Dailyhunt Logo
  • Light mode
    Follow system
    Dark mode
    • Play Story
    • App Story
Climate Change: জাপানে ভূমিকম্প, ইউরোপে দাবানল! প্রকৃতির খামখেয়ালিপনায় জেরবার বিশ্ব

Climate Change: জাপানে ভূমিকম্প, ইউরোপে দাবানল! প্রকৃতির খামখেয়ালিপনায় জেরবার বিশ্ব

জাপানে ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। দেশের চারটি প্রধান দ্বীপের মধ্যে তৃতীয় বৃহত্তম হল কিউশু। সেখানেই এই ভূমিকম্প হয়েছে। দ্বীপের কুমামোতো প্রদেশে বহু বাড়িঘর ও বিল্ডিং ভেঙে পড়েছে। একটি শপিং মলের একাংশ ভেঙে পড়ায় এবং তার পরে বিস্ফোরণে বেশিরভাগ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এলাকায় প্রায় ১০০টি আফটারশকও অনুভূত হয়েছে।

ধ্বংসস্তূপে কুমামোতো

ভূমিকম্পে ভেঙে পড়া শপিং মলটি ২০১৬ সালের ভূমিকম্পেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সেবার কুমামোতো প্রদেশে ২৭৮ জন মারা যান। পুনর্নির্মাণের পর গত মাসেই মলটি আবার খোলা হয়েছিল। একটি কাগজ কারখানাও ভেঙে পড়েছে, সেখানে বেশ কয়েকদিন ধরে তল্লাশি চলে। হাজার হাজার মানুষকে নিরাপদ জায়গায় সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সেখানে জল বা বিদ্যুৎ নেই। তার উপর গরমও বাড়ছে। তাই সরকার এয়ার কন্ডিশনারের ব্যবস্থা করেছে। প্রায় ৩০,০০০ বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন। এখন হিটস্ট্রোকের আশঙ্কা বাড়ছে। ভূমিকম্পে কুমামোতো দুর্গও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ২০১৬ সালেও দুর্গের অনেক অংশ ভেঙে গিয়েছিল। ভূমিকম্পের পর সুনামি সতর্কতা জারি করা হলেও পরে তা তুলে নেওয়া হয়।

ইউরোপে দাবানল

জাপানে যখন ভূমিকম্পের আতঙ্ক, তখন ইউরোপের বিভিন্ন দেশে দাবানল ছড়িয়ে পড়ছে। জুলাই মাসের মাঝামাঝি থেকে ফ্রান্স, স্পেন, পর্তুগাল এবং ক্রিটের মতো দেশে জঙ্গলে আগুন জ্বলছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউরোপে এত ভয়ঙ্কর দাবানল আগে কখনও দেখা যায়নি। সপ্তাহ শেষে ফ্রান্স ও স্পেনে আগুন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও গ্রিস ও ইতালিতে নতুন করে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই ইউরোপে বারবার এমন দাবানল হচ্ছে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।

'আগুনে মেঘ'

বিশেষজ্ঞরা এই আগুনকে পারমাণবিক অস্ত্রের মতো শক্তিশালী বলছেন। এমনকি এই আগুন থেকে 'ফায়ার ক্লাউড' বা 'আগুনে মেঘ' তৈরি হওয়ার কথাও জানা গেছে। বর্দো-সহ অনেক জায়গায় এমন মেঘ দেখা গেছে। দাবানলের প্রচণ্ড গরম হাওয়া যখন উপরের ঠান্ডা বাতাসের সংস্পর্শে আসে, তখন তা জমে গিয়ে বজ্রগর্ভ মেঘ তৈরি করে। এই মেঘ থেকে ঝড়, বৃষ্টি এবং বজ্রপাত হতে পারে। একেই 'আগুনে মেঘ' বলা হয়। এর আগে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা এবং আমেরিকায় এমন মেঘ দেখা গেছে। ইউরোপে এটা প্রথমবার কি না, তা নিয়ে গবেষণা চলছে। গ্রিসে তিনজন দমকলকর্মী মারা গেছেন। ফ্রান্সে ১,৬০,০০০ হেক্টর এলাকা পুড়ে ছাই হয়ে গেছে, যা একটি রেকর্ড। এবছর পরিস্থিতি এত ভয়াবহ হওয়ার কারণ বিশ্ব উষ্ণায়ন, এ নিয়ে কারও দ্বিমত নেই। ফ্রান্স ও স্পেনে শীতকালে বেশ বৃষ্টি হওয়ায় প্রচুর গাছপালা জন্মেছিল। এরপর আসে অস্বাভাবিক গরম। গরমে গাছপালা শুকিয়ে যায়, আর আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গেই তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

বাজারের দিকেও ছড়াচ্ছে আগুন...

এই আগুন পুরোপুরি নেভাতে কয়েক মাস সময় লাগবে। এর থেকে সৃষ্ট দূষণের কারণে প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে প্রায় ১,০০,০০০ মানুষের মৃত্যু হয়। এর আরও অনেক প্রভাব রয়েছে। শহরের কাছাকাছি আগুন লাগায় পর্যটন শিল্পকে ঘুরে দাঁড়াতে সময় লাগবে। ইউরোপের মানুষ এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহারে অভ্যস্ত না হলেও, এখন তারা এসি কিনছে। এর ফলে চিনা ব্র্যান্ডের এসি ইউরোপের বাজারে ছেয়ে যাচ্ছে। দেশীয় উৎপাদকদের বাঁচাতে কয়েকটি জায়গায় কর বসানোর হুমকিও দেওয়া হয়েছে, যা আরও একটি নতুন সমস্যা তৈরি করছে।

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: Asianet Bangla