Lakshmir Bhandar vs. Annapurna Bhandar: ২০২৬ সালে বঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে জমজমাট লড়াই লক্ষ্মীর ভাণ্ডার আর অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের মধ্যে। বিজেপির প্রতিশ্রুতি অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার সম্পর্কে রইল বিস্তারিত তথ্য।

২০২১ সালে বিধানসভা ভোটের মুখে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের মহিলাদের জন্য লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের পাল্টা হিসেবে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্প চালু করেছিলেন।
পাঁচ বছর পরে সেই লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের সাফল্য দেখেই রাজ্য বিজেপি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের কথা বলেছে। ভোটার ময়দানে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্প দিয়ে বাজিমাৎ করতে চায় গেরুয়া শিবির।

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের মাধ্যমে তৃণমূল কংগ্রেস যেমন রাজ্য়ের মহিলা ভোট টার্গেট করেছিল, এবার তারই পাল্টা হিসেবে বিজেপি রাজ্যের মহিলা ভোটগুলি টার্গেট করেছে। তবে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের তুলনায় এই প্রকল্পে টাকার অঙ্ক অনেকটাই বেশি।

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্প যখন শুরু হয়েছিল তখন সাধারণ শ্রেণির মহিলাদের মাসে ১০০০ আর পিছিয়ে পড়ে শ্রেণির মহিলাদের মাসে ১২০০ টাকা করে দেওয়া হত। ২০২৪ সালে লোকসভা ভোটের আগে এই প্রকল্পের টাকা অঙ্ক বাড়িয়ে ছিলেন মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়। এবার আবারও এই প্রকল্পে টাকার অঙ্ক বাড়িয়েছেন তিনি। এবার এই প্রকল্পে মহিলাদের সাধারণ মহিলাদের ১৫০০ টাকা আর তফসিলি জাতি আর উপজাতির মহিলাদের ১৭০০ টাকা করে দেওয়া হচ্ছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চলতি অর্থ বর্ষেই লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ বৃদ্ধির কথা ঘোষণা করেছিলেন। তবে মার্চ মাস থেকেই রাজ্যের মহিলাদের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে বর্ধিত টাকাই দেওয়া হচ্ছে।

এবার বিধানসভা ভোটের বিজেপির ইস্তেহারে রীতিমত গুরুত্ব পেয়েছে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পটি। ১৫টি প্রধান প্রতিশ্রুতির মধ্যেই ঠাঁই হয়েছে এই প্রকল্পের। এই প্রকল্পের মাধ্যমে বিজেপি মহিলাদের মাসে মাসে ৩০০০ টাকা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। টাকার অঙ্কে তৃণমূল সরকারকে গুণে গুণে ১০ গোল দিয়েছে এই প্রতিশ্রুতি।

বিজেপির নির্বাচনী ইস্তেহার বা সংকল্পপত্রে গুরুত্ব পেয়েছে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পটি। এই প্রকল্পের মাধ্যমে নথিভুক্ত মহিলাদের মাসে মাসে ৩০০০ টাকা দেবে বলেছে বিজেপি। জুন মাস থেকেই এই প্রকল্পের টাকা মহিলাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকে যাবে বলেও জানিয়েছে। অর্থাৎ মে মাসে যদি বঙ্গে বিজেপি সরকার গঠিত হয় তাহলে জুন মাস থেকেই এই প্রকল্পের টাকা পাবেন মহিলারা।

এজাতীয় মহিলাদের আর্থিক সুবিধে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি বিজেপি দিল্লি আর বিহারেও দিয়েছিল। তাতেই জয় পেয়েছিল। নরেন্দ্র মোদী এবার সেই কারণেই এজাতীয় প্রকল্প বাংলা আর কেরলের জন্য চালু করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এবার দেখার অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার কি বিজেপির ভাগ্য বদলাতে পারবে?

ভোট প্রচারে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্প নিয়ে রীতিমত সরব বিজেপির রাজ্য নেতৃত্ব। সুকান্ত শুভেন্দু- সকলেরই মুখে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের কথা। তাদের কথায় সর্বস্তরের মহিলারাই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের সুবিধে পাবেন। তাদের কথায় এই প্রকল্প অনেকটাই এগিয়ে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার থেকে।

ভোটের মুখে তৃণমূল আর বিজেপির মধ্যে উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার আর অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্প। দুই প্রকল্পকেই মহিলাদের সামনে তুলে ধরতে মরিয়া চেষ্টা করছেন দুই দলের নেতারা।
এবার মহিলা ভোটারদের মন কোন দিকে যাবে? লক্ষ্মীর ভাণ্ডার না অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার- সেই দিকেই তাকিয়ে বিজেপি আর তৃণমূল। উত্তর জানা জানা যাবে ৪ মে।

