Madhya Pradesh New Born Died: কাফ সিরাপে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় এবার আতসকাঁচের তলায় চিকিৎসক। মধ্যপ্রদেশে গ্রেফতার ডাক্তার। বিশদে জানতে পড়ুন সম্পূর্ণ প্রতিবেদন…

মধ্যপ্রদেশে মোট ১০ জন সদ্যোজাত শিশু মৃত্যুর ঘটনায় এবার গ্রেফতার ডাক্তার। পুলিশ সূত্রে খবর, কাফ সিরাপ খাওয়ার পরই মধ্যপ্রদেশে চিন্দওয়ারা জেলায় ১০ জন শিশুর মৃত্যুর ঘটনাটি সামনে আসে।
তারপর ঘটনার তদন্তে নেমে ওই জেলার এক শিশু বিশেষজ্ঞ প্রবীণ সোনি নামের চিকিৎসককে গ্রেফতার করে পুলিশ। অভিযোগ, প্রবীণ সোনিই প্রেসক্রিপশনে কাফ সিরাপের কথা লিখে দিয়েছিল।

জানা গিয়েছে, আগেই শিশু মৃত্যুর খবরে ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছিল পুলিশ। সূত্রের খবর, কোল্ড্রিফ (Coldrif) সিরাপ প্রস্তুতকারক সংস্থা শ্রেসুন ফার্মাসিউটিক্যালস-এর অপারেটর এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ডাঃ সোনি-এর বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) দায়ের করে পুলিশ। পরাসিয়া কমিউনিটি হেলথ সেন্টারের ব্লক মেডিকেল অফিসার অঙ্কিত সাহসলাম-এর অভিযোগের ভিত্তিতে এই মামলা রুজু করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে মামলাটি ড্রাগস অ্যান্ড কসমেটিকস অ্যাক্টের ২৭(এ) ধারা এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর ১০৫ ও ২৭৬ ধারায় নথিভুক্ত করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
তদন্তে জানা গিয়েছে, অসুস্থ শিশুদের বেশিরভাগকেই ডাঃ সোনি 'কোল্ড্রিফ' (Coldrif) নামের কাশির সিরাপটি প্রেসক্রাইব করেছিলেন। শুক্রবার প্রকাশিত একটি ল্যাবরেটরি রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছেসিরাপটিতে ৪৮.৬ শতাংশ পরিমাণে ডাই-এথিলিন গ্লাইকল (Diethylene Glycol - DEG) নামের বিষাক্ত রাসায়নিক পাওয়া গিয়েছে। এই বিষাক্ত রাসায়নিকটি সেবন করলে কিডনি বিকল এবং মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, 'ডিইজি' হল একটি শিল্পজাত রাসায়নিক যা মানুষের ব্যবহারের জন্য একেবারেই নিরাপদ নয়। এর উচ্চ মাত্রার উপস্থিতি শিশুদের মধ্যে মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনে।

মধ্যপ্রদেশের ছিঁদওয়াড়ায় ১০ শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় অবশেষে রাজ্য সরকারের তরফে বিষাক্ত রাসায়নিকযুক্ত 'কোল্ড্রিফ' (Coldrif) কাশির সিরাপ বিক্রি শনিবার থেকেই নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। যে ব্যাচের সিরাপ সেবন করে শিশুরা মারা গিয়েছিল, সেই একই ব্যাচের নমুনা পরীক্ষা করার পর তাতে বিষাক্ত পদার্থের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গিয়েছে। এর পরই সরকার দ্রুত এই ব্যবস্থা নিয়েছে।

এদিকে একসঙ্গে ১০ জন শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বিগ্ন মধ্যপ্রদেশ রাজ্য সরকার। সরকারি আধিকারিকেরা জানিয়েছেন, এই ঘটনার জন্য দায়ী উৎপাদনকারী সংস্থা এবং তাদের অন্যান্য পণ্যের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি, রাজ্য সরকার গোটা বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। এই প্রাণহানির ঘটনা কেন ঘটল, তার গভীরে গিয়ে কারণ অনুসন্ধানের চেষ্টা চলছে বলে জানা গিয়েছে।

