নয়াদিল্লি: পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের নারোয়াল এলাকায় শতাব্দী প্রাচীন একটি হিন্দু মন্দির ধ্বংসের ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানাল ভারত। সিরাজ গ্রামের ওই ঐতিহাসিক মন্দিরটি ১০০ থেকে ১২৫ বছরের পুরনো বলে জানা গিয়েছে। মন্দিরটি ধ্বংসের ঘটনায় পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় স্থাপনা রক্ষায় ব্যর্থতার অভিযোগ উঠেছে।
ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল ঘটনাটিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, একটি শতাব্দী প্রাচীন সংখ্যালঘু উপাসনাস্থল রক্ষা করতে প্রশাসনের ব্যর্থতা এবং উদাসীনতা অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়। ভারত এই ঘটনার দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত দাবি করেছে।
মন্দির ভাঙা হল, নাকি বৃষ্টিতে ধসে পড়ল?
এই ঘটনাতেই তৈরি হয়েছে মূল বিতর্ক।
পাকিস্তানের সংখ্যালঘু সংগঠন এবং স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, মন্দিরটি ইচ্ছাকৃতভাবে ভেঙে ফেলা হয়েছে। তাঁদের দাবি, সংলগ্ন একটি মাদ্রাসার জমির সঙ্গে মন্দিরের জমি যুক্ত করার উদ্দেশ্যেই এই পদক্ষেপ করা হয়ে থাকতে পারে। মন্দির ভেঙে ফেলার পর সেখান থেকে ইট, গম্বুজের ধাতব অংশ এবং অন্যান্য সামগ্রী সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
অন্যদিকে পাকিস্তানের Evacuee Trust Property Board (ETPB) এই অভিযোগ মানতে নারাজ। বোর্ডের এক আধিকারিকের দাবি, প্রবল বৃষ্টির জেরে পুরনো কাঠামোটি ধসে পড়েছে। একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেছেন, মন্দিরটি অত্যন্ত পুরনো—প্রায় ১০০ থেকে ১২৫ বছরের।
ফলে মন্দিরটির পরিণতি নিয়ে এখনও প্রশ্ন রয়েছে—সত্যিই কি প্রবল বৃষ্টিতে মন্দিরটি ভেঙে পড়েছিল, নাকি পরিকল্পিতভাবে সেটি ধ্বংস করা হয়েছিল? তদন্তেই তার উত্তর মিলতে পারে।
কী দাবি ভারতের?
ভারত পাকিস্তানকে এই ঘটনার দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত করার পাশাপাশি দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। একইসঙ্গে মন্দিরটি পুনরুদ্ধার বা পুনর্নির্মাণের জন্য অবিলম্বে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বলেছে নয়াদিল্লি।
ভারতের বক্তব্য, এই ধরনের ঘটনা পাকিস্তানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দেয়। সংখ্যালঘুদের উপাসনাস্থল সুরক্ষিত রাখা পাকিস্তান সরকারের অন্যতম দায়িত্ব বলেও জানিয়েছে ভারত।
পাকিস্তানেও উঠেছে তদন্তের দাবি
ঘটনাটি শুধু ভারতেই নয়, পাকিস্তানের মধ্যেও বিতর্ক তৈরি করেছে। সংখ্যালঘু অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলি ঘটনার তদন্ত এবং মন্দির পুনর্নির্মাণের দাবি তুলেছে। স্থানীয় হিন্দু নেতারাও ঐতিহাসিক মন্দিরটির পুনরুদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন।
এখন নজর থাকবে পাকিস্তানি প্রশাসনের তদন্তের দিকে। মন্দিরটি প্রাকৃতিক কারণে ধসে পড়েছিল, নাকি পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হয়েছিল—তদন্তের ফলই সেই প্রশ্নের উত্তর দেবে।
Author : পল্লবী দে

