সাধারণত ৩৫ বছরের পর গর্ভধারণকে 'লেট প্রেগন্যান্সি' বলা হয়। আজকাল নানা কারণে সন্তানধারণে দেরি হচ্ছে, এমন দম্পতির সংখ্যা বাড়ছে। এর পেছনের প্রধান কারণগুলো কী কী?
সাধারণত ৩৫ বছরের পর গর্ভধারণকে চিকিৎসকরা 'লেট প্রেগন্যান্সি' বলেন। আজকাল জীবনযাত্রা এবং অন্যান্য অনেক কারণে বহু মহিলারই সন্তানধারণে দেরি হচ্ছে।
অতিরিক্ত ওজন বা ওবেসিটি এবং ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স সন্তানধারণের ক্ষমতাকে সরাসরি প্রভাবিত করে। বাড়তি ওজন হরমোনের ভারসাম্য বিগড়ে দেয়, যা ওভিউলেশন (ডিম্বস্ফোটন) এবং ডিম্বাণুর মান খারাপ করে দেয়। পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (PCOS) থাকা মহিলাদের মধ্যে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়।
শুধু বেশি ওজনই নয়, বন্ধ্যত্বের জন্য কম ওজনও দায়ী হতে পারে। কঠোর ডায়েট, অতিরিক্ত ব্যায়াম বা শরীরের ওজন হঠাৎ কমে গেলে ওভিউলেশন ব্যাহত হয়।এর ফলে ঋতুচক্র অনিয়মিত হয়ে পড়ে এবং গর্ভধারণ করা কঠিন হয়ে যায়।
আজকের ব্যস্ত জীবনে দীর্ঘক্ষণ কাজ, শিফটের ডিউটি, বসে থাকা এবং মানসিক চাপ খুবই সাধারণ ব্যাপার। একটানা স্ট্রেস ও অপর্যাপ্ত ঘুম হরমোনের ওপর খারাপ প্রভাব ফেলে, যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সন্তানধারণের ক্ষমতা কমিয়ে দেয়।
আজকাল তরুণীদের মধ্যে ধূমপান, মদ্যপান এবং তামাক সেবনের প্রবণতা বাড়ছে। এই বদভ্যাসগুলি ডিম্বাণুর গুণমান নষ্ট করে, ওভারিয়ান রিজার্ভ (ডিম্বাণুর ভাণ্ডার) কমায় এবং বন্ধ্যত্বের ঝুঁকি অনেকটাই বাড়িয়ে তোলে।
বায়ু দূষণ, কীটনাশক, বিপিএ, থ্যালেটস এবং মাইক্রোপ্লাস্টিকের মতো ক্ষতিকর উপাদানের সংস্পর্শে আমরা রোজই আসছি। গবেষণা বলছে, এই রাসায়নিকগুলি আমাদের শরীরে হরমোনের স্বাভাবিক কাজে বাধা দেয় এবং প্রজনন ক্ষমতাকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে।
ভারতে মহিলাদের মধ্যে পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম বা PCOS খুব সাধারণ একটি সমস্যা। এটি একটি হরমোনজনিত রোগ, যার ফলে ডিম্বস্ফোটন বা ওভিউলেশন অনিয়মিত হয়।নিয়মিত ওভিউলেশন না হলে স্বাভাবিকভাবে গর্ভধারণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
এই রোগে জরায়ুর ভেতরের লাইনিং বা টিস্যু জরায়ুর বাইরেও বাড়তে শুরু করে। এর ফলে তলপেটে তীব্র ব্যথা ও প্রদাহ হয়। সঠিক সময়ে চিকিৎসা না হলে এটি প্রজনন অঙ্গের ক্ষতি করে এবং সন্তানধারণের ক্ষমতা অনেকটাই কমিয়ে দেয়।
থাইরয়েডের সমস্যা, অটোইমিউন রোগ এবং অন্যান্য মেটাবলিক কন্ডিশন ওভিউলেশন ও ভ্রূণ প্রতিস্থাপনে (ইমপ্ল্যান্টেশন) বাধা দিতে পারে। তাই সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা করার আগে এই ধরনের শারীরিক সমস্যার সঠিক চিকিৎসা করানো অত্যন্ত জরুরি।
