নয়াদিল্লি: নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীন ভাবে কাজ করতে হবে, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড দ্বারা প্রভাবিত হওয়া চলবে না বলে মন্তব্য করলেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বি ভি নাগরত্ন। তাঁর মতে, গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার মর্যাদা রক্ষা করতে নির্বাচন কমিশন এবং কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর (CAG)-এর মতো সংস্থাগুলিকে অবশ্যই স্বাধীন ভাবে কাজ করতে হবে, রাজনৈতিক প্রভাব থেকে মুক্ত থাকতে হবে।
কেন্দ্র এবং রাজ্যের সম্পর্ক নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন তিনি। (Justice B V Nagarathna)
পাটনার চাণক্য ন্যাশনাল ল ইউনিভার্সিটিততে আয়োজিত ডঃ রাজেন্দ্রপ্রসাদ মেমোরিয়াল লেকচারে এমন মন্তব্য করেন বিচারপতি নাগরত্ন। তিনি জানান, সাধারণ রাজনৈতিক কার্যকলাপে যখন নিরপেক্ষতা এবং জবাবদিহিতার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা থাকে না, সেই সময় যাতে তদারকি করা যায়, তার জন্য সুচিন্তিত ভাবেই বিশেষ কিছু প্রতিষ্ঠানের সৃষ্টি করেছে সংবিধান। (Supreme Court Justice on Election Commisison)
বিচারপতি নাগরত্ন আরও জানান, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩২৪-এ নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক গুরুত্বের উল্লেখ রয়েছে। বলা হয়েছে, নির্বাচন শুধুমাত্র পর্যায়ক্রমিক কার্যকলাপ নয়, বরং প্রধান কার্যপদ্ধতি, যার মাধ্যমে রাজনৈতিক কর্তৃত্বের প্রতিষ্ঠা হয়। নির্বাচনী প্রক্রিয়ার উপর কতটা নিয়ন্ত্রণ, তা গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার শর্তাবলী নির্ধারণ করে।
এ প্রসঙ্গে প্রাক্তন নির্বাচন কমিশনার টিএন শেষান বনাম ভারত সরকারের মামলায় সুপ্রিম কোর্টের রায়ের উল্লেখ করেন বিচারপতি নাগরত্ন। জানান, আদালত নির্বাচন কমিশনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক সংস্থা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। নির্বাচনের বিশুদ্ধতা বজায় রাখার গুরুদায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে কমিশনের হাতে। নির্বাচন শুধুমাত্র নির্দিষ্ট সময় অন্তর কোনও আয়োজন নয়, বরং নির্বাচনের মাধ্যমেই রাজনৈতিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়। যথা সময়ে নির্বাচন হয় বলেই নির্বিঘ্নে এবং সুষ্ঠ ভাবে সরকারের পালাবদল ঘটে। সেই প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করার অর্থ রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার যে পরিবেশ রয়েছে দেশে, তাকেও নিয়ন্ত্রণ করা।
সাংবিধানিক কাঠামো যদি ক্রমশ ফাঁপা হয়ে যায়, সেক্ষেত্রে বিপর্যয় নেমে আসতে পারে বলেও সতর্ক করেন বিচারপতি নাগরত্ন। তাঁর বক্তব্য, 'প্রতিষ্ঠানগুলি পরস্পরের উপর নজরদারি চালানো বন্ধ করে দিলেই সাংবিধানিক কাঠামো ভেঙে পড়ে। তেমন পরিস্থিতিতেও হয়ত নির্বাচন হয়, আদালতও হয়ত বসে, সংসদও হয়ত চলতে থাকে, কিন্তু নিয়ন্ত্রণ থাকে না ক্ষমতার উপর। কারণ তখন আর শৃঙ্খলা অবশিষ্ট থাকে না।'
কেন্দ্র এবং রাজ্যের সমীকরণ নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন বিচারপতি নাগরত্ন। তাঁর মতে, কেন্দ্র এবং রাজ্যের সম্পর্ক অবশ্যই সাংবিধানিক শাসনের দ্বারা চালিত হতে হবে। কোথায় কোন দল ক্ষমতায় রয়েছে, তার উপর এই সম্পর্ক নির্ভরশীল হতে পারে না। শাসন এবং উন্নয়নের প্রশ্ন জড়িয়ে যেখানে, সেখানে কোনও রাজ্যের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ কাম্য নয়। সংবিধানের বেঁধে দেওয়া কিছু বিধির বাইরে, রাজ্যের সরকার কেন্দ্রের আজ্ঞাবহ নয়। তাই কেন্দ্রে যে রাজনৈতিক দলই থাকুক না কেন, তাদের প্রাপ্য মর্যাদা দিতেই হবে। এক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন দলীয় রাজনৈতিক আদর্শ করিয়ে রাখা উচিত।
Author : পম্পা অধিকারী সিংহ

