অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের টাকা জুন মাসে পাওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। এখনও পর্যন্ত রাজ্যের কোনও এলাকাতেই বিলি করা হয়নি এই প্রকল্পের ফর্ম। সেক্ষেত্রে কি জুন মাসেও টাকা ঢুকবে না! লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকারই বা কি হতে চলেছে। জানুন লেটেস্ট আপডেট।

পশ্চিমবঙ্গের মহিলাদের মধ্যে বর্তমানে সবথেকে আলোচিত বিষয় হলো 'অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার' বা 'মাতৃশক্তি ভরসা কার্ড'।
নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, এই প্রকল্পে যোগ্য মহিলারা মাসে ৩,০০০ টাকা (বছরে ৩৬,০০০ টাকা) সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাবেন।
তবে মে মাস শেষ হতে চললেও এখনও সরকারি ফর্ম না মেলায় অনেকের মনেই প্রশ্ন জেগেছে-জুন মাসেও কি এই প্রকল্প চালু হবে না?

বর্তমানে বাজারে বা সোশাল মিডিয়ায় যে ফর্মগুলি ঘুরছে, সেগুলি আসলে সরকারি ফর্ম নয়। ১০ মে ২০২৬ পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গ সরকার এখনও এই প্রকল্পের জন্য কোনও অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তি (Notification) বা নির্দেশিকা জারি করেনি।

নির্বাচনের সময় বিজেপি কর্মীদের দেওয়া "গ্যারান্টি কার্ড" বা "সঙ্কল্প পত্র" ছিল মূলত প্রচারের হাতিয়ার, সেগুলিকে সরকারি আবেদনপত্র হিসেবে গণ্য করা যাবে না। প্রকল্পটি বর্তমানে মন্ত্রিসভার অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে, আর অনুমোদন না মেলা পর্যন্ত অফিসিয়াল পোর্টাল বা ফিজিক্যাল ফর্ম বিলি সম্ভব নয়।

সূত্র অনুযায়ী, নতুন সরকার গঠনের পর মে মাসের শেষ বা জুনের প্রথম সপ্তাহের মধ্যে প্রকল্পটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হওয়া মানেই সেই মাসে টাকা পাওয়া নয়।

সাধারণত, আবেদন জমা পড়ার পর প্রশাসনের তরফে একটি ভেরিফিকেশন বা যাচাইকরণ প্রক্রিয়া চলে। তাই জুনে আবেদন শুরু হলেও, প্রকল্পের প্রথম কিস্তির টাকা উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে পৌঁছাতে জুন মাসের শেষ বা জুলাই মাস হয়ে যেতে পারে।

অনেকেই চিন্তিত যে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বন্ধ হয়ে যাবে কি না। তথ্য বলছে, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পটি বর্তমানে স্থগিত রয়েছে। অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার মূলত এই প্রকল্পেরই একটি 'আপগ্রেড' বা উন্নত সংস্করণ। যারা আগে থেকেই লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুবিধা পেতেন, তাঁদের তথ্য (স্বাস্থ্য সাথী ও আধার কার্ডের ভিত্তিতে) নতুন সিস্টেমে স্থানান্তরিত (Migration) করার পরিকল্পনা রয়েছে। এক্ষেত্রে একটি সহজ ই-কেওয়াইসি (e-KYC) প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই তাঁদের নতুন ৩,০০০ টাকার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে।

যদিও ফর্ম এখনও আসেনি, তবুও আবেদন প্রক্রিয়া মসৃণ করতে কিছু প্রস্তুতি নিয়ে রাখা জরুরি:
১. আপনার আধার কার্ডের সাথে মোবাইল নম্বর লিঙ্ক করা আছে কি না নিশ্চিত করুন, কারণ অনলাইনে ওটিপি (OTP) ভেরিফিকেশন বাধ্যতামূলক হতে পারে।
২. ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টটি যেন অবশ্যই আধার লিঙ্কড (DBT Enabled) থাকে, কারণ টাকা সরাসরি ব্যাঙ্ক ট্রান্সফারের মাধ্যমে পাঠানো হবে।
৩. নিজের নাম, বয়স এবং ঠিকানা আধার কার্ড ও ব্যাঙ্ক পাসবুক অনুযায়ী সঠিক রাখুন।

কোনও ব্যক্তিগত ওয়েবসাইট বা ভুয়ো লিঙ্কে নিজের আধার বা ব্যাঙ্কের তথ্য শেয়ার করবেন না। সরকার যখন পোর্টাল চালু করবে, তখন 'দুয়ারে সরকার' বা নির্দিষ্ট সরকারি ওয়েবসাইটের মাধ্যমেই স্বচ্ছভাবে আবেদন করা যাবে। অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার সম্পর্কিত পরবর্তী খবরের জন্য অফিসিয়াল সরকারি ঘোষণার দিকে নজর রাখুন।

