তারাপীঠ : মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথমবার বীরভূমে এলেন শুভেন্দু অধিকারী। ডালা মাথায় নিয়ে তারাপীঠ মন্দিরে ঢুকে পুজো দিলেন ষোড়শপচারে। করলেন আরতিও। শনিবার রামপুরহাটে মুখ্যমন্ত্রী প্রশাসনিক বৈঠক করবেন। সেই বৈঠকে যোগ দিতে আসেন NCPI সাংসদ শতাব্দী রায়ও। যোগ দিলেন অসীত মালও।
এদিন তারাপীঠ মন্দিরে পুজো-অঞ্জলি দেন শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী হয়ে এই প্রথম বীরভূমে এলেন তিনি।
সামনেই কৌশিকী অমাবস্যা। তার আগে প্রস্তুতি নিয়ে রামপুরহাটে করবেন বৈঠক করবেন মুখ্যমন্ত্রী। ষোড়শোপচারে পুজো করে, ফুলের মালা পরিয়ে মা তারাকে পুষ্পাঞ্জলি দেন তিনি। তারপর ঘি, মধু, গঙ্গাজল, দুধ দিয়ে হল বিশেষ পুজো।
মন্দির থেকে বেরোতেই মুখ্যমন্ত্রীকে ঘিরে ধরলেন পূজারী ও ভক্তরা। দেউচা পচামি থেকে টুলু মণ্ডলের গ্রেফতারি নিয়ে প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে তিনি বলেন, 'হবে হবে সব হবে। ভাল হবে। ' পূর্বতন সরকারকে আক্রমণ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন,' সব হবে। আগের সরকারের একটাই মন্ত্র ছিল, নো, নো, নো। বর্তমান সরকারের একটাই মন্ত্র হ্যাঁ, হ্যাঁ, হ্য়াঁ। ' মুখ্যমন্ত্রী এদিন আরও বলেন, বলেন, "হিন্দুরা এখানে শুধু দেশ থেকেই নয়, সারা বিশ্ব থেকে আসেন। আমি মায়ের আশীর্বাদ নিতে এসেছি। তাঁর আশীর্বাদেই পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার গঠিত হয়েছে। সবকিছু ঠিকঠাক চলবে। সরকার এখানে মায়ের আশীর্বাদেই কাজ করবে। একটি জাতীয়তাবাদী ঢেউ বয়ে যাচ্ছে। এটি পুরোপুরি একটি জাতীয়তাবাদী ঢেউ।"
এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ''এই সরকার মা তারার আশীর্বাদে তৈরি। বীরভূমকে মা তারার বীরভূম গড়ে তুলব । ঐতিহ্য, সংস্কৃতির বীরভূম গড়ে তুলব।
আগের সরকার মনোভাব ছিল নেতিবাচক। সব ক্ষেত্রে ইতিবাচক পদক্ষেপ করে এই সরকার ''। এদিন দেউচা পচামি নিয়েও কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। জানান, আগামী সেপ্টেম্বরে আসবেন। দেউচা পচামি নিয়ে একটি সম্পূর্ণ রূপরেখা দেবেন।
এদিন প্রশাসনিক বৈঠকের আগে এনসিপিআই সাংসদ শতাব্দী রায় বলেন, 'সিএম যেটা বলেছিলেন, যে দাবি, যেগুলো দেবেন বলেছিলেন, সেই লিস্ট আছে। রাস্তাঘাট কিছু আছে আমার, কিছু আইসিডিসি বিল্ডিং আছে, ট্রান্সপোর্ট আছে, ব্রিজ আছে, যেগুলো অনেকগুলো কাজ হয়নি সেগুলো সব আছে আমার কাছে। প্রায় দশ, আটটা প্রপোজাল আমার কাছে। আবারও যোগাযোগ হবে।'
এদিন প্রশাসনিক বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী প্রাক্তন বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে যান। দেখা করবেন তাঁর পরিবারের সঙ্গে।
Author : নিবেদিতা বন্দ্যোপাধ্যায়

