বিশ্বকাপ থেকে যন্ত্রণার বিদায়। বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা অগুনতি ভক্তর চোখে জল এনে দিয়ে ফুটবল বিশ্বকাপ (Fifa World Cup 2026) থেকে বিদায় নিল ব্রাজিল। রাউন্ড ১৬-তে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলের ব্যবধানে হেরে গেল তারা। আর তার সঙ্গে সঙ্গে শেষ হয়ে গেল এবারের মতো নেমার। আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের কথা ঘোষণা করে দিলেন তিনি।
নরওয়ের বিরুদ্ধে ম্যাচ শেষ হতেই ১৬ বছরের কেরিয়ারে ইতি টানেন বছর ৩৪-এর ফুটবলার।
নিউ জার্সিতে আবেগঘন রাত। চোখে জল নেমারের। তারপরেই অবসর ঘোষণা। নেমার স্টপেজ টাইমে পেনাল্টি থেকে গোল করা সত্ত্বেও হল না শেষরক্ষা। নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল ব্রাজ়িল। হারের পর আবেগাপ্লুত নেমার জানালেন যে, শেষ একটি বিশ্বকাপ খেলায় ফেরার জন্য তিনি সর্বস্ব উজাড় করে দিয়েছিলেন। তবে আন্তর্জাতিক ফুটবলে তাঁর অধ্যায় এখন সমাপ্ত। নেমার বলেন, 'আমি চেষ্টা করে গেছি। কিন্তু, এবার শেষ। আমি এখানে শুরু করেছিলাম, এখানেই শেষ করলাম।'
এই টুর্নামেন্টে নেমারকে শারীরিক নানা পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। চোট নিয়ে বিশ্বকাপে আসায় তিনি ব্রাজিলের শুরুর দিকের ম্যাচগুলোতে খেলতে পারেননি। তবে ধীরে ধীরে তিনি কার্লো আনসেলত্তির পরিকল্পনায় নিজের জায়গা করে নেন। পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠার পরেও এই ব্রাজিলীয় তারকাকে মূলত বদলি খেলোয়াড় হিসেবেই মাঠে নামানো হয়েছিল—স্কটল্যান্ড ও নরওয়ের বিপক্ষে তিনি বদলি হিসেবেই খেলেছেন। ব্রাজিলের জার্সিতে তাঁর শেষ গোল এল নরওয়ের বিপক্ষে স্টপেজ টাইমের একেবারে শেষ মুহূর্তে পেনাল্টি থেকে। তবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়ায় সেই গোল কেবল সান্ত্বনা হিসেবেই রয়ে গেল।
২০১০ সালে সিনিয়র দলে অভিষেকের পর ১২৯টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে ৮০টি গোল করে ব্রাজিলের পুরুষ ফুটবলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে নেমার বিদায় নিচ্ছেন। চারটি ফিফা বিশ্বকাপ জুড়ে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি ছিলেন ব্রাজিলীয় ফুটবলের প্রধান মুখ। ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ শিরোপাটি পুনরুদ্ধারে মরিয়া একটি দেশের প্রত্যাশার ভার তিনি নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন। যদিও শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ জয় অধরাই থেকে গেল। তবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নেমার বেশ কিছু স্মরণীয় মুহূর্তের সাক্ষী হয়েছেন—যার মধ্যে রয়েছে ২০১৩ সালে ফিফা কনফেডারেশন্স কাপ জয় এবং ঘরের মাঠে ২০১৬ রিও অলিম্পিকে ব্রাজিলকে স্বর্ণপদক জয়ে নেতৃত্ব দেওয়া (এর আগে ২০১২ সালের লন্ডন গেমসে রৌপ্যপদক জয়)।
Author : দীপ মজুমদার

