রাজ্য সরকারের তরফ থেকে প্রকাশ করা হয়েছিল অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার (Annapurna Bhandar) প্রকল্পের ফর্ম। ১৩টি পাতা রয়েছে তাতে। অফিসিয়াল ওয়েবসাইটেও প্রকাশ করা হয়েছে সেই ফর্ম। ফর্ম ফিলাপের সময় বিশেষ করে খেয়াল রাখুন ৫,৬ ও ৭ নম্বর পাতায়। কী রয়েছে তাতে?

ক্ষমতায় আসার আগেই বিজেপি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে, লক্ষীর ভাণ্ডার বদলে নাম রাখা হবে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার, এবং সেখানে ভাতা দ্বিগুণ করে ৩০০০ টাকা করে দেওয়া হবে মহিলাদের।
সেই মতোই সরকার গঠনের পর লক্ষীর ভাণ্ডারের তথ্য যাচাই শুরু হয়েছে।

বিধানসভার নির্বাচনে বিজেপি সরকার রাজ্যে আসার পর একের পর এক কাজ করছেন। পশ্চিমবঙ্গের মহিলাদের জন্য অবশেষে খুশির খবর নিয়ে আসলো রাজ্য সরকার।

বুধবার নবান্নে আনুষ্ঠানিকভাবে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে প্রকাশ করা হয়েছিল অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার (Annapurna Bhandar) প্রকল্পের ফর্ম। ১৩টি পাতা রয়েছে তাতে। ইতিমধ্যে অফিসিয়াল ওয়েবসাইটেও প্রকাশ করা হয়েছে সেই ফর্ম।

কেমন হল ফর্ম ? কী কী তথ্য দিতে হচ্ছে, তা নিয়ে আগ্রহ রয়েছে 'অন্নপূর্ণাদের' মধ্যে। সামনে এল সেই ফর্ম। কেমন হয়েছে অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম ? দেখে নিন এই প্রতিবেদনে।

অন্নপূর্ণা ভান্ডার আবেদন শুরু, জেনে নিন নিয়ম (Annapurna Bhandar)
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, বুধবারই রাজ্যে অন্নপূর্ণা যোজনার সরকারি প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাবে। অনলাইন অফলাইন এই দুই প্রক্রিয়াতেই এই প্রকল্পের জন্য আবেদন করতে পারবেন সকল মহিলারা। এরপরই রাজ্যের নারী ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল নিজের সমাজ মাধ্যমে প্রকাশ করলেন ওয়েবসাইটের নাম।

তাতে আবেদনকারী থেকে শুরু করে তাঁর পরিবারের প্রত্যেকটি সদস্যের পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য চাওয়া হয়েছে। কোনও ভুল করলেই বাতিল হবে আবেদন। এমনকি ফর্মের শেষে পরিবার বলতে কী বোঝানো হয়েছে তাও উল্লেখ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ফর্মে প্রত্যেকটি পার্ট বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ভাগ করা রয়েছে। সেক্ষেত্রে প্রত্যেকটি ক্যাটাগরি অনুযায়ী আলাদা আলাদা তথ্য ইনপুট করতে হবে। যদিও অগ্নিমিত্রা পাল আগেই জানিয়েছিলেন যে, যারা আয়কর দেন তারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবে না, এবং যারা নাগরিকত্ব থেকে বাদ পড়েছেন তারাও পাবেনা সুবিধা।
কিন্তু ফর্মে দেখা যাচ্ছে, কর্মসংস্থান থেকে শুরু করে পেশা, আয় নিয়ে বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে। আর সেগুলি ৫, ৬ আর ৭ নম্বর পাতাতেই উল্লেখ রয়েছে। তবে তাড়াহুড়ো করে কোনও ভুল করলেই হতে পারে সমস্যা। এমনকি সরকারি বা বেসরকারি কোনও গুরুত্বপূর্ণ আবেদনের ক্ষেত্রে ভুল তথ্য দিলেও আইনি গ্যাঁড়াকলে পড়তে হতে পারে।

যদি আপনি কোনও তথ্য ভুল প্রদান করেন, বিশেষ করে আয়ের ক্ষেত্রে। তাহলে আবেদনটি তৎক্ষণিকভাবে বাতিল হয়ে যাবে। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান সেই আবেদনকারীকে ব্ল্যাকলিস্টেড করে দেয়।

যার ফলে ভবিষ্যতে আর কোনও প্রকল্প আবেদন করতে পারবেন না। বিশেষ করে এই ৫, ৬ এবং ৭ নম্বর পাতাতে আয় সংক্রান্ত তথ্য চাওয়া হয়েছে। সেক্ষেত্রে অবশ্যই সঠিক তথ্য দেওয়া বাধ্যতামূলক।

পাশাপাশি ফর্মের শেষে এমনিতেই ডিক্লারেশন উল্লেখ করা রয়েছে। লেখা রয়েছে-"আমি এই মর্মে ঘোষণা করছি, উপরে সমস্ত তথ্য আমার জ্ঞান এবং বিশ্বাস অনুযায়ী সত্য আর প্রযোজ্য ক্ষেত্রেই আমি সমস্ত তথ্য প্রদান করেছি, এবং উপরের উল্লেখিত কোনও মানদন্ড আমি বাদ দিইনি। আমি অবগত যে, আমার প্রদত্ত কোনও রকম তথ্য মিথ্যা প্রমাণিত হলে আমার সামাজিক সুরক্ষা সংক্রান্ত সুবিধা বন্ধ হয়ে যেতে পারে।"

তাই বোঝা যাচ্ছে, যদি কোনও ভুল তথ্য আবেদন ফর্মে দিয়ে থাকেন, তাহলে ভবিষ্যতে আইনি সমস্যায় পড়তে হতে পারে। এমনকি কোনও প্রকল্পেও আর সুযোগ নাও পেতে পারেন। তাই আবেদন করার সময় অবশ্যই বিষয়গুলো মাথায় রাখার চেষ্টা করুন।

