নেপালে ২৬ অগাস্টের সেই অভিশপ্ত দিন। হিমবাহ হ্রদ ফেটে ভয়াবহ বিপর্যয়। এক লহমায় মৃত্যুপুরী হয়ে যাওয়া একের পর এক জনপদ। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বিপর্যয় কিন্তু একদিনে ঘটেনি। তিল-তিল করে তৈরি হচ্ছিল কারণ। তবে এখন নেপালের পরিস্থিতি দেখে প্রমাদ গুণছে ভারত। তাহলে কি ভারতের পাহাড়ি এলাকাতেও এমন বিপর্যয় আসন্ন ?
ঝুঁকিতে কি দার্জিলিং, শিলিগুড়িও ? ভারতে বেশ কয়েকটি রাজ্যে চলছে দুর্যোগ। ভাসছে সমতল। বিভিন্ন নদী বইছে বিপদসীমার উপর দিয়ে। জলস্তর বৃদ্ধির প্রভাব স্পষ্ট পশ্চিমবঙ্গের ফারাক্কা ব্যারেজেও। উত্তর ও পূর্ব ভারতে একের পর এক নিম্নচাপের প্রভাবে বর্ষা এখন বেশ সক্রিয়। তার মধ্যেই নেপালের এই হিমবাহ হ্রদ বিপর্যয় । এর ফলে কি আরও বিপদে পড়তে পারে ভারত ? বিশ্লেষণ করলেন আবহবিদ রবীন্দ্র গোয়েঙ্কা।
বিহার ও উত্তরপ্রদেশে ইতিমধ্যেই তৈরি হওয়া বন্যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে নেপালের বন্যা । বিপুল পরিমাণ জল উত্তরপ্রদেশ ও বিহারের বিভিন্ন নদী ও গঙ্গার উপনদীগুলোর মাধ্যমে নেমে আসছে সমতলে। এর ফলে কৃষিনির্ভর বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের জীবন ও জীবিকা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। সেই জল ধীরে ধীরে ফারাক্কা ব্যারেজের দিকে চলে আসছে ।ফারাক্কার জলস্তর এখন বিপজ্জনক। পরিস্থিতি সামাল দিতে বেশ কিছু ব্যারেজের গেট খুলে দেওয়া হয়েছে। খোলা হয়েছে ফিডার ক্যানালও। এই ক্যানালের মাধ্যমে গঙ্গার জল ভাগীরথী নদীতে যায়, যা পরে হুগলি নদী হয়ে কলকাতার পাশ দিয়ে প্রবাহিত হয়। এভাবেই পশ্চিমবঙ্গের সমতলে এসে পড়েছে নেপালের বন্যার প্রভাব।
নেপালে বন্যা পরিস্থিতি আরও মন্দ হলে কী ক্ষতি হবে উত্তরবঙ্গে ?
নেপালের পাহাড়ি এলাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের নদীগুলোর একটি সরাসরি জল-সংযোগ রয়েছে। মহানন্দা, ফুলহার এবং তাদের উপনদীগুলোর মাধ্যমে নেপাল থেকে নেমে আসা জল উত্তরবঙ্গের দিকে পৌঁছতে পারে। এই নদীগুলোর অনেকগুলি কিন্তু দক্ষিণবঙ্গের বড় নদীগুলোর তুলনায় শীর্ণ। ফলে নেপাল থেকে হঠাৎ বিপুল পরিমাণ জল নেমে এলে তা গঙ্গায় পৌঁছনোর আগেই উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ সমভূমি এলাকায় জল ঢুকে পড়তে পারে। এর সঙ্গে যদি একই সময়ে আরও ভারী বৃষ্টি হয়, তাহলে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে শুধু ফসলের ক্ষতি নয়, মানুষের বসতি, রাস্তা, সেতু এবং অন্যান্য পরিকাঠামোর ওপরও বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
দক্ষিণবঙ্গের জন্য কোথায় তৈরি হতে পারত বড় বিপদ?
দক্ষিণবঙ্গের পরিস্থিতি কিছুটা আলাদা। এখানে বিপদের মাত্রা অনেকটাই নির্ভর করত গঙ্গা-ভাগীরথী-হুগলি নদী ব্যবস্থার জলস্তর এবং একই সময়ে কতটা বৃষ্টি হচ্ছে তার ওপর। ধরা যাক, একদিকে নেপাল থেকে বিপুল জল আসছে। সেই সঙ্গে যদি বঙ্গোপসাগরেকোনো নিম্নচাপের তৈরি হয়, তাহলে বৃষ্টির প্রভাবে হুগলি নদীর জলস্তর দ্রুত বেড়ে যেতে পারে। হুগলি নদী থেকে ভাগীরথীর দিকে উল্টো স্রোত তৈরি হতে পারে।
ঝাড়খণ্ডের বৃষ্টিও বাড়াতে পারে চাপ
আরেকটি বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ। বঙ্গোপসাগর থেকে তৈরি নিম্নচাপ অনেক সময় পশ্চিম দিকে ঝাড়খণ্ডের দিকে সরে যায়। এই সময় ঝাড়খণ্ডে ভারী বৃষ্টি হলে সেখানকার নদী ও জলাধারগুলোর জলস্তরও দ্রুত বাড়তে পারে। এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে ঝাড়খণ্ড এবং পশ্চিমবঙ্গের সংলগ্ন এলাকায়। বিশেষ করে দামোদর উপত্যকার বাঁধ ও ব্যারেজগুলোতে তখন অতিরিক্ত চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। অর্থাৎ একই সময়ে যদি নেপাল থেকে জল গঙ্গায় নামে, উত্তরবঙ্গের নদীগুলো ফুঁসে ওঠে, দক্ষিণবঙ্গে ভারী বৃষ্টি হয় এবং ঝাড়খণ্ডেও প্রবল বর্ষণ শুরু হয়, তাহলে সব নদীর ওপরই চাপ বেড়ে যাবে। প্রকৃতির বিপর্যয় হয়তো ঠেকানো যাবে না, কিন্তু আগাম সতর্কতা,উপযুক্ত ব্যবস্থা নিলে ক্ষয়ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
১২৫ বছরে ঘটেনি এমনটা ! এবার অগাস্টে ভারতের আবহাওয়া নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য
Author : নিবেদিতা বন্দ্যোপাধ্যায়

