নিজস্ব সংবাদদাতা : শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথের নৃশংস খুনের ঘটনার তদন্তে বড়সড় পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। ঘটনার গুরুত্ব এবং এর সাথে জড়িয়ে থাকা রাজনৈতিক সংবেদনশীলতার কথা মাথায় রেখে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা 'সিট' (SIT) গঠন করা হয়েছে। উচ্চপদস্থ এডিজি (আইজি) পদমর্যাদার এক অফিসারের নেতৃত্বে এই তদন্ত প্রক্রিয়া চলবে।
রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলার অবনতি এবং এই খুনের পেছনে থাকা গভীর ষড়যন্ত্রের শিকড় খুঁজে বের করাই এই বিশেষ দলের মূল লক্ষ্য।
এই তদন্তকারী দলে রাজ্যের তিনটি অত্যন্ত শক্তিশালী গোয়েন্দা বিভাগকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অপরাধ তদন্ত বিভাগ বা সিআইডি (CID), ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (IB) এবং রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF) যৌথভাবে এই খুনের রহস্য উন্মোচনে কাজ করবে। বিশেষজ্ঞ গোয়েন্দাদের সমন্বয়ে গঠিত এই দল ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত নমুনা এবং ধৃত তিন দুষ্কৃতীর বয়ান খতিয়ে দেখা শুরু করেছে। ঘটনার নেপথ্যে কোনো আন্তঃরাজ্য যোগসূত্র বা বড় কোনো রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র কাজ করছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এসটিএফ-কে।
তদন্তকারী সূত্রে খবর, চন্দ্রনাথ রথকে খুনের জন্য ব্যবহৃত অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্রটি কোথা থেকে এল এবং ঘাতকরা কীভাবে রাজারহাটে গা ঢাকা দিয়েছিল, সেই বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করছে আইবি। অন্যদিকে, সিআইডি-র ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা খুনের ধরণ এবং ঘটনাস্থলের পারিপার্শ্বিক তথ্য বিশ্লেষণ করছেন। পুলিশের জালে আসা ৩ জনকে জেরা করে আরও কাদের নাম উঠে আসে, সেদিকেই এখন নজর গোয়েন্দাদের।
শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ বৃত্তের একজনকে এইভাবে দিনের আলোয় হত্যার ঘটনায় রাজ্যজুড়ে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা প্রশমিত করতে প্রশাসন এই স্বচ্ছ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্তের পথ বেছে নিয়েছে। এডিজি আইজির সরাসরি তত্ত্বাবধানে এই বিশেষ দল প্রতিদিনের তদন্তের রিপোর্ট পেশ করবে। খুনের মাস্টারমাইন্ড কারা এবং কেন এই চরম পদক্ষেপ নেওয়া হলো, সিট গঠনের মাধ্যমে সেই সত্য দ্রুত উদঘাটিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বর্তমানে মধ্যমগ্রাম থেকে রাজারহাট-বিশাল এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।

