AK Bangla 24×7 Digital: প্রশাসনিক ব্যস্ততার মাঝেই আচমকা নিজের কর্মসূচিতে পরিবর্তন এনে বুধবার দুপুরে ওয়াটগঞ্জ ও ইকবালপুর থানায় সারপ্রাইজ পরিদর্শনে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র দফতরের দায়িত্বও তাঁর হাতে থাকায় পুলিশি পরিকাঠামো ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে এই আকস্মিক সফর বলে প্রশাসনিক সূত্রের দাবি।
বুধবার সকালে সরকারি বৈঠকে অংশ নেওয়ার পর দুপুর প্রায় ১টা ১৫ মিনিট নাগাদ কোনও পূর্বঘোষণা ছাড়াই মুখ্যমন্ত্রী প্রথমে পৌঁছন ওয়াটগঞ্জ থানায়। তাঁর আগমনের খবর আগে থেকে থানার কর্তাদের কাছেও ছিল না। থানায় ঢুকেই তিনি 'মহিলা সহায়তা ডেস্ক'-এ যান এবং কর্তব্যরত মহিলা পুলিশ কর্মীর সঙ্গে কথা বলেন। অভিযোগ গ্রহণের পদ্ধতি, অভিযোগের সংখ্যা এবং পরিষেবা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে খোঁজ নেন। পাশাপাশি থানায় কর্মরত অন্যান্য পুলিশ কর্মীদের সঙ্গেও কথা বলে তাঁদের সুবিধা-অসুবিধার কথা শোনেন।এরপর থানার অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, নিরাপত্তা সরঞ্জাম এবং অন্যান্য পরিকাঠামো ঘুরে দেখেন মুখ্যমন্ত্রী। অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্রগুলির কার্যকারিতা ও মেয়াদও তিনি পরীক্ষা করেন।
পরে বন্দিদের রাখার লকাপ পরিদর্শন করে সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা করেন। প্রায় পাঁচ মিনিট ধরে ওয়াটগঞ্জ থানায় অবস্থান করার পর তিনি রওনা দেন ইকবালপুর থানার উদ্দেশে।ইকবালপুর থানাতেও একইভাবে মহিলা হেল্প ডেস্ক, থানার বিভিন্ন বিভাগ এবং লকাপ পরিদর্শন করেন মুখ্যমন্ত্রী। থানার আধিকারিকদের কাছে গত ২৪ ঘণ্টায় জমা পড়া অভিযোগের সংখ্যা, অভিযোগগুলির নিষ্পত্তির অগ্রগতি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত রিপোর্ট চান তিনি।নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই পুলিশ প্রশাসনের আধুনিকীকরণ, পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং কর্মীদের মনোবল বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আসছেন মুখ্যমন্ত্রী। এর আগে তিনি ভবানী ভবন ও ব্যারাকপুর পুলিশ ট্রেনিং স্কুল পরিদর্শন করেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় এবার থানা পর্যায়ে সরাসরি পরিকাঠামো ও পরিষেবার মান যাচাই করলেন তিনি।
নারী নিরাপত্তা নিয়েও সরকারের 'জিরো টলারেন্স' নীতির কথা ফের স্পষ্ট করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। পুলিশকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়ার পাশাপাশি উন্নত পরিকাঠামো গড়ে তুলতে সরকারের সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই আকস্মিক থানা পরিদর্শন প্রশাসনিক তৎপরতারই প্রতিফলন। আবার পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, ওয়াটগঞ্জ ও ইকবালপুর—উভয় থানাই সংবেদনশীল এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ এবং পুলিশ প্রশাসনকে আরও সক্রিয় রাখার বার্তাই এই সফরের মূল উদ্দেশ্য। মুখ্যমন্ত্রীর এই সারপ্রাইজ ভিজিট রাজ্য পুলিশের কাছে দায়িত্বশীল ও তৎপর প্রশাসনের একটি স্পষ্ট বার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

