Dailyhunt Logo
  • Light mode
    Follow system
    Dark mode
    • Play Story
    • App Story
Jharkhand Protest: রাজনৈতিক আশ্রয় নয়, যুবকরা বিচার পাবে: আশ্বাস হেমন্ত সোরেনের

Jharkhand Protest: রাজনৈতিক আশ্রয় নয়, যুবকরা বিচার পাবে: আশ্বাস হেমন্ত সোরেনের

ঝাড়খণ্ডে সরকারি চাকরির পরীক্ষায় দুর্নীতির অভিযোগে পথে নেমেছেন JPSC (ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন) এবং JSSC (ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশন) পরীক্ষার্থীরা। এই বিক্ষোভের আবহে রবিবার মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন। তিনি পরীক্ষার্থীদের আশ্বাস দিয়ে বলেছেন, অধিকার বুঝে নেওয়ার জন্য তাঁদের কোনও রাজনৈতিক আশ্রয়ের প্রয়োজন নেই এবং স্বচ্ছতার সঙ্গেই বিচার হবে।

ঝাড়খণ্ড আদিবাসী মহোৎসব ২০২৬-এর একটি অনুষ্ঠানে ভাষণ দেওয়ার সময় সোরেন বলেন, যারা দুর্নীতির জন্য দায়ী, তাদের "কঠোরতম শাস্তি" দেওয়া হবে।

হেমন্ত সোরেনের বার্তা ছাত্রদের প্রতিবাদ নিয়ে

হেমন্ত সোরেন বলেন, "আমাদের যুবকরা নিজেদের অধিকারের জন্য আন্দোলন করছে। আমাদের সরকারের পদক্ষেপের কারণেই তারা আজ সামনে এসে প্রতিবাদ করার সাহস পেয়েছে। যুবকরা ন্য়ায় বিচার পাবে এবং যারা এই দুর্নীতির জন্য দায়ী, তাদের কঠোরতম শাস্তি হবে।" তিনি আরও বলেন, এই বিষয়টিকে রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার বা রাজনৈতিক আশ্রয় খোঁজার কোনও দরকার নেই। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, "কিছু মানুষের বিশাল রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা রয়েছে এবং এই উচ্চাকাঙ্ক্ষার সুযোগ নিয়েই রাজনৈতিক দলগুলো তরুণ প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করার রাস্তা খুঁজে নেয়। আমি বিশেষ করে যুবকদের বলব, তাদের আমাদের বা অন্য কোনও রাজনৈতিক দলের আশ্রয়ের প্রয়োজন নেই।"

ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, "যা আপনাদের প্রাপ্য, তা পাওয়া এবং ন্যায়বিচার পাওয়া আপনাদের অধিকার।" সোরেন সতর্ক করে বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো "সত্যি-মিথ্যে মিশিয়ে" যুবকদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে এবং তাদের এই বিষয়ে সতর্ক থাকতে অনুরোধ করেন। তাঁর মতে, "এই কাজটি খুব বড় আকারে চলছে, এমনকি অনেক জ্ঞানীগুণী ব্যক্তিরাও এর সঙ্গে যুক্ত।" সোরেন বলেন, তাঁর সরকারের ক্রমবর্ধমান শক্তি মেনে নিতে না পেরে অনেকেই পর্দার আড়াল থেকে ভুল তথ্য ছড়াচ্ছে এবং অন্যদের বিভ্রান্ত করছে। তিনি আরও বলেন, "আজ যখন এই প্রশাসন শক্তিশালী হচ্ছে, তখন অনেকেই তা মেনে নিতে পারছে না। তারা মুখ লুকিয়ে, ভোল বদলে বা পর্দার আড়াল থেকে ভুল তথ্য ছড়িয়ে অন্যদের বিভ্রান্ত করছে।"

