নিজস্ব সংবাদদাতা : পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার ডামাডোলের মধ্যেই আজ এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সাক্ষী থাকল উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রাম। বিজেপি নেতা তথা নন্দীগ্রামের বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারীর দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত সহকারী (PA) চন্দ্রকে গুলি করে খুন করা হয়েছে। এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
ঘটনাস্থলে পৌঁছে রাজ্যের শাসক দল এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন বিজেপি নেতা কৌস্তভ বাগচী।
কৌস্তভ বাগচী অত্যন্ত কড়া ভাষায় অভিযোগ করেন যে, এই নির্বাচনে পরাজয় নিশ্চিত বুঝেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর দলের নেতা-কর্মীরা ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছেন। তাঁর দাবি, এই নির্বাচনী পরাজয় তৃণমূলকে মরিয়া করে তুলেছে এবং তারা এখন হিংসার আশ্রয় নিচ্ছে। কৌস্তভ বলেন যে, শুভেন্দু অধিকারীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিকে খুন করে আসলে শুভেন্দুকেই একটি বিশেষ বার্তা দিতে চাইছে তৃণমূল। তাঁর ভাষায়, তারা শুভেন্দুকে বুঝিয়ে দিতে চাইছে যে তারা ঠিক কতটা ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে এবং কী কী করতে সক্ষম।
বিজেপি নেতার এই বক্তব্যের তিরে ছিল সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন যে, ৪ঠা মে গণনার দিন থেকে আগামী ৯ই মে-র মধ্যবর্তী এই সময়টুকু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পূর্ণমাত্রায় কাজে লাগাতে চান। কৌস্তভের মতে, এই অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে ক্ষমতা ব্যবহার করে বিরোধীদের কণ্ঠরোধ এবং ভয়ের পরিবেশ তৈরি করাই শাসক দলের মূল লক্ষ্য।
মধ্যমগ্রামের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, শুভেন্দু অধিকারীর ছায়াসঙ্গীকে সরিয়ে দিয়ে আসলে বিজেপি শিবিরের মনোবল ভাঙার চেষ্টা করা হচ্ছে। এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে গেরুয়া শিবির রাজ্যজুড়ে বড়সড় আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। অন্যদিকে, এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। উত্তর ২৪ পরগনার এই স্পর্শকাতর এলাকায় যাতে নতুন করে কোনো অশান্তি না ছড়ায়, তার জন্য বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। নির্বাচনের ফলাফলের উত্তেজনার মাঝে এই রক্তক্ষয়ী ঘটনা বাংলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ফের বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল। উত্তেজনার পারদ চড়তে থাকায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানানো হয়েছে।

