শান্তনু নস্কর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: আগ্নেয়াস্ত্র সহ তৃণমূল নেত্রীর দাদাকে গ্রেফতার করল ঘুটিয়ারি শরিফ পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ, উদ্ধার ২টি লম্বা দেশি বন্দুক। ধৃত ক্যানিং ২ পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যা রহিমা লস্কর এর দাদা পিন্টু লস্কর। ধৃতকে সোমবার রাতে ঘুটিয়ারি শরিফ এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
ধৃত হেরোইন গাঁজার ডিলার ছিল। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে গা ঢাকা দিয়েছিলো। দীর্ঘদিন ধরে পুলিশ পিন্টুকে খুঁজছিল। দিদি রহিমা লস্করের রাজনৈতিক ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে ধৃত এই অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছিল। এর আগে বিধানসভা নির্বাচনের পর পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর ও পুলিশের উপর আক্রমণ করার অভিযোগে ধৃতের বোন তথা তৃণমূল নেত্রী রহিমা লস্করকে গ্রেফতার করা হয়। এবার তাঁর দাদা পিন্টু লস্কর। ধৃতের কাছ থেকে দুইটি লম্বা দেশি বন্দুক উদ্ধার করা হয়েছে। ধৃতকে আজ আলিপুর আদালতে তুলে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার জন্য আবেদন জানিয়ে জীবনতলা থানার পুলিশ।
গত মাসের শেষের দিকে গোসাবা থেকে একটি খবর এবিপি লাইভেই প্রকাশিত হয়েছিল যে বেআইনি অস্ত্র মামলায় বিপাকে পড়েছিলেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার গোসাবার এক তৃণমূল নেতা। সেই নেতার বাড়ির কাছের পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল আগ্নেয়াস্ত্র ও কার্তুজ। সুবিদ আলি ওরফে ঝোড়ো ঢালি নামে সেই তৃণমূল নেতাকে গত ১৭ জুলাই গ্রেফতার করা হয়েছিল জীবনতলা থানার পুলিশের মাধ্যমে। ধৃতের বিরুদ্ধে রয়েছে একাধিক অভিযোগ। সেই মামলায় বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন তিনি। এবার সুবিদ আলি ওরফে ঝোড়ো ঢালীর বাড়ি সংলগ্ন পুকুর থেকে উদ্ধার হল আগ্নেয়াস্ত্র ও কার্তুজ। পুলিশ সূত্রে খবর, জেরার মুখে পুকুরে অস্ত্র লুকিয়ে রাখার কথা স্বীকার করেন গোসাবার ওই তৃণমূল নেতা। এরপর তাঁকে সঙ্গে নিয়ে ওই পুকুরে তল্লাশি চালায় গোসাবা থানা। পুলিশ সূত্রে খবর, উদ্ধার হয়েছে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৪ রাউন্ড কার্তুজ। এই ঘটনায় ধৃতের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনের নতুন করে মামলা রুজু করা হয়েছে গোসাবা থানায় । এর পিছনে কোনও অস্ত্র চোরাচালান চক্রের যোগ আছে কিনা তা জানতে শুরু করা হয়েছে তদন্ত। কী কারণে অস্ত্র লুকিয়ে রাখা হয়েছিল, এইসব অস্ত্র কোথাও পাচারের ছক ছিল নাকি অন্য কোনও কাজে ব্যবহার করার উদ্দেশ্য ছিল - সব সম্ভাবনাই খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা।
Author : গৌতম রায়

