Dailyhunt
Burdwan News: রাতের অন্ধকারে ভোট গণনাকেন্দ্রের ছাদে রহস্যময় ব্যক্তি! পূর্ব বর্ধমানে তুঙ্গে তরজা

Burdwan News: রাতের অন্ধকারে ভোট গণনাকেন্দ্রের ছাদে রহস্যময় ব্যক্তি! পূর্ব বর্ধমানে তুঙ্গে তরজা

Burdwan News: হাইভোল্টেজ নির্বাচন মিটতেই এখন সবার নজর ইভিএমের নিরাপত্তার দিকে। আর ফলপ্রকাশের আগেই পূর্ব বর্ধমানে স্ট্রং রুমের নিরাপত্তা ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র উত্তেজনা। বর্ধমান উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী সঞ্জয় দাসের একগুচ্ছ বিস্ফোরক অভিযোগকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তোলপাড়।

সঞ্জয় দাসের দাবি, স্ট্রং রুমে ইভিএম সুরক্ষার নামে কার্যত প্রহসন চলছে এবং এর পিছনে বড়সড় ষড়যন্ত্রের গন্ধ রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী স্ট্রং রুমের প্রবেশপথে কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নিরাপত্তা থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে সেখানে শুধুমাত্র রাজ্য পুলিশের কয়েকজন কর্মীকেই দেখা যাচ্ছে।

ঠিক কী ঘটনা ঘটেছে?

এতেই থেমে থাকেননি বিজেপি প্রার্থী। তাঁর আরও অভিযোগ, স্ট্রং রুমের ভিতরে ও বাইরে থাকা একাধিক সিসিটিভি ক্যামেরা অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে। এই প্রসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, "যদি সিসিটিভি ক্যামেরাই কাজ না করে, তাহলে নজরদারি কীভাবে সম্ভব? ইচ্ছাকৃতভাবেই কি এগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে, যাতে আড়ালে কিছু করা যায়"?

পাশাপাশি, রাতের অন্ধকারে বিল্ডিংয়ের ছাদে ওঠানামা এবং স্ট্রং রুমের ভেতর থেকে ভাঙচুরের আওয়াজ শোনার দাবিও করেছেন তিনি। ইতিমধ্যেই এই সংক্রান্ত একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে, যা ঘিরে আরও জোরদার হয়েছে বিতর্ক। তবে এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। ঘটনার সত্যতা যাচাই ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্নে রাজনৈতিক মহলে বাড়ছে চাপানউতোর।

অন্যদিকে, সকাল সকাল উত্তেজনা ছড়াল বারাসাত গভমেন্ট কলেজের স্ট্রং রুম চত্বরে। সিসিটিভি কাজ না করার অভিযোগ ঘিরেই এই অশান্তির সূত্রপাত। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মী-সমর্থকরা, পৌঁছন প্রার্থীও। অশোকনগরের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী নারায়ণ গোস্বামী অভিযোগ করেন, স্ট্রং রুমের সিসিটিভি বেশ কিছু সময়ের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছিল। ঘটনাটি জানতে পেরে তিনি নিজেই দ্রুত সেখানে পৌঁছন এবং বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁর দাবি, যদি সত্যিই সিসিটিভি বন্ধ করা হয়ে থাকে, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে এবং সম্পূর্ণ ফুটেজ প্রকাশ করতে হবে।

যদিও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, টিভি মনিটর সাময়িকভাবে বন্ধ থাকলেও সিসিটিভি ক্যামেরা সচল ছিল এবং রেকর্ডিং বন্ধ হয়নি। এদিকে, উত্তেজনা বাড়তে থাকায় বিশাল কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন এসডিপিও আজিংকা অনন্ত। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী। অন্যদিকে, বিজেপির তরফে অভিযোগ তোলা হয়েছে, স্ট্রং রুম পাহারায় থাকা তাদের কর্মীদের ভেতরে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়। পরে গেটের সামনে ধাক্কাধাক্কির পরিস্থিতি তৈরি হয় এবং জোর করেই ভিতরে প্রবেশ করেন তারা।

উল্লেখ্য, আগের দিনই স্ট্রং রুমের সিসিটিভি নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন নারায়ণ গোস্বামী। এদিনের ঘটনার পর তিনি আরও কড়া সুরে জানিয়েছেন, দু'ঘন্টার মধ্যে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা না মিললে বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে পারে তৃণমূল কংগ্রেস। ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর বাড়লেও প্রশাসনের দাবি, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: Asianet Bangla