CPM Mostafijur Rahaman: বিধানসভায় ফিরছে বাম। দীর্ঘ ৩৪ বছর রাজ্যের ক্ষমতায় থাকার পর, ২০১১ সালে পরাজয়। যদিও ২০১১ এবং ২০১৬ সালে, রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল হিসেবে থাকলেও ২০২১ সালে, বামেরা বিধানসভায় শূন্য হয়ে যায়। কিন্তু লড়াই ছাড়েননি লাল ঝান্ডার কর্মীরা। লাগাতার লড়াইয়ের পর, ২০২৬ সালে আবারও বিধানসভায় বিধায়ক পেল সিপিএম (mostafijur rahaman cpm)।
মোস্তাফিজুর রহমান রানা বলছেন, "একটাই কথা, মানুষের পাশে সবসময় থাকা। আমরা যখন গত নির্বাচনে পরাজিত হই, তারপর থেকেই এই নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছিল। পঞ্চায়েত নির্বাচনেও ভালো ফলাফল হয়। লোকসভা নির্বাচনেও আমরা গত বিধানসভার তুলনায় অনেকটা এগিয়ে ছিলাম। বুথ ভিত্তিক সংগঠন, মানুষের সঙ্গে থাকা, মানুষের সমস্যার কথা শোনা, পরিযায়ী শ্রমিকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা, আমি নিজেই কেরালা গেছিলাম তাদের সঙ্গে কথা বলতে পার্টির নির্দেশে এবং এই সবটা মিলিয়ে এই জয়। সেইসঙ্গে, গত ১৫ বছর ধরে তৃণমূল সরকারের আমলে ডোমকলের অনুন্নয়ন, এগুলো থেকেই মানুষ বুঝতে পারে যে, সিপিএম-কেই ডোমকোলে জেতাতে হবে। তাহলেই একমাত্র ডোমকোলের উন্নয়ন হবে। যেটা বাম আমলে হয়েছিল।"
"পুরো কৃতিত্বই ডোমকলের মানুষের," বললেন রানা
সিপিএম বিধায়ক জানালেন, " পাশাপাশি মানুষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ, ৩৬৫ দিন মানুষের পাশে থাকাটাও এই জয়ের ক্ষেত্রে ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে। এইরকম মেরুকরণের মধ্যেও ডোমকলের মানুষ বামপন্থীদের উপর ভরসা রেখেছে। সবথেকে বড় বিষয় হল, ডোমকলের সমস্ত ধর্মের মানুষ আমার পাশে থেকেছে। এখানে মুসলমান মানুষ বেশি বসবাস করেন। কিন্তু হিন্দু ধর্মেরও ৮৫%-এর বেশি মানুষ আমাদের পাশে থেকেছেন এবং সমর্থন করেছেন। যার ফলে, ডোমকল একটি ব্যাতিক্রমী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পুরো কৃতিত্বই ডোমকলের মানুষের। সবমিলিয়েই এই জয়।"
সামনে তো আরও অনেক চ্যালেঞ্জ, কীভাবে মোকাবিলা করবেন?
তাঁর কথায়, "মানুষ তৃণমূলের উপর প্রচণ্ড বিরক্ত ছিল। সঙ্গে তৃণমূলের চরম দুর্নীতি, বেকারদের কর্মসংস্থানের বিষয়, চাকরি চুরি, নেতা-মন্ত্রীদের জেল, এইসব মানুষ আর সহ্য করতে পারছিল না। যে কোনওভাবে এদের বিদায় করতে চাইছিল। আমরা এখানে সাংগঠনিকভাবে তৃণমূলের বিরুদ্ধে লাগাতার লড়াই করেছি। যার ফলে, মানুষকে বোঝাতে পেরেছি যে, ভাতার থেকেও মানুষের অনেক বেশি প্রয়োজন হল কর্মসংস্থান। মানুষ তাঁর নেতাকে সরাসরি কানেক্ট করতে চায়। যেন ২৪ ঘণ্টা সেই নেতাকে কাছে পায়। সেই ভরসাটাও এখানে দেওয়া গেছে। মানুষ মনে করেছে যে, রানাকে ভোটটা দেওয়া যায়। ঘরের ছেলে।"
রানার বক্তব্য, "আমরা সবসময় রাস্তায় থাকি। বামপন্থীদের কাছে প্রতিদিনই নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ। সেটাকে মোকাবিলা করেই এগোতে হচ্ছে। আগামীদিনেও আমরা লড়ব। আমাদের পার্টি অন্যান্য রাজ্যেও বিজেপির মোকাবিলা করছে। এখানেও সেইভাবে লড়াই চলবে। বিধানসভার ভিতরে ডোমকলের মানুষ এবং খেটে খাওয়া মানুষের কথা তুলে ধরব। নীতিগত এবং আদর্শগত লড়াইও চলতে থাকবে।"
Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: Asianet Bangla