AK Bangla 24×7 Digital: বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দীর্ঘ দুই বছর পর প্রথমবার প্রকাশ্যে ভার্চুয়ালি আত্মপ্রকাশ করে দেশে ফেরার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। দিল্লির 'ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অফ সাউথ এশিয়া' আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, মিথ্যে মামলা বা জেল-জুলুমের ভয় দেখিয়ে তাঁকে আটকে রাখা যাবে না।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশে সংঘটিত ঘটনাবলিকে 'সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র' হিসেবে উল্লেখ করে মুজিবকন্যা দাবি করেন, দেশকে পুনরায় সঠিক পথে চালিত করতেই তিনি জন্মভূমিতে ফিরে আসতে চান।
নিজের সরকারের পতনের প্রেক্ষাপট বর্ণনা করতে গিয়ে হাসিনা বলেন, তথাকথিত ছাত্র আন্দোলন কোনো শান্তিপূর্ণ আন্দোলন ছিল না। শুরুতে শিক্ষার্থীদের কোটা সংক্রান্ত দাবি বিবেচনা করে তা বাতিল করা হয়েছিল এবং একাধিক মন্ত্রীকে নিয়ে আলোচনার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু একটি সুসংগঠিত গোষ্ঠী মূল দাবিকে হিংসাত্মক রূপ দেয় এবং মিথ্যা অপপ্রচারের মাধ্যমে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করে তোলে। ১৯৭১ সালের ৩০ লক্ষ শহীদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি আফসোস প্রকাশ করে বলেন, গত দু'বছরে বাংলাদেশ এক চরম ভীতিজনক ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছে।
বর্তমানে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে ফাঁসির আদেশ ঝুললেও, দেশে ফিরে আইনি প্রক্রিয়া মুখোমুখি হতে বা আত্মসমর্পণেও রাজি বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। যদিও বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের আইনজীবীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, দেশে পা রাখলেই তাঁকে সোজা কারাগারে পাঠানো হবে। তা সত্ত্বেও ১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমানের আমলের প্রতিবন্ধকতার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা জানান, সব বিপদ ও প্রাণনাশের ঝুঁকি উপেক্ষা করেই তিনি দেশের মানুষের স্বার্থে বাংলাদেশে ফিরবেন।

