Dailyhunt
২০২৬-এর মহারণ: কোন কোন আসনে কোণঠাসা হতে পারে ঘাসফুল শিবির? এক নজরে সম্ভাব্য 'ডেঞ্জার জোন'

২০২৬-এর মহারণ: কোন কোন আসনে কোণঠাসা হতে পারে ঘাসফুল শিবির? এক নজরে সম্ভাব্য 'ডেঞ্জার জোন'

২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের সম্ভাব্য পরাজয়ের আসনগুলির বিস্তারিত বিশ্লেষণ। দুর্নীতি, ভোটার তালিকার প্রভাব এবং ভবানীপুর ও বীরভূমের মতো গুরুত্বপূর্ণ আসনের রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন।

২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন রাজ্যের রাজনৈতিক ইতিহাসে অন্যতম কঠিন এবং গুরুত্বপূর্ণ লড়াই হতে চলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

মতামত সমীক্ষা অনুযায়ী, তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) এবং বিজেপি-র মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে, যেখানে তৃণমূল সামান্য এগিয়ে থাকলেও বিরোধী বিজেপি ১০০-র বেশি আসন পাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই আবহে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট আসন তৃণমূলের জন্য 'ডেঞ্জার জোন' বা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দুর্নীতির ছায়ায় থাকা আসন: শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি, রেশন কেলেঙ্কারি এবং কয়লা পাচারের মতো অভিযোগে তৃণমূলের ভাবমূর্তি ধাক্কা খেয়েছে। যদিও তৃণমূল দুর্নীতিমুক্ত ভাবমূর্তি তৈরি করতে ৭৪ জন বিধায়ককে প্রার্থী তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে, তবুও কিছু 'বিতর্কিত' নেতাকে পুনরায় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

বীরভূমের বোলপুর আসনে মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা ইডি-র নজরে থাকা সত্ত্বেও প্রার্থী হয়েছেন, যা ওই আসনে কঠিন লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে। একইভাবে, রেশন দুর্নীতিতে অভিযুক্ত জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে হাবড়া এবং নিয়োগ কেলেঙ্কারিতে বিতর্কিত পরেশ অধিকারী-কে মেখলিগঞ্জ থেকে পুনরায় টিকিট দেওয়ায় সেখানে তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়তে পারে শাসকদল।

নিজের ঘরেই চ্যালেঞ্জ: ভবানীপুর তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজের কেন্দ্র ভবানীপুর-কেও এবার বিজেপি নন্দীগ্রামের মতো একটি 'ফাঁদ' হিসেবে দেখছে। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের ট্রেন্ড অনুযায়ী, এই কেন্দ্রে তৃণমূলের লিড কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৬,৫০০ ভোটে। বিজেপি এখানে শুভেন্দু অধিকারীকে দাঁড় করিয়ে তৃণমূল নেত্রীকে নিজ কেন্দ্রে আটকে রাখার কৌশল নিয়েছে।

বীরভূমের 'ফাটল' ও উত্তরবঙ্গের চ্যালেঞ্জ: অনুব্রত মণ্ডলের অনুপস্থিতিতে বীরভূমের দুবরাজপুর আসনটি তৃণমূলের কাছে বড় উদ্বেগের, কারণ ২০২১-এ এটিই ছিল জেলায় তাদের একমাত্র হেরে যাওয়া আসন। এছাড়া সিউড়ি, ময়ূরেশ্বর ও হাঁসন আসনে বর্তমান বিধায়কদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ও গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব তৃণমূলকে বিপাকে ফেলতে পারে।

অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গের ৫৪টি আসনের মধ্যে বিজেপি-র আধিপত্য বজায় থাকায় শিলিগুড়ি, মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি এবং ফাঁসিদেওয়া-র মতো আসনগুলি তৃণমূলের ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সংখ্যালঘু ভোট ও প্রান্তিক আসনের লড়াই: মুর্শিদাবাদ ও মালদহের মতো সংখ্যালঘু অধ্যুষিত জেলাগুলোতে আব্বাস সিদ্দিকীর আইএসএফ (ISF) এবং হুমায়ুন কবীরের মতো বিক্ষুব্ধ নেতাদের জোট তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্কে থাবা বসাতে পারে। এর ফলে ভাঙড় বা সাগরদিঘি-র মতো আসনগুলিতে ফলাফল উল্টে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এছাড়া রাজ্যে এমন ৫৭টি আসন রয়েছে যেখানে জয়ের ব্যবধান ছিল ৮,০০০ ভোটের কম। কুলটি, ঘাটাল, দাঁতন এবং বাঁকুড়া-র মতো এই প্রান্তিক ব্যবধানের আসনগুলিতে সামান্য ভোট পরিবর্তনই তৃণমূলের পতন ডেকে আনতে পারে।

ভোটার তালিকায় রদবদলের প্রভাব: বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (SIR) ফলে রাজ্যে প্রায় ৯১ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে। উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং মুর্শিদাবাদের মতো তৃণমূলের দুর্ভেদ্য দুর্গে বিপুল সংখ্যক নাম বাদ যাওয়ায় নির্বাচনী পাটিগণিত শাসকদলের প্রতিকূলে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

পরিশেষে বলা যায়, দুর্নীতি, গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এবং ভোটার তালিকায় রদবদল তৃণমূলের ৪-বারের জয়ের স্বপ্নকে এই আসনগুলিতে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: Asianet Bangla