জুন থেকেই শুরু হচ্ছে নতুন 'অন্নপূর্ণা যোজনা'। প্রকল্পের আওতায় যেসব মহিলা উপভোক্তা থাকবেন, তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে মাসে ৩ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। রাজ্য় সরকার জানিয়েছে, এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে নতুন করে ফর্ম ফিল আপ করতে হবে।

জুন থেকেই শুরু হচ্ছে নতুন 'অন্নপূর্ণা যোজনা'।
প্রকল্পের আওতায় যেসব মহিলা উপভোক্তা থাকবেন, তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে মাসে ৩ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। রাজ্য় সরকার জানিয়েছে, এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে নতুন করে ফর্ম ফিল আপ করতে হবে। বুধবার রাতেই অনলাইনে আপলোড করে দেওয়া হয়েছে অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম। যদিও ১১ পাতার দীর্ঘ ফর্ম নিয়ে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে মহিলাদের দেওয়া হয়েছে। ফর্মে জমির কাগজপত্র থেকে শুরু করে পরিবারের সকলের ব্যাঙ্কের নথি যাবতীয় তথ্য চাওয়া হয়েছে। অনেকেই দাবি করছেন, এই ফর্ম জটিল।
তবে এনিয়ে মুখ খুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি মহিলাদের গুজবে কান না দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। শুভেন্দু শনিবার বলেন,"আগামী বুধবার আমরা অন্নপূর্ণা যোজনার প্রথম পর্যায়ের টাকা উপভোক্তাদের ব্যাঙ্কে পাঠাব। প্রত্যেকের বাড়িতে ফর্ম পূরণের জন্য লোক যাবে। আপনাদের ফর্ম তাঁরাই পূরণ করিয়ে দেবেন। কোনও গুজবে কান দেবেন না। আমরা চাই প্রকৃত প্রাপক টাকা পান। অভারতীয় বা পুরুষ কেউ এই টাকা যাতে না-পান, সেটা আমরা নিশ্চিত করব।"

অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্ম বুধবার অর্থাৎ ২৭ মে রাত থেকেই অনলাইনে মিলতে শুরু করেছে। অফলাইনে বিডিও, এসডিও ও জেলা শাসকের অফিস থেকেও মিলবে ফর্ম। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, ১ জুন থেকে ৯০ দিন এই প্রক্রিয়া চলবে। অনলাইনেও হবে আবার অফলাইনেও হবে। বিডিও বা পুরসভা থেকে অফলাইনে করা হবে। বড় পুরসভা বা কর্পোরেশনের ক্ষেত্রে ওয়ার্ড ভিত্তিক বা বরো ভিত্তিক ফর্ম ফিলআপ করা হবে। এছাড়াও পঞ্চায়েতের সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে একটা ৩০ দিনের ড্রাইভ দেবেন।

ফর্মে মোট ৭ রকম তথ্য জমা দিতে হবে । প্রথম, আপনার পারিবারিক পরিচয়। দ্বিতীয়, আপনি খাদ্যে ভর্তুকি পান কি না। তৃতীয়, আপনার কী কী ধরনের সম্পদ রয়েছে। চতুর্থ, আপনার উপার্জন কত। পঞ্চম, আপনার অন্যান্য পরিচয়ের নথি। ষষ্ঠ, আপনার পরিবারে কতজন শিশু ও তাদের বিবরণ এবং সপ্তম, আপনি আর কোনও সরকারি সুবিধা পাচ্ছেন কি না। আপনাকে জানতে হবে আপনার বাড়িতে ৩ টি বা তার বেশি পাকা ঘর আছে কি না। এরপর আপনাকে জানতে হবে পারিবারিক কোনও জমির মালিকানা আপনার আছে কি না। যদি থাকে তাহলে রেজিস্ট্রেশন নথি, মিউটেশনের কপি ও হাল নাগাদের তারিখ সহ জমির সর্বশেষ রেকর্ডের কপিও জমা করতে হবে।

এ ছাড়াও পরিবারের সকল সদস্যের মোট জমির পরিমাণ জানাতে হবে আপনাকে। একই সঙ্গে দিতে হবে জমির রেজিস্ট্রেশন নথি ও সর্বশেষে RoR জমির নথি। এরপর আপনাকে জানাতে হবে আপনার পরিবারের কারও কোনও অবাণিজ্যিক মোটর চলিত চার চাকার গাড়ি আছে কি না। যদি থাকে তাহলে গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও মডেল লিখতে হবে।

এ ছাড়াও জানাতে হবে আপনার কোনও স্বাস্থ্য বিমা আছে কি না। আর যদি থাকে তাহলে সেই বিমার অঙ্ক ও প্রিমিয়ামের বিবরণ দিতে হবে আপনাকে। এ ছাড়াও বাকি সব অপশন আপনাকে ফিল আপ করতে হবে। তারপর এই ফর্ম আপনাকে জমা করতে হবে।

