Dailyhunt Logo
  • Light mode
    Follow system
    Dark mode
    • Play Story
    • App Story
Mahakal Temple: বুদ্ধ পূর্ণিমার ভোরে 'ভস্ম আরতি' চলছিল, মাটি সরাতেই বেরিয়ে এল শিবলিঙ্গ

Mahakal Temple: বুদ্ধ পূর্ণিমার ভোরে 'ভস্ম আরতি' চলছিল, মাটি সরাতেই বেরিয়ে এল শিবলিঙ্গ

হাকাল মন্দির চত্বরের ভেতরে একটি সুড়ঙ্গ নির্মাণের খননকাজ চলাকালীন একটি প্রাচীন শিবলিঙ্গ আবিষ্কৃত হয়েছে, যা প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে প্রায় ১,০০০ বছরের পুরনো। বুদ্ধ পূর্ণিমার ভোরে মহাকাল মন্দিরে 'ভস্ম আরতি' চলাকালীন এই আবিষ্কারটি ঘটে। সুড়ঙ্গ নির্মাণের কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা খননকাজের সময় মাটির নীচে এই শিবলিঙ্গটি খুঁজে পান।

তাৎক্ষণিকভাবে মহাকাল মন্দির কমিটি এবং মন্দিরের পুরোহিতদের বিষয়টি জানানো হয়।

খবর পেয়েই মন্দিরের পুরোহিত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং শাস্ত্রীয় বিধি মেনে পুজো-অর্চনা সম্পন্ন করেন। আপাতত শিবলিঙ্গটি ঘটনাস্থলেই সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে। শিবলিঙ্গটি দর্শনের জন্য সেখানে ভক্তদের ভিড় জমে ওঠে। ভক্তরা জল, ফুল এবং বেলপাতা নিবেদন করে শিবলিঙ্গটির পুজো করেন। প্রত্নতাত্ত্বিক ড. রমন সোলাঙ্কির মতে, এই শিবলিঙ্গটি সম্ভবত 'পরমার' যুগের নিদর্শন। এর গঠনশৈলী এবং খোদিত প্রতীকগুলো দেখে মনে হচ্ছে এটি একাদশ শতাব্দীর সৃষ্টি। শিবলিঙ্গটির গায়ে ব্রাহ্মী লিপির সদৃশ কিছু প্রাচীন অক্ষরও দৃশ্যমান। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা এবং বিশদ গবেষণার পরেই এটি সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।

মহাকাল মন্দিরের পুরোহিত গোপাল শর্মা জানান যে, সুপ্রাচীন কাল থেকেই 'অবন্তিকা' (উজ্জয়িনী) নগরী দেবাদিদেব মহাদেবের লীলাক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত। এখানে পদে পদে শিবলিঙ্গ খুঁজে পাওয়া কোনও নতুন ঘটনা নয়। ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে উজ্জয়িনীতে একাধিকবার ধূলিঝড় বা প্রবল ঝড়-ঝাপ্টা আঘাত হেনেছে, যার ফলে অনেক প্রাচীন মন্দির ও শিবলিঙ্গ মাটির নীচে চাপা পড়ে থাকতে পারে। তাই উন্নয়নমূলক কাজের সময় এ ধরনের প্রাচীন নিদর্শন খুঁজে পাওয়াকে অত্যন্ত শুভ লক্ষণ হিসেবে গণ্য করা হয়।

সুড়ঙ্গ নির্মাণের তত্ত্বাবধানে থাকা সাইট ইঞ্জিনিয়ার স্বর্ণ মহাজনও এই ঘটনাটিকে একটি অলৌকিক ব্যাপার হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান যে, গত এক মাস ধরে খননকাজ চলছিল। কিন্তু ঠিক বুদ্ধ পূর্ণিমা এবং ভস্ম আরতির শুভলগ্নে শিবলিঙ্গটি খুঁজে পাওয়া সত্যিই এক বিশেষ ঘটনা। আসন্ন 'সিংহস্থ কুম্ভমেলা' উৎসবকে সামনে রেখেই এই সুড়ঙ্গটি নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রাচীনকাল থেকেই উজ্জয়িনী ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক এবং আধ্যাত্মিক কর্মকাণ্ডের একটি অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে সুপরিচিত। শিপ্রা নদীর তীরে অবস্থিত এই নগরীতে ছোট-বড় ​​মিলিয়ে সহস্রাধিক মন্দির রয়েছে। সনাতন ঐতিহ্যের প্রচার ও প্রসারের লক্ষ্যে বিভিন্ন রাজবংশ এবং শাসকরা এখানে অসংখ্য মন্দির নির্মাণ করেছিলেন। মহাকাল মন্দির চত্বরের ভেতরে এই শিবলিঙ্গটির আবিষ্কার আবারও উজ্জয়িনীর প্রাচীন ঐতিহ্য এবং আধ্যাত্মিক গৌরবকে নতুন করে জাগিয়ে তুলেছে। ভক্তদের কাছে এটি কেবল একটি প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কারই নয়, বরং বিশ্বাসের এক প্রকৃত মূর্ত রূপ।

Dailyhunt
Disclaimer: This content has not been generated, created or edited by Dailyhunt. Publisher: Asianet Bangla