মুম্বই: 'গজনি' সিনেমায় তাঁর চরিত্র দর্শকদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার করেছিল, 'লগান'-এ আবার তাঁর সাহসিকতা উদ্বুদ্ধ হয়েছিলেন 'ভুবন' আমির। বলিউড থেকে তামিল, তেলেগু বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করেছেন তিনি। সেই প্রদীপ রাওয়াতই (Pradeep Rawat) চলে গেলেন। ৭৪ বছর বয়সে কোকিলাবেন হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয় বলে জানা যাচ্ছে।
ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হলেন তিনি। যদিও তাঁর পরিবারের তরফে এখনও কিছু জানানো হয়নি।
ব্লাড ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই চলছিল। সেই লড়াইয়ে শেষে ৭৪ বছর বয়সে না ফেরার দেশে চলে গেলেন প্রদীপ। আমির খানের গজনিতে খলনায়কের চরিত্রে অভিনয় করে খ্যাতির শিখরে পৌঁছেছিলেন প্রদীপ। তবে তার বহু আগে থেকেই বিভিন্ন সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের অভিনয়ের দক্ষতায় দর্শকদের মন জিতেছিলেন প্রদীপ। এছাড়াও আমির খানের সঙ্গে 'সরফরশ থেকে 'লগান', অক্ষয় কুমারের সঙ্গে 'রাউডি রাঠৌর', অতীতে 'মহাভারত'-এ অশ্বথামার চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা গিয়েছে তাঁকে।
মূলত খলনায়কের চরিত্রেই রুপোলি পর্দায় দেখা গেলেও, আরও ভিন্ন ধরনের না না চরিত্র এবং অভিনয়ের দক্ষতায় দর্শকদের মনে দাগ কেটেছিলেন তিনি। তবে গজনিই তাঁকে দেশজুড়ে দর্শকদের প্রশংসা, বাহবা কুড়োতে সাহায্য করে। তবে খবর অনুযায়ী সেই প্রদীপই দীর্ঘ সময় ধরে ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই চালাচ্ছিলেন। চার বছর আগে তিনি ক্যান্সারকে পরাজিতও করেন। তবে ফের ক্যান্সার আক্রান্ত হওয়ায় বিগত মাসখানেক ধরেই তিনি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন বলে শোনা যাচ্ছে।
১৯৮৫ সালে রাজ বব্বরের 'অ্যায়েতবার' দিয়ে তিনি বলিউডে নিজের সফর শুরু করেন। তবে সেই সিনেমায় খ্যাতি পেলেও, পরবর্তীতে তেমন বড় চরিত্র বা খ্যাতি পাচ্ছিলেন না। তারপরেই ১৯৮৮ সালে তিনি বি আর চোপড়ার মহাভারতে অশ্বথামার চরিত্রে অভিনয় করার সুযোগ পান। সেই চরিত্র প্রথম তাঁকে গোটা দেশের ঘরে ঘরে পৌঁছতে সাহায্য করে।
এরপরে কন্নড়, তামিল, তেলেগুসহ আরও একগুচ্ছ ভাষয় পাঁচ দশক ধরে কাজ চালিয়ে গিয়েছেন তিনি। প্রদীপের খলনায়ক চরিত্রগুলি দর্শকদের মনে দাগ কাটলেও, অফস্ক্রিন কিন্তু তাঁর সহকর্মী, অন্যান্য অভিনেতারা তাঁকে অত্যন্ত মিষ্টভাষী, উদার একজন মানুষ বলেই দাবি করতেন। তাঁর প্রয়াণে ভারতীয় চলচ্চিত্র জগত, নিঃসন্দেহেই এক দুরন্ত অভিনেতা হারাল, যার অভিনয় সকলের মনে দাগ কেটেছে এবং দর্শকের মনে তাঁকে চিরস্মরণীয় করে রাখবে।
Author : ঋষভ রায়

