেন জল, পুরভোটের আগে প্রাক্তন কাউন্সিলররা কী ভাবছেন ?

লকাতা : পুরভোটে কি বিজেপি NCPI-এর সঙ্গে জোট করবে? এই নিয়ে জল্পনার মধ্যেই মিশ্র প্রতিক্রিয়া উঠে এসেছে তৃণমূলের প্রাক্তন কাউন্সিলরদের গলায়। কেউ বলছেন বিজেপি অচ্ছুৎ নয়। আবার কেউ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই আছেন বলে জানিয়েছেন। আবার কোনও প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর সাফ জানিয়ে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আর রাজনীতি করবেন না।

আর এসব কিছুকে গুরুত্ব দিচ্ছে না বিজেপি। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেছেন, 'পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি একাই নির্বাচন লড়ে কলকাতা কর্পোরেশন এবং হাওড়া কর্পোরেশন দখল করতে সক্ষম।' অন্যদিকে, এনসিপিআই সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার বলছেন, 'একসঙ্গে লড়লে অনেক ফলপ্রসূ হবে বলে আমি মনে করি।'

পুরভোটে কি বিজেপি NCPI-এর সঙ্গে জোট করবে? না কি শরিকি লড়াই হবে? দিল্লির শরিক কি পশ্চিমবঙ্গে কাছাকাছি আসবে না? এই নিয়ে এখন জোর জল্পনা। তৃণমূলের প্রাক্তন কাউন্সিলরাও এখন নানা শিবিরে বিভক্ত। তাঁরাও বুঝে উঠতে পারছেন না কী হবে। যেমন ৫৭ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর ও মেয়র পারিষদ স্বপন সমাদ্দার। কলকাতার রাজনীতিতে তিনি NCPI সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ। এই স্বপন সমাদ্দারের কথায়, 'দেখুন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় আমার MP এবং উত্তর কলকাতার প্রেসিডেন্ট ছিলেন। স্বাভাবিক রাজনীতিতে তিনি অভিভাবক। মানুষ ঠিক করে নেবে কোনটা হবে আর কোনটা হবে না। সবটাই নির্ভর করছে আগামীদিনের ভবিষ্যৎ যে কীভাবে দল এবং কোর্ট মানে আদালত, আদালত কী রায় দেয়। বিজেপি কি অচ্ছুৎ তো নয়, সে তো সংবিধানগত দল। আমার কাছে সেটা কখনই কারও অচ্ছুৎ নয়।'

BJP-র সঙ্গে সেটিং? পুরভোটের আগে 'কালীঘাট-TMC' বনাম 'ঋতব্রত-TMC', কী অভিযোগে নিশানা একে অন্যকে

১১৫ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর রত্না শূর শুরু থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামী। যাই হয়ে যাক, সুযোগ পেলে তিনি কালীঘাট-তৃণমূলের হয়েই ফের পুরভোটে দাঁড়াতে চান। তিনি বলছেন, '৯৫ সাল থেকে আজ পর্যন্ত কখনও ভোটে হারিনি। প্রথমে কংগ্রেসের হয়ে দাঁড়িয়েছিলাম। ৯৫ সালে। পরে মমতা ব্যানার্জি যখন তৃণমূল কংগ্রেস করেন, সেদিন থেকে ওঁর সঙ্গে আছি। অন্যকোনও কথা ভাবার তো কোনও প্রশ্নই আসে না। এগুলো কে, NCPI খায় না মাথায় মাখে জানি না। আর বাকিদের কথা আর কী বলব। আমরা তো গদ্দার বলি তাঁদের।'

কেউ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে রয়েছেন তো কেউ বিরুদ্ধে। যেমন কলকাতা পুরসভার ১১৮ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর ও প্রাক্তন মেয়র পারিষদ তারক সিং। তিনি বলছেন, 'কার হয়ে দাঁড়াব, এটা আমি এখনও ঠিক করিনি। তবে আমি তৃণমূল মমতাপন্থী তৃণমূল হয়ে দাঁড়াব না। মমতা ব্যানার্জির সাথে দল করব না। তার থেকে মৃত্যু হলে হবে। তৃণমূলের সিম্বল যদি ওঁর নেতৃত্ব ছাড়া অন্যকারও কাছে থাকে তো অবশ্যই থাকব তাঁদের সাথে। তবে তাঁদেরও পারফরম্যান্সটা দেখব।'

আসল তৃণমূল কে? বড়দের পর এবার ময়দানে উপাসনা ও ঋজু, একে অন্যকে কী বলে কটাক্ষ করলেন তাঁরা ?

তারাতলায় গোডাউন বিপর্যয়ের প্রতিবাদে তৃণমূল ছেড়েছিলেন প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর বিশ্বরূপ দে। তিনি কী ভাবছেন? বিশ্বরূপের কথায়, 'সে প্রশ্নই ওঠে না। কারণ NCPI জিনিসটা কী তাই জানি না, তার কোনও নীতি আছে কিনা তাও জানি না, কোনও অতীত ইতিহাস আছে কিনা সেও জানি না। যার কোনও ইতিহাস নেই, যার কোনও ভবিষ্যৎ নেই, সে দলের হয়ে আমি অন্তত, দাঁড়ানোর কথা তো দূরে থাক, কোনও অনুগামী হওয়ার কথাও ভাবছি না। NCPI-এর সাথে তো আমার ধারণা, একটা লোকও নেই।'

বিধানসভা ভোটের পর তৃণমূলের ভাঙন হলেও, কালীঘাট শিবিরে রয়েছেন বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়। ৯১ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর বলছেন, টিকিট পেলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রার্থী হিসেবেই মানুষের দরবারে যাবেন। বৈশ্বানরের কথায়, 'মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস মমতাদির ছবি দেখিয়ে যেদিন থেকে নির্বাচনে জিতেছি, মোট তিনবার আমি পুরসভা নির্বাচনে জিতেছি। চৈতালি ২ বার জিতেছে। আমরা একসঙ্গে লড়াই করে ৫ বার জিতেছি। সুতরাং এখানে মমতাদি তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়া অন্য কারও...বালিশ শিবিরের অবস্থা তো জানেন। এই ধরনের অশ্লীল ভিডিও যাঁর নামে বেরিয়েছে তাঁর সঙ্গে দল করা, তার থেকে মৃত্যুবরণ করা ভাল।'

এসবকে অবশ্য় গুরুত্ব দিতে নারাজ বিজেপি। প্রাক্তন কাউন্সিলর এবং বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষের কথায়, 'বিরোধীরা আগে সোজা হয়ে দাঁড়াক, তারপর ভোটে লড়ার কথা ভাববে। কিন্তু এটা ঠিক যে, যে কোনও প্রশাসন, যে কোনও প্রতিষ্ঠান সেখানে যদি বিরোধীদের জায়গা না থাকে তাহলে সেই প্রতিষ্ঠানের মঙ্গল হয় না। আমরা শক্তিশালী বিরোধী চাই। হবে বলে তো মনে হচ্ছে না। এ যা করছে নিজেরা নিজেরা কামড়া কামড়ি।' বহু প্রাক্তন কাউন্সিলরই জল মাপছেন। অপেক্ষা করছেন বিজেপির সঙ্গে NCPI-এর জোট শেষ অবধি হয় কি না দেখার। কার, তার ওপরই নির্ভর করছে টিকিট পাওয়া, না পাওয়া থেকে শুরু করে জয়-পরাজয়ের সমীকরণ।

Author : সোহিনী চক্রবর্তী

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: ABP Ananda