Dailyhunt
উপলক্ষ সিল্করুট, তবে পূর্ব সিকিমের চেনা জায়গার চৌহদ্দি পেরিয়ে কোথায় যাবেন?

উপলক্ষ সিল্করুট, তবে পূর্ব সিকিমের চেনা জায়গার চৌহদ্দি পেরিয়ে কোথায় যাবেন?

পূর্ব সিকিম মানেই রেশমপথের সৌন্দর্য নয়। ছোট্ট নির্জন পাহাড়ি গ্রাম রোলেপ। কেন ভ্রমণ তালিকায় রাখবেন এই স্থান?

ছবি: সংগৃহীত।

গতি এখানে থমকে যায়। খরস্রোতা নদীর বহমান জলস্রোত ক্লান্তি মুছিয়ে দেয়। পাহাড়ি শিশুর নিষ্কলুষ হাসি ভুলিয়ে দেয় জটিলতা।

পূর্ব সিকিমের ছোট্ট গ্রাম রোলেপ। সেখানেই রয়েছে অপার শান্তির ঠিকানা, শুধু তা খুঁজে নেওয়ার চোখ থাকতে হবে। থাকবে হবে অনুভবের মন। তা হলেই এই গ্রাম আপনাকে উজাড় করে দেবে তার সবটুকু।

পূর্ব সিকিম বললেই নাথাং-জুলুখের নামই শীর্ষে আসে। পাহাড়ের অনেক উঁচুতে অবস্থিত দুই জনপদই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য খ্যাত। এখান থেকে দৃশ্যমান সর্পিলাকার রেশমপথ। তবে জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রের বাইরেও পূর্ব সিকিমের অনেক জনপদ রয়ে গিয়েছে প্রচারের কিছুটা আড়ালেই। রোলেপ তাদের মধ্যে একটি।

রংলি থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত রোলেপ শান্ত একটি স্থান । পাহাড়ি এই গ্রাম পক্ষীপ্রেমীদের কাছে বিশেষ আকর্ষণের। সৌন্দর্য বাড়িয়েছে খরস্রোতা রংপো খোলা। আর পাঁচটা পাহাড়ি গ্রামের চেয়ে রোলেপ বিশেষ আলাদা নয়, তবু এখানে এমন কিছু আছে, যার টানে বার বার আসা চলে। পাহাড়ের কোলে ধাপ চাষ, নদীর উপর দিয়ে কাঠের সাঁকো আর তার রেলিং বরাবর রঙিন উজ্জ্বল পতাকা এখানে চেনা সিকিমকেই আবার আবিষ্কার করতে উৎসাহ দেয়।

ছবি: সংগৃহীত।

দ্রষ্টব্য রয়েছে বেশ কয়েকটি। তবে সেই সবের বাইরেও এই জনপদকে আবিষ্কার করতে চাইলে হেঁটে ঘোরাই ভাল। গ্রামে রয়েছে স্কুল, আছে কাঠের ছোট বৈভবহীন 'ক্যাফে'। যেখানে মেলে গরম চা, পাহাড়ি মোমো আর নুড্লস। যদি এখানকার সংস্কৃতিকে জানতে হয়, যেতে হবে স্থানীয় বাসিন্দাদের জনবসতিতে। অনাড়ম্বর জীবনযাপন, তবে শিক্ষণীয় অনেক কিছুই। তাদের মুখের হাসি কোনও পরিস্থিতিতেই মুছে যায় না।

এক দিন গাড়ি ভাড়া করে ঘুরে নিন আশপাশের স্থানগুলি। অরণ্যের মধ্যে রয়েছে বুদ্ধ জলপ্রপাত। কাছ পর্যন্ত যেতে হলে সিঁড়ি ভাঙতে হবে। খাড়া পাহাড়ের বুক চিরে সাদা দুধের মতো জলধারা যখন নেমে আসছে। বর্ষায় বাড়ে জলের তোড়। ঘুরে নিতে পারেন শোকে খোলা। নদীর উপরে তৈরি ঝুলন্ত সেতুগুলিও দারুণ উপভোগ্য।

দুই-তিন দিন থেকে রোলেপ উপভোগ করার সময় তালিকায় জুড়তে পারে চাচাল। জঙ্গল পথে চড়াই পেরিয়ে পৌঁছতে হয় সেখানে। ৪০ মিনিটের হাঁটা পথ। কোথাও উঠেছে সিঁড়ি, কোথাও বাঁশের সাঁকো পার হতে হয়। অমসৃণ সেই পথের ক্লান্তি ভুলিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে প্রকৃতি। চাচালে ক্যাম্পিংয়ের সুযোগ রয়েছে। রয়েছে খরস্রোতা নদী ও জলপ্রপাতও। রোলেপের চেয়ে এই জায়গা আরও সুন্দর, নির্জন। ঠান্ডাও কিঞ্চিৎ বেশি। থাকার জন্য ন‌্যূনতম পরিষেবা মেলে এখানে। তবে সৌন্দর্যের টানে সেখানে রয়ে গেলে অভিজ্ঞতার ভাঁড়ার সমৃদ্ধ হবে।

সিল্করুট ভ্রমণের পরিকল্পনা থাকুক, না থাকুক দিন তিন-চারেকের জন্য শুধুই রয়ে যেতে পারেন রোলেপে। গতিময় জীবনে, শ্লথজীবনের ছন্দ মনে করিয়ে দেবে, মাঝেমধ্যে দু'দণ্ড জিরিয়ে নেওয়ারও প্রয়োজন আছে।

কোথায় থাকবেন

রোলেপে একাধিক হোম স্টে রয়েছে। রেঁধেবেড়ে খাওয়াবেন এখানকার বাসিন্দারাই। পাহাড়ে থাকলেও, হোম স্টে-র পরিষেবা ভাল, আরামদায়ক থাকার বন্দোবস্ত রয়েছে।

কী ভাবে যাবেন

রংলি থেকে ২০ কিলোমিটার দূরত্বে রোলেপ। নিউ জলপাইগুড়ি দূরত্ব দেড়শো কিলোমিটারের মতো। গাড়ি ভাড়া করে এলে ঘণ্টা পাঁচেক সময় লাগবে। পুরো গাড়ি রিজ়ার্ভ করলে ভাড়া পড়বে ৪০০০-৫০০০ টাকা। কম খরচে আসতে চাইলে, এনজেপি বা শিলিগুড়ি থেকে গ্যাংটকগামী শেয়ার জিপ কিংবা বাসে রংপো নেমে, সেখান থেকে গাড়ি ভাড়া করে যেতে পারেন। পেতে পারেন শেয়ার গাড়িও।

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: AnandaBazar Patrika