লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে পুরুষ এবং ভুয়ো সুবিধাভোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সুবিধাভোগীদের তালিকায় একাধিক অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ সামনে আসায় তদন্তের দাবি জোরদার হয়েছে।
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে সবথেকে জনপ্রিয় প্রকল্পগুলির মধ্যে একটি ছিল লক্ষ্মীর ভাণ্ডার।
এই প্রকল্প মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় বা তৃণমূল কংগ্রেস শাসনের ট্রেডমার্কও ছিল। কিন্তু মমতার জমানা চলে যাওয়ার পরেই এই প্রকল্প বন্ধ হতে বসেছে। শুধু তাই নয়, সামনে এসেছে একের পর এক দুর্নীতি।

মুখ্যমন্ত্রী হয়েই শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুরে এমন কেস পাওয়া যাবে যেখানে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের প্রাপক আদতে পুরুষ। তিনি জেলায় জেলায় ভুয়ো উপভোক্তাদের খুঁজে বার করার ওপর জোর দেন। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার আগেই শুভেন্দু বলেছিলেন রাজ্যে ভুয়ো ও অববৈধভাবে যারা সরকারি প্রকল্পের সুবিধে পাচ্চেন তাদের নাম বাতিল করা হবে।

সরকারে আসার পরই শুভেন্দু অধিকারী ভুয়ো ও জাল সরকারি প্রকল্পের সুবিধে প্রাপকদের খুঁজতে শুরু করেন। তাতেই সামনে এসছে একের পর এক পুরুষ লক্ষ্মী। অর্থাৎ পুরুষ হয়েও মহিলাদের জন্য চালু হওয়া প্রকল্পের ভাতা নিতেন। এটি সম্পূর্ণ বেআইনি।

মঙ্গলবার পর্যন্ত নদিয়ার একটি মাত্র ব্লকেই শুধুমাত্র ১৭৩ জন লক্ষ্মী'ছেলে'র সন্ধান পাওয়া গেল। যারা গত জমানা থেকেই মহিলাদের জন্য চালু হওয়া লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের সুবিধে পাচ্ছেন।

নদিয়া জেলা প্রশাসন সূত্রের খবর, কৃষ্ণনগর ২ নম্বর ব্লাকে কমপক্ষে ১৭৩ জন পুরুষ মানুষের সন্ধান পাওয়া গেছে যারা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের সুবিধে পাচ্ছিলেন।

নদিয়া জেলা প্রশাসন সূত্রের খবর, চলতি বছর ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই এই ব্যক্তিদের নাম উঠিছিল লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের খাতায়। অর্থাৎ নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়েই তারা টানা ২ মাস লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা নিজেদের গ্যাঁটে পুরেছিলেন।

বিধানসভা ভোটের আগে, মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের সরকার যখন অন্তর্বর্তী বাজেটে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের টাকা বাড়িয়েছিলেন সেই সময় থেকেই এদের নাম উঠেছে। বর্তমান প্রশাসন এরজন্য পূর্বতন তৃণমূল কংগ্রেস সরকারকেই দায়ী করছেন।

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের ঝাঁড়াইবাছাই শুরু হয়েছে শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরে। বিজেপি সরকার জনমুখী প্রকল্পগুলির ঝাড়াইবাছাই করতে শুরু করেছে। তাতেই সামনে আসছে একের পর এর পুরুষ লক্ষ্মীর কথা।

মালদায় সামনে এসেছে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের দুর্নীতি। হরিশ্চন্দ্রপুরের বাসিন্দা নুন নাহার ২০২১ সালে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের জন্য আবেদন করেছিলেন। অভিযোগ, তিনি কোনও দিনই প্রকল্পের টাকা পাননি। তবে ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট বলছে অন্য কথা।

ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট অনুযায়ী ২০২১-২৬ সাল নিয়মিত লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের টাকা নুন নাহারের পরিবর্তে জমা পড়েছে গ্রামেরই প্রাইভেট টিউটর গোলাম মর্তুজার অ্যাকাউন্টে। তবে গোলাম বিষয়টি চেপে গেলেন কেন? তা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন।

