India Weather: ভারতে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর অগ্রগতি আপাতত থমকে গিয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। ভারত মহাসাগরে সৃষ্ট একটি অস্বাভাবিক আবহাওয়াগত পরিস্থিতির কারণে বর্ষার অগ্রগতি বিলম্বিত লয়ে চলছে।
সাধারণত দেশে ১ জুন মাসের প্রথম দিকেই বর্ষার আগমণ হয়। কেরলম-সহ বিস্তীর্ণ উপকূলে ঝড়বৃষ্টি শুরু হয়ে যায়।
এবার আন্দামানে সঠিক সময় মৌসুমি বায়ু এলেও মূলভূখণ্ডে এখনও বর্ষা প্রবেশ করেনি। কিন্তু কেন? কবে দেশের মূল ভূখণ্ডে বর্ষা প্রবেশ করবে? ঘুরে ফিরে আসছে সেই প্রশ্ন। পাশাপাশি উঠছে বর্ষার এই বিলম্বিত নয় কেন?

মৌসম ভবনের পূর্বাভাস বর্ষার মরশুমের জন্য এখনও ভারতবাসীকে আরও কয়েকটি দিন অপেক্ষা করতে হবে। এবার ভারত মহাসাগরে এক অদ্ভূত পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার জন্যই থমকে রয়েছে মৌসুমি বায়ু।

ভারতে বর্ষার পরিস্থিতি তৈরি করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করে ভারত মহাসাগর। কিন্তু এবার ভারত মহাসাগরের বুকেই রয়েছে এক অস্বাভাবিক নিঃস্তব্ধতা। আর আবহাওয়া বিজ্ঞানীদের কথায় সেই কারণেই হাঠাৎ করেই থমকে গিয়েছে বর্ষা।

ভারত মহাসাগরে অস্বাভাবিক আচরণের কারণেই মৌসুমি বায়ুর গতি হঠাৎ করেই বাধা পেয়েছে। আর সেই কারণেই আকাশ কালো করে বর্ষার বৃষ্টি এখনও শুরু হয়নি কেরলমে। গোটা দেশ জুড়েই বিরাজ করছে অস্বস্তিকর আবহাওয়া।

বিজ্ঞানীদের কথায় মৌসুমি বায়ুর গতি পুরোপুরি রুদ্ধ হয়নি। আর সেই কারণেই ইতিউতি ফাঁকফোরক গলে ঢুকে পড়ছে মৌসুমি বায়ু। সেই কারণেই দেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিপাত হচ্ছে।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ভারত মহাসাগরের উষ্ণ জলরাশি বৃষ্টিবাহী মেঘ ও নিম্নচাপ বলয় তৈরিতে সহযোগিতা করে। যার পরিবর্তীতে উত্তর দিকে ভারতের মূল ভূখণ্ডের দিকে ধেয়ে আসে। কিন্তু এবার ভারত মহাসাগর সম্পূর্ণ নিস্ক্রিয় রয়েছে। সেখানে সম্পূর্ণ শান্ত পরিবেশ রয়েছে। যার কারণেই এখনও কেরলমে বৃষ্টি শুরু হয়নি।

তবে আশার আলো দেখিয়েছেন আবহাওয়া বিজ্ঞানীরা। তাঁরা জানিয়েছেন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে ভারতে বর্ষা শুরু হতে এখনও পর্যন্ত ৭২ ঘণ্টা লাগবে। তবে তার আগে দেশের কিছু কিছু এলাকায় প্রাক বর্ষার বৃষ্টি শুরু হয়ে যেতে পারে।

আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে ৭২ ঘণ্টার মধঅেই দেশের মূল ভূখণ্ড কেরলম ও তামিলনাড়ুর কিছু অংশ প্রবেশ করতে চলেছে মৌসুমি বায়ু। পাশাপাশি ৬ মে উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগরের কিছু এলাকাতেও পৌঁছে যাবে বর্ষা।

উত্তরবঙ্গে প্রাক বর্ষার বৃষ্টি শুরু হতে পারে আজ, মঙ্গলবার রাত বা সন্ধ্যে থেকেই। তবে দক্ষিণবঙ্গে এখনও গরমের অস্বস্তি বজায় থাকবে। বৃহস্পতিবারের আগে দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস নেই।

প্রশান্ত মহাসাগরে বিরাজমান 'এল নিনো' প্রায়শই বায়ুপ্রবাহের গতিপথ পরিবর্তন করে এবং বৃষ্টিপাতকে এই অঞ্চল থেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে ভারতীয় মৌসুমী বায়ুকে দুর্বল করে দেয়। ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তর (IMD) ইতিমধ্যেই পূর্বাভাস দিয়েছে যে, ২০২৬ সালের দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের মাত্র ৯০ শতাংশ নিয়ে আসবে।

