আজ অপারেশন সিঁদুরের বর্ষপূর্তি। গত বছর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের সামরিক অভিযানের চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করলেন এয়ার মার্শাল অবধেশ কুমার ভারতী। জয়পুরে সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, এই অপারেশন সিঁদুরের সময় পাকিস্তানকে দুরমুশ করে দেয় ভারতের বাহিনী। শত্রুদেশের ১৩টি বিমান ধ্বংস করার পাশাপাশি ১১টি এয়ারফিল্ড বা বিমানঘাঁটি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয় ভারতের হামলায়।
এই অপারশেন প্রসঙ্গে তৎকালীন এয়ার অপারেশনসের ডিরেক্টর জেনারেল তথা বর্তমান বিমান বাহিনীর ডেপুটি চিফ এয়ার মার্শাল ভারতী বলেন, "অপারেশন সিঁদুর চলাকালীন পাকিস্তান ও পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে (PoK) অবস্থিত ৯টি জঙ্গি ঘাঁটি পুরোপুরি ধ্বংস করা হয়। পাল্টা পাক হানায় ভারতের কোনও অসামরিক বা সামরিক পরিকাঠামোর ক্ষতি হয়নি।
অপারেশন সিঁদুর চলাকালীন সশস্ত্র বাহিনীকে পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছিল। স্থলপথ, নৌপথ ও আকাশপথের তিন বাহিনীর নেতৃত্বের সমন্বয়ে সব কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই ক্ষেত্রে টার্গেটেড স্ট্রাইকে মন দিয়েছিল ভারত। মূল লক্ষ্য ছিল, সন্ত্রাসবাদ ও পাকিস্তান মদতপুষ্ট জঙ্গি পরিকাঠামো ধ্বংস করা। পাশাপাশি এই হামলায় দেশের সাধারণ মানুষের যাতে কোনও ক্ষতি না হয়, সেদিকেও কড়া নজর রাখা হয়েছিল।
কেন পরে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়েছিল, এই বিষয়ে এয়ার মার্শাল বলেন, "আমি সাধারণ মানুষের বিশেষ করে যুবসমাজের আবেগ ও ক্ষোভ বুঝতে পারছি। তবে যেকোনও যুদ্ধের একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য বা 'টার্মিনেশন ক্রাইটেরিয়া' থাকা প্রয়োজন। আমাদের লক্ষ্য পূরণ হয়েছিল ও পাকিস্তানের পক্ষ থেকে সংঘর্ষ থামানোর অনুরোধ আসার পর আমরা পিছু হটেছি, কিন্তু আমরা চোখ সরাইনি।"
এই বলেই থেমে থাকেনি এয়ার মার্শাল। পাকিস্তান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "আমরা এই বিষয়ে স্পষ্ট করে দিয়েছি যে, যেকোনও হঠকারিতার যোগ্য জবাব দেওয়া হবে। সন্ত্রাসবাদের ফল ভোগ করতেই হবে। এই ক্ষেত্রে কাউকে রেয়াত করা হবে না"
এয়ার মার্শাল ভারতীর মতে, এই অভিযানের পর পাকিস্তানে লুকিয়ে থাকা সন্ত্রাসবাদীরা এখন চিন্তিত। কারণ ভারত এখন শত্রুর সক্ষমতা ও কৌশল সম্পর্কে সম্যক ধারণা রাখে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, 'অপারেশন সিঁদুর' দেখিয়ে দিয়েছে আকাশপথে ভারত কতটা শক্তিশালী। পাকিস্তানকে দুরমুশের মাধ্যমেই এই সাফল্য এসেছে।

