কলকাতা: ১৩ বছর পর জেল থেকে ছাড়া পাচ্ছেন সারদা কর্তা সুদীপ্ত সেন (Sudipto Sen)। তাঁর জামিনের আবেদনে অবশেষে সাড়া বিধানসভা নির্বাচনের (WB Assembly Election 2026) ঠিক আগেই সুদীপ্ত সেনকে (Sudipto Sen) জামিনের নির্দেশ বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজের ডিভিশন বেঞ্চের। রাজ্য পুলিশের হতে থাকা ২টি মামলায় হাইকোর্টে জামিন পেলেন সারদা কর্তা।
সুদীপ্ত সেনের এই জামিন পাওয়া নিয়ে আইনজীবীরা বলছেন, "বর্তমানে সারদা কর্তার জেলমুক্তি নিয়ে আর কোনও আইনি বাধা নেই।" আজ জামিন মঞ্জুর হয়ে যাওয়ার ফলে হয়তো আগামিকালই জেল থেকে মুক্ত হবেন তিনি। সারদা কর্তার বিরুদ্ধে সব মিলিয়ে মোট ৩৮৯টি মামলা ছিল। এর মধ্যে ৭৭টি মামলা দায়ের করা হয়েছিল CBI -এর তরফে। আগেই ৩৮৭টি মামলায় জামিন পেয়েছিলেন তিনি। এবার বাকি ২টো মামলাতেও জামিন পেলেন তিনি। প্রসঙ্গত, এই দুটো মামলায় দায়ের কথা হয়েছিল বারাসত থানায়।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ২৭ এপ্রিল সারদা চিট ফান্ড মামলায় গ্রেফতার হন সুদীপ্ত সেন। বিধাননগর থানা কাশ্মীরের সোনমার্গ থেকে গ্রেফতার করা হয় সুদীপ্ত সেনকে। সারদাকাণ্ডে জামিন চেয়ে সওয়াল করেন সুদীপ্ত সেনের আইনজীবী। তিনি আদালতে বলেন, এক দশক আগে চার্জশিট দেওয়া হলেও, একদশক পরেও কোনও নথি পাননি সুদীপ্ত সেন। অন্য দিকে সারদা মামলায় জামিন দিয়ে আদালতের পর্যবেক্ষণ, "এখনোও ট্রায়াল শুরুই হয়নি। ফলে সুদীপ্ত সেনকে জামিন দেওয়া হলে আমানতকারীদের টাকা ফেরত পেতে সাহায্য করতে পারেন তিনি"।
কলকাতা হাইকোর্টের মনে হয়েছে, যে সব সংস্থা তদন্ত করছে, তাদের কাজে একাধিক খামতি দেখা গিয়েছে। এর মধ্যে যেমন রয়েছে CBI, তেমনই রয়েছে রাজ্য পুলিশ। আর সেই কারণেই এই মুহূর্তে কলকাতা হাইকোর্ট সুদীপ্ত সেনকে হেফাজতে রাখার প্রয়োজন আছে বলে মনে করছে না। আর সেই কারণেই একাধিক শর্ত দিয়ে কলকাতা হাইকোর্ট তাঁর জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেছে।
এখানে আইনজীবীর বলছেন, কলকাতা হাইকোর্টের তরফে যে সব শর্ত দেওয়া হয়েছে, সেই সব শর্ত যদি সুদীপ্ত সেন পুরণ করতে পারেন, তাহলেই তিনি আগামিকাল জেল মুক্তি হতে পারে তাঁর। উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে যখন এই প্রতারণার ঘটনা সামনে আসে তখন উত্তাল হয়ে উঠেছিল রাজ্য। বিনিয়োগকারীদের চোখের জল দেখেছিল রাজ্যের মানুষ।
Author : ABP Ananda

