নেপালের সেই বাড়ি। ভয়াল হড়পা বান তখন হু হু করে এগিয়ে আসছে রাক্ষুসে গতিতে। কাদা আর জলের কালো স্রোত যেন গিয়ে খেতে আসছে। প্রচণ্ড তোড়ে সবকিছু ধূলিসাৎ। চারিদিকে শুধুই লাভাস্রোতের মতো কালো জল। গুঁড়িয়ে দিতে দিতে এগিয়ে এল সেই বাড়িটির দিকে। সবকিছু ভাঙতে ভাঙতে চললেও, চাপের মুখে অটল, অবিকৃত রয়ে গেল সেই বাড়ি।
বারান্দায় দাঁড়িয়ে যেন সাক্ষাৎ মৃত্যুকে পেরিয়ে যেতে দেখলেন বাড়ির বাসিন্দারা। যে বিপর্যয়ের মুখে টিকতে পারেনি গাড়ি-বাড়ি-বহুতল, সেখানে কোন যাদুবলে টিকে রইল ওই বাড়ি ? অবাক চোখে দেখল মানুষ। কীভাবে বেঁচে গেলেন, এখনও উত্তর নেই কারও কাছে।
মৃত্যুকে কাছ থেকে দেখা পরিবারের কর্ত্রী শুধু জানালেন, "আমরা বেঁচে গিয়ে নিজেদের ভাগ্যবান মনে করছি। এটা আমাদের জন্য দ্বিতীয় জন্মের মতো। বন্যার জল আমার বাড়িতে ঢুকে পড়ায় আমরা দোতলায় উঠে গিয়েছিলাম। এমন কী নেপালের ভূমিকম্পের সময়ও আমরা প্রচণ্ড কম্পন অনুভব করেছিলাম এবং কাছের বাড়িগুলো ধসে পড়েছিল। আমাদের প্রতিবেশীরা আমাদের উদ্ধার করে বাঁচিয়েছিলেন।" লক্ষ্মী পান্ডে জানালেন , বাড়ির কাছাকাছিই তাঁদের দোকান। বিপর্যয়ের আভাস পেয়ে ছুটে এসেছিলেন বাড়িতে , বৃদ্ধা শাশুড়ি ও মেয়েকে রক্ষা করতে। কিন্তু কিছু বুঝে ওঠার আগেই ভয়ানক গতিতে চলে আসে জল। তখন কোনওরকমে উপরের তলায় উঠে যান তাঁরা। কিন্তু আশাই করেননি , এ যাত্রায় বেঁচে যাবেন। এখনও তাই ঘোর কাটিয়ে উঠতে পারছেন না পুরো পরিবার।
সর্বস্ব হারিয়েও নতুন করে শুরু করার চেষ্টা করছেন ধাদিং। ঘরবাড়ি, দোকান সাফাইয়ের কাজ চলছে। গ্রামের পাইকারি দোকানে নষ্ট হয়ে গেছে সমস্ত পণ্যসামগ্রী। তারফলে টান পড়েছে গ্রামের রসদে। দিনরাত এক করে এখন শুধু সাফাইয়ের কাজে ব্যস্ত স্থানীয় বাসিন্দারা। হড়পা বান বিপর্যস্ত নেপালে এখনও কাদা সরালেই বের হচ্ছে দেহ। অনেক পরিবার তার হারানো সদস্যর দেহ ফিরে পেয়েছেন, কেউ সেটাও পাননি। জোরকদমে চলছে সাফাইয়ের কাজ। বহু বাড়ির ভিতরে এখন শুধুই কাদামাটি। ধ্বংস হয়ে গেছে দোকানপাট। সর্বস্ব হারিয়েছেন বহু মানুষ, হারিয়েছেন প্রিয়জনকে । তবে সব সাফাই করে স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে ফেরার চেষ্টা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এরই মাঝে নিজেরা নিরাপদে থাকতে পেরে অবাক বন্যা থেকে রক্ষা পাওয়া সবুজ রঙের বাড়িটির মালিক লক্ষ্মী পান্ডে।
১২৫ বছরে ঘটেনি এমনটা ! এবার অগাস্টে ভারতের আবহাওয়া নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য
Author : নিবেদিতা বন্দ্যোপাধ্যায়