মুখ্যমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, মানুষের সমস্যা সমাধানের পথ হল আলোচনা, বলপ্রয়োগ নয়। তাঁর কথায়, "সব সমস্যার সমাধান আলোচনায় হয়, লাঠি বা গুলিতে নয়। লাঠি-গুলি সীমান্তের জন্য, শত্রুদের জন্য। নিজের দেশের মানুষের ওপর, নিজের ঘরে বলপ্রয়োগ করে কোনও সমাধান হয় না।" তিনি যোগ করেন, "আপনাদের (যুবকদের) আবেগ এবং উদ্বেগ আমাদেরও উদ্বেগ। আজ এই সাংবিধানিক পদে থেকে আমি আপনাদের সম্পূর্ণ আশ্বাস দিচ্ছি যে স্বচ্ছতার সঙ্গে বিচার হবে এবং আমরা নিশ্চিত করব সেই বিচার যেন চোখে দেখা যায়।"

রাজ্যপালের বার্তা

ঝাড়খণ্ডের রাজ্যপাল সন্তোষ কুমার গাঙ্গোয়ারও JPSC-JSSC পরীক্ষার্থীদের আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের আবেদন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন ছাত্রদের সমস্যা নিয়ে "খুবই উদ্বিগ্ন"। গাঙ্গোয়ার বলেন, "আমাদের ছাত্ররা যে আন্দোলন করছে, সে বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন ইতিমধ্যেই বিস্তারিতভাবে কিছু বিষয় ব্যাখ্যা করেছেন। আমি সবাইকে অনুরোধ করছি, মুখ্যমন্ত্রী যা বলেছেন তাতে বিশ্বাস রাখুন।" তিনি আরও জানান, মুখ্যমন্ত্রী সমাধানের জন্য ক্রমাগত আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। রাজ্যপাল বলেন, "আমরা আমাদের ছেলেমেয়েদের ভবিষ্যৎ নিয়ে খেলা করতে চাই না। আলোচনার মাধ্যমে এর সমাধান করুন। মুখ্যমন্ত্রী এ নিয়ে খুবই উদ্বিগ্ন এবং কীভাবে ছেলেমেয়েদের সমস্যার সমাধান করা যায়, তা নিয়ে আমাদের সঙ্গে ক্রমাগত আলোচনা করছেন... আমরা আলোচনার পরেই একটি সমাধানে পৌঁছব। ছাত্ররা যখনই মনে করবে, আমার বা মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে পারে।"

আলোচনা শুরু

রবিবার রাঁচিতে রাজ্য গেস্ট হাউসে ঝাড়খণ্ড সরকার এবং JPSC-JSSC সংস্কার মঞ্চের আট সদস্যের প্রতিনিধি দলের মধ্যে নতুন করে আলোচনার পরেই এই মন্তব্যগুলি সামনে আসে। প্রতিনিধি দলটি ঝাড়খণ্ডের মন্ত্রী দীপিকা পাণ্ডে সিং, সুদিব্য কুমার, চামরা লিন্ডা এবং সঞ্জয় যাদবের সঙ্গে দেখা করে। ছাত্র সংগঠনটি আশা প্রকাশ করেছে যে, ভবিষ্যতের আশ্বাস না দিয়ে আলোচনার মাধ্যমে তাদের দাবি মেটাতে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। গত ৫ জুলাই ১৪তম JPSC সিভিল সার্ভিসেস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফল ঘোষণার পর থেকেই এই বিক্ষোভ শুরু হয়। পরীক্ষার্থীরা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তোলেন। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির দাবিতে ছাত্ররা তখন থেকেই লাগাতার ধর্না ও বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছে। পরীক্ষার্থীরা এই দুর্নীতির সিবিআই তদন্তেরও দাবি জানিয়েছেন। এর আগে দু'পক্ষের বৈঠকের পর মন্ত্রী সনু ঘোষণা করেছিলেন যে, নীতি সংস্কারের জন্য ছাত্র ও সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে পরামর্শ সংগ্রহের জন্য রাজ্য সরকার একটি বিশেষ ইমেল আইডি চালু করেছে।

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: Asianet Bangla