তৃণমূল কংগ্রেসে ভাঙন এবং বিদ্রোহী সাংসদ-বিধায়কদের ভূমিকা নিয়ে মুখ খুললেন ভোটকুশলী তথা জন সূর্য পার্টির প্রধান প্রশান্ত কিশোর। সায়নী ঘোষ, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও অরূপ রায়কে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে তিনি
বিধানসভা নির্বাচনে হারার পর থেকেই বিপর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেস। ভেঙে খান খান হচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস।
এই অবস্থায় মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় ও তাঁর তৈরি তৃণমূল কংগ্রেসের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রশান্ত কিশোর। একটা সময় প্রশান্ত কিশোরও মমতার সঙ্গে কাজ করছেন। তিনি দীর্ঘদিন তৃণমূলের ভোট কুশলী ছিলেন।

প্রশান্ত কিশোর তৃণমূল ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় বার্তা দিয়েছেন। সম্প্রতি একটি সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমকে ইন্টারভিউ দিতে গিয়েই তিনি তৃণমূলের ভবিষ্যৎ-সহ ভাঙন নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। পাশাপাশি বিক্ষুব্ধ সাংসদ আর বিধায়কদের নিয়েও তীব্র প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন। তুলোধনা করেছেন সায়নী ঘোষ আর ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের।

প্রশ্ন করা হয়েছিল কেন এত নেতা মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের সঙ্গ ছাড়ছেন? এই প্রসঙ্গেই সায়নী ঘোষের কথা ওঠে। সঞ্চালক তাঁকে প্রশ্ন করেছিলেন, মমতার মত শাড়ি পরতেন সায়নী ঘোষ, হাওয়াই চটিও পরতে শুরু করেছিলেন। তারপরেও তেন সায়নী মমতার সঙ্গ ছাড়লেন। এরই উত্তরে প্রশান্ত কিশোর বলেন, 'বাংলার সিনেমা জগৎ থেকে তুলে এনে সায়নী ঘোষকে ২০২১ সালে তৃণমূল বিধানসভা ভোটে প্রার্থী করেছিল। তিনি তখন পরাজিত হন। আমি ওই সময় তৃণমূলের সঙ্গে ছিলাম। এর পর দল ওনাকে যুব তৃণমূলের সভাপতি করে। উনি ৫ বছর পরিশ্রম করলেন। লোকসভা ভোটে জিতলেন। কিন্তু ওই ভোটটা সায়নী ঘোষকে দেখে মানুষ দেয়নি। ভোটটা পেয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। এত বড় বড় নেতা যাঁদের বলছেন, তাঁদের দম থাকলে নির্দল হিসেবে ভোটে লড়ুন না।'

প্রশান্ত কিশোর শুধু সায়নী ঘোষকেই আক্রমণ করেননি। তিনি বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্য়ায় অরূপ রায়দেরও তুলোধনা করেন। তিনি বলেন, 'মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একশোটা খারাপ দিক থাকতে পারে। কিন্তু তৃণমূল দলটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের রক্ত, ঘাম দিয়ে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো চুনোপুঁটি নেতা সেই দল কেড়ে নিতে পারবেন না। ঋতব্রতর সঙ্গে আমিও কাজ করেছি। ঋতব্রত কত বড় নেতা, তাঁর জনপ্রিয়তা কতটা সেই তর্কে আমি যাচ্ছি না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামনে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় কত বড় মাপের নেতা?'

প্রশান্ত কিশোর আরও বলেন, অরূপ রায় নতুন তৃণমূলের চেয়ারম্যান। তিনি হাওড়ার বিধায়ক। অরূপ রায়কে বাংলার কতজন মানুষ চেনেন? এই প্রশ্ন তুলে প্রশান্ত কিশোর বলেন, 'অরূপ রায় কি তাহলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মাপের নেতা হয়ে গেলেন? অরূপ রায় কি তাহলে মমতার মাপের নেতা হয়ে গেলেন?'

প্রশান্ত কিশোর বলেন,' দিদি পরাজিত হয়েছেন, বলে বিজেপি নেতৃত্ব তাঁর দল ভাঙছে। তাঁকে হয়রান করার চেষ্টা করছেন। এসব ঠিক আছে। কিন্তু মানুষের এটা ভোলা উচিৎ নয় যে আজকের দিনেও দিদি আড়াইকোটি ভোট পেয়েছেন। ' তিনি আরও বলেছেন, বিধায়ক সাংসদরা কোথায় গেলেন, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের কোনও মাথাব্যাথা নেই।

প্রশান্ত কিশোর বলেন, 'আমি যেটুকু রাজনীতি বুঝি, যতদিন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে দিদি বাংলায় আছেন, তাঁর সেই উপস্থিতির কোনও বিকল্প হয় না। যাঁরা বলছেন তৃণমূল শেষ তাঁরা বড় ভুল করছেন। কোনও রাজনৈতিক দল একদিনে তৈরিও হয় না, শেষও হয়ে যায় না।'

