Dailyhunt Logo
  • Light mode
    Follow system
    Dark mode
    • Play Story
    • App Story
শুভেন্দুর আপ্তসহায়ককে হত্যার তদন্ত: এলাকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজে নজর! সকালে পৌঁছোল সিআইডি ও রাজ্য পুলিশের দল

শুভেন্দুর আপ্তসহায়ককে হত্যার তদন্ত: এলাকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজে নজর! সকালে পৌঁছোল সিআইডি ও রাজ্য পুলিশের দল

ন্দ্রনাথের দেহ বুধবার রাতেই নিয়ে যাওয়া হয় বারাসত মেডিক্যাল কলেজ এবং হাসপাতালের মর্গে। বর্তমানে রাজ্য পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় আধাসেনা বাহিনীর জওয়ানেরা মোতায়েন রয়েছেন বারাসত হাসপাতাল চত্বরে। তদন্তে সিআইডি।

শুভেন্দু অধিকারীরর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথ।

বৃহস্পতিবার সকালে তাঁর ফ্ল্যাটের গলিতে মোতায়েন পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী। — নিজস্ব চিত্র।

শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তেরা এখনও অধরা। তাদের খোঁজে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ইতিমধ্যে এলাকার বেশ কিছু সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেছেন তদন্তকারীরা। ওই সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তদের খোঁজ চলছে বলে সূত্রের খবর। বৃহস্পতিবার সকালে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন সিআইডি-র আধিকারিকেরা। সঙ্গে রাজ্য পুলিশের কর্তারাও রয়েছেন। সিআইডি এবং রাজ্য পুলিশের সদস্যদের নিয়ে একটি দল গঠন করা হয়েছে। তারা তদন্ত শুরু করেছে।

যেখানে বুধবার রাতে চন্দ্রনাথ রথকে গুলি করা হয়েছে, সেই এলাকা পুলিশ কর্ডন করে রেখেছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীও মোতায়েন হয়েছে। চন্দ্রনাথ যে হাউজ়িংয়ে থাকতেন, সেখান থেকে যশোর রোড পর্যন্ত পুরো রাস্তাতেই পুলিশ ও বাহিনী মোতায়েন করে রাখা হয়েছে। রাস্তায় যানবাহন চলাচল বন্ধ রেখেছে পুলিশ। লোকজনের যাতায়াতেও বিধিনিষেধ রয়েছে।

বারাসাত মেডিক্যাল কলেজ ইতিমধ্যে তিন সদস্যের একটি টিম তৈরি করেছে চন্দ্রনাথ রথের দেহ ময়নাতদন্ত করার জন্য। একজন বিভাগীয় প্রধান এবং দু'জন সহকারী অধ্যাপক রয়েছেন তিন সদস্যের টিমে। এই ময়নতদন্ত অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে মেডিক্যাল কলেজ। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এসে গেলেই দ্রুততার সঙ্গে শুরু করা হবে ময়নাতদন্তের কাজ। ভোররাতে নার্সিংহোম থেকে চন্দ্রনাথের দেহ বারাসাত মেডিক্যাল কলেজে পাঠানো হয়েছে ময়নাতদন্তের জন্য।

চন্দ্রনাথের বাড়ি পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুরে হলেও তিনি থাকতেন মধ্যমগ্রামের দোহাড়িয়ার কাছে। জানা যাচ্ছে, যেখানে তিনি থাকতেন, সেই ফ্ল্যাটের অদূরেই গুলি করে খুন করা হয় চন্দ্রনাথকে।

বুধবার রাতে মধ্যমগ্রামের দোহাড়িয়ায় গুলি করে খুন করা হয় শুভেন্দুর আপ্তসহায়ককে। গাড়িতে সেই সময়ে তাঁর সঙ্গে আরও একজন ছিলেন। তিনিও গুলিবিদ্ধ হন। দু'জনকেই প্রথমে মধ্যমগ্রামের এক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক চন্দ্রনাথকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। অপর জনকে কলকাতায় বাইপাসের ধারে এক হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। নিহত চন্দ্রনাথের দেহ বুধবার রাতেই নিয়ে যাওয়া হয় বারাসত মেডিক্যাল কলেজ এবং হাসপাতালের মর্গে। বর্তমানে রাজ্য পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় আধাসেনা বাহিনীর জওয়ানেরা মোতায়েন রয়েছেন বারাসত হাসপাতাল চত্বরে। সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবারই তাঁর দেহের ময়নাতদন্ত হতে পারে। ময়নাতদন্তের পরে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে চন্দ্রনাথের দেহ।

বর্তমানে মধ্যমগ্রামের ওই ঘটনাস্থল ঘিরে রেখেছে পুলিশ। রয়েছেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরাও। আপাতত কাউকে ওই অকুস্থলে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না বলে সূত্রের খবর। পুলিশের ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের একটি প্রতিনিধিদল বুধবার রাতেই অকুস্থলে পৌঁছে যায়। যে গাড়িটিতে চন্দ্রনাথ ছিলেন, সেটি থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছেন ফরেনসিক আধিকারিকেরা। গাড়ির সামনের দিকে চালকের আসনে এবং পাশের আসনে— দু'জায়গাতেই রক্তের ছোপ রয়েছে। সেই দুই আসন-সহ গাড়ির ভিতরের বিভিন্ন অংশ খতিয়ে দেখেন তাঁরা। সকালের দিকে গাড়িটিকে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

শুভেন্দুর আপ্তসহায়ক খুনের ঘটনার পরে রাজ্য পুলিশের ভারপ্রাপ্ত ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্ত পৌঁছে গিয়েছিলেন মধ্যমগ্রামের ওই হাসপাতালে। সেখান থেকে বেরিয়ে ডিজি জানান, তদন্ত শুরু হয়েছে। অপরাধে ব্যবহৃত একটি চারচাকা গাড়ি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। নম্বরপ্লেট অনুযায়ী সেটি শিলিগুড়ির। তবে নম্বরপ্লেটটি ভুয়ো বলে মনে করা হচ্ছে। এ ছাড়া, কিছু গুলি এবং ব্যবহৃত কার্তুজ পাওয়া গিয়েছে। তদন্তের স্বার্থে এর চেয়ে বেশি কিছু প্রকাশ্যে বলতে চাননি ডিজি।

চন্দ্রনাথের খুনের কথা ছড়িয়ে পড়তেই হাসপাতালের সামনে উত্তেজনা ছড়ায়। বিজেপি কর্মীরা বিক্ষোভ দেখান গভীর রাতেও। অবিলম্বে দোষীদের গ্রেফতারি এবং শাস্তির দাবি জানানো হয়। চন্দ্রনাথের খুনের খবর পেয়ে রাতেই হাসপাতালে পৌঁছে গিয়েছিলেন শুভেন্দু, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার-সহ রাজ্য বিজেপির নেতা-নেত্রীরা। শুভেন্দুর অভিযোগ, বেশ কয়েক দিন ধরে রেকি করে পরিকল্পনামাফিক ঠান্ডা মাথায় খুন করা হয়েছে তাঁর আপ্তসহায়ককে। তিনি জানান, মৃতের পরিবারের ও আহতদের চিকিৎসার যাবতীয় দায়িত্ব নেবে দল। শুভেন্দু আরও জানান, এই খুনের সঙ্গে রাজনীতির যোগ থাকতে পারে। তবে তা নিয়ে এখনই কোনও মন্তব্য করতে চান না তিনি। শুভেন্দুর বক্তব্য, সঠিক তদন্তের স্বার্থেই ফুটেজের বিষয়ে কোনও তথ্য চাওয়া হয়নি পুলিশের কাছ থেকে। তিনি জানান, তদন্তের জন্য পুলিশের উপরেই ভরসা রাখা হচ্ছে। দোষীরা দ্রুত ধরা পড়বে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: AnandaBazar Patrika